ঢাকা | 20 September 2026

সকল দুঃশাসনের বিরুদ্বে লড়াই হবে--- ডা. শফিকুর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Sep 20, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ১১ দলীয় জোটের ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস সড়কের নগরজলফৈ মোড়ে আয়োজিত পথসভায় মঞ্চে উপবিষ্ট অতিথিবৃন্দ। ইনসেটে বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ছবির ক্যাপশন: ১১ দলীয় জোটের ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস সড়কের নগরজলফৈ মোড়ে আয়োজিত পথসভায় মঞ্চে উপবিষ্ট অতিথিবৃন্দ। ইনসেটে বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
ad728
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সকল দুঃশাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি, এ লড়াই আপনারা থাকবেন। এ লড়াই কার জন্য? জনগণের জন্য। ১৮কোটি মানুষের জন্য। সেই লড়াইয়ের আওয়াজ নিয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি। ইনশাল্লাহ। তিনি শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ১১ দলীয় জোটের ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চে অংশ নিয়ে টাঙ্গাইলে আয়োজিত পথসভায় একথা বলেন। শহর বাইপাস সড়কের নগরজলফৈ মোড়ে দুপুর ১২টার দিকে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের ছয় দফা আট দফায় পরিণত হয়েছে। জনগণের প্রয়োজনে দফা বাড়তে পারে। আবার জনগণের প্রয়োজনে সকল দফা বিলুপ্ত করে এক দফা ঘোষণা করার প্রয়োজন হতে পারে। আপনারা প্রস্তুত আছেন। আজকের লংমার্চ আপনাদের দিকে। আগামীর লংমার্চ এখান থেকে ঢাকার দিকে। প্রস্তুত থাকবেন ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন আমাদেন প্রথম লংমার্চ ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের লালদিঘী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। রাস্তায় লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল। নারী পুরুষ নির্বিশেষে এ মানুষ আমাদের লংমার্চের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করেছিলো। তারপর থেকেই স্বৈরশাসনের পথে হাটা এই সরকার তাদের জ্বালাপোড়া শুরু হলো। বিভিন্ন কথা বলতে শুরু করলো। বললো বিরোধী দল কেন এখন লংমার্চ করতে যাচ্ছে। আমরা প্রশ্ন করি আপনারা কেন জনগণকে অপমান করতে গেলেন। ৭০ ভাগ মানুষের ভোটের রায়কে কেন আপনারা সম্নান করলেন না। কেন যে ১৪শ মানুষের জীবন এবং রক্তের উপর দিয়ে আপনারা ক্ষমতার মসনদে বসলেন। কেন তাদের সাথে আপনার বেঈমানি করলেন। কেন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেননি। আপনারা কথা দিয়েছিলেন, কোন জায়গায় অনির্বাচিত কাউকে দিয়ে শাসন করতে দেওয়া হবে না। জাগায় জাগায় আপনারা প্রশাসক বসিয়েছেন। আপনারা জাতির সাথে ধোকাবাজি করেছেন। আপনার জাতির সাথে দেওয়া একটি কথাও রক্ষা করেননি। এই জাতি আপনাদের কাছে এই কার্ড সেই কার্ড এগুলা চায়নাই। এই কার্ডগুলার কথা আপনারা বলেছিলেন জাতিকে দেবেন। জাতি যা চেয়েছিলো তা আপনারা দিতে পারেননাই। শফিকুর রহমান সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, টাঙ্গাইলে নিশ্চয়ই আপনারা ২৪ ঘন্টা কারেন্ট পান, বিদ্যুৎ সরবরাহ পান ২৪ ঘন্টা। চুলায় গ্যাস জ্বলে। জনগণ উত্তর দেন না। যে জাগায় পাইপ লাইন নাই গ্যাসের। সেখানে এলপিজি কিনে আমাদের চুলা জ্বালাতে হয় সেই ৭শ টাকার এলপিজি এখন ২২শ টাকায় কিনতে হয়। আমরা নেমেছি এই অধিকারগুলো আদায় করার জন্য। তিনি আবার প্রশ্ন করেন, টাঙ্গাইলে চাঁদাবাজি হয়না, কোন দুর্নীতি হয়না, কোন সন্ত্রাস নাই, মানুষের জীবন ও সম্নান নিয়ে টানাটানি হয়না। জনগণ উত্তর দেন হয়। সবগুলোই যখন হয় তখন এই নিয়েই আমরা বাঁচবো নাকি এটার পরিবর্তন হবে। লড়াই হবে, লড়াই হবে, লড়াই হবে। সকল দুঃশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই হবে।

পথসভায় সভাপতিত্ব করেন আহসান হাবিব মাসুদ।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের সামনে কঠিন সংগ্রাম, সরকার জনগণের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করছে। আমরা টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানীর উত্তরসূরী; আমাদের দিল্লির আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

কর্নেল ড. অলি আহমেদ বীরবিক্রম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি যে আওয়ামী লীগের দ্বারা সরকার, প্রশাসন চালাচ্ছেন, এভাবে দেশ চালাতে পারবেন না। আমাদেরকে একদফা আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিবেন না।বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেন, আজকের এই লং মার্চ প্রমান করছে বাংলাদেশের মানুষ তাদের অধিকার আদায় করতে জানে। সোজা আঙুলে ঘিনা ওঠলে আঙুল বাঁকা করতে জানে জনগণ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারোয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমীর আল্লামা মুফতি মোখলেসুর রহমান কাসেমী, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, জনগণ কোনো শিশু সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। পরিণত বয়সের মানুষের দল ক্ষমতায় বসে নিজেদেরকে শিশু বলে দাবি করছে। কর্নেল ড. অলি আহমদের ছেলে ওমর ফারুক, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিলাল হোসাইন মিয়াজি, বলেন, গণভোট নিয়ে কোনো টালবাহানা চলবে না। এনসিপির সরোয়ার তুষার বলেন, আগের মতো খাম্বাগিরি চলবে না, তেল, গ্যাস বিদ্যুৎ দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আই হেভ এ প্ল্যান, আসলে দে হেভ নো প্ল্যান।

টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমীর আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি হুমায়ুন কবিরের পরিচালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, ড. আহসান হাবীব ইমরোজ, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, এনসিপির জেলা আহবায়ক এডভোকেট কামরুজ্জামান শাওন, সেক্রেটারি মাসুদুর রহমান রাসেল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা কামরুল হাসান, সেক্রেটারি মাওলানা যায়েদ হাবিব, ইসলামি ছাত্রশিবিরের টাঙ্গাইল জেলা সভাপতি আব্দুল আলিম প্রমুখ।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ