তনয় বিশ্বাস
শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, টেস্ট (নির্বাচনী) পরীক্ষায় অকৃতকার্য কোনো শিক্ষার্থীকে কোনোভাবেই এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না। জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ জেলার মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রভাতী শিফটের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিহা ইসলাম বর্ষা ও সানজিদা তালুকদার সিনহা বলে, "আমরা দুই বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করে উত্তীর্ণ হয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিই। অথচ প্রতিবছর অকৃতকার্য হয়েও অনেকে নানা উপায়ে এসএসসি দেওয়ার সুযোগ পায়। টেস্টে অকৃতকার্যদের সুযোগ দেওয়া বন্ধ হলে পড়াশোনার প্রতি সবার দায়িত্ববোধ বাড়বে।” তবে পুলিশ লাইনস্ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহাদ আহমেদ শাফি একটু ভিন্ন মত প্রকাশ করে বলে, "দুর্ঘটনাবশত কোনো শিক্ষার্থীর একটি বিষয়ে ফল খারাপ হলে, পুনরায় পরীক্ষার মাধ্যমে তাকে নিজেকে প্রমাণের আরেকবার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।” শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা জানান, টেস্ট পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে খাতা মূল্যায়ন করতে হবে যথাযথ কোডিং ও ডিকোডিং পদ্ধতি অনুসরণ করে। প্রয়োজনে একাধিক শিক্ষক দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে হবে। কোনো কোচিং বা প্রাইভেটের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকরা পরীক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রম কিংবা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, জেলায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ানোর একধরনের অনৈতিক বাণিজ্য গড়ে উঠেছে। নিজ প্রতিষ্ঠানে ফেল করার পর শিক্ষার্থীরা অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) নিয়ে ভর্তি হয়। এরপর ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করে ফরম পূরণ করার সুযোগ পায়। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি ও পুলিশ লাইনস্ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল কাদের বলেন, "শিক্ষার মান রক্ষায় একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্যদের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এমন কাজ করলে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
বিন্দুবাসিনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আ. হালিম জানান, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের টেস্ট পরীক্ষার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁর প্রতিষ্ঠানে কোনো ফেল করা শিক্ষার্থীকে ফরম পূরণ করতে দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোসা. লায়লা আঞ্জুমান বানু সাফ জানিয়ে দেন, "জেলা প্রশাসক স্যারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে-টেস্টে অকৃতকার্য কেউ এসএসসি দিতে পারবে না। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান এ নির্দেশ অমান্য করে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীকে সুযোগ দিলে তাঁর বিরুদ্ধে সরাসরি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।