ঢাকা | 06 April 2026

ত্রিশালে ফিরছে নজরুল জয়ন্তীর জাতীয় উৎসব, উদ্বোধনে আসতে পারেন তারেক রহমান

স্টাফ রিপোর্টার, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Apr 6, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবির ক্যাপশন:
ad728
ময়মনসিংহ ব্যুরো : 
ময়মনসিংহের ত্রিশাল আবারও জেগে উঠছে জাতীয় কবির স্মৃতির দীপ্ত আলোয়। দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষা শেষে জাতীয় পর্যায়ে কাজী নজরুল ইসলাম-এর জন্মজয়ন্তীর মূল আয়োজন ফিরে আসছে তাঁর বাল্যস্মৃতিবিজড়িত এই জনপদে। আর এ খবরে যেন আনন্দে, গর্বে, আবেগে ভেসে যাচ্ছে সমগ্র ময়মনসিংহ অঞ্চল। নিস্তব্ধ প্রকৃতির বুক চিরে মানুষের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বেজে উঠেছে এক ঐতিহ্যের সুর—যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর ভালোবাসা মিলেমিশে তৈরি করেছে এক অনির্বচনীয় আবহ।

আগামী ২৫ মে ২০২৬ (১১ জ্যৈষ্ঠ) ঘিরে ত্রিশাল এখন ব্যাপক প্রস্তুতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।  তিন দিনব্যাপী এই মহা উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা রূপ নিবে এক বর্ণিল মহামিলনমেলায়। আলো-ঝলমলে মঞ্চ, নান্দনিক সাজসজ্জা, মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আবৃত্তি, সংগীত, নাট্যাভিনয় এবং গবেষণাভিত্তিক আলোচনা—সব মিলিয়ে যেন এক অনন্য সাংস্কৃতিক মহোৎসবের প্রতীক্ষায় দিন গুনছে ময়মনসিংহবাসী।

এই আয়োজনকে ঘিরে আরও এক বিশেষ মাত্রা যোগ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সম্ভাব্য উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে ইতোমধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনা। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর উপস্থিতি জাতীয় এই আয়োজনকে আরও তাৎপর্যমণ্ডিত করে তুলবে এবং দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা জাগাবে।

জাতীয় সংসদে ত্রিশাল থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য ডাঃ মাহবুবুর রহমান লিটন এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে আবারও জাতীয় পর্যায়ে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর উদ্যোগ ও প্রস্তাবনায় সরকারের সর্বোচ্চ মহল ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সংস্কৃতি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে ত্রিশাল পরিদর্শন করেছেন এবং আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি তদারকি করেছেন। 

শনিবার (৪ এপ্রিল)  ত্রিশাল নজরুল অডিটোরিয়ামে এক প্রস্তুতি সভায় যোগ দেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি, এতে বিশেষ অতিথি  ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি, মুখ্য আলোচক ছিলেন ডা. মোঃ মাহাবুবুর রহমান এমপি (ত্রিশাল), মুফতি মুহাম্মদুল্লাহ এমপি (ফুলপুর-তারাকান্দা), অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন এমপি (ফুলবাড়ীয়া), মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বাচ্চু এমপি (গফরগাঁও), উপাচার্য, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা প্রশাসকবৃন্দ—ময়মনসিংহ, জামালপুর ও নেত্রকোনা; পুলিশ সুপারবৃন্দ; বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ; উপজেলা নির্বাহী অফিসারবৃন্দ; স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ।


ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মিজ ফারাহ শাম্মীর সভাপতিত্বে ওই সভায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী ২০২৬ জাতীয়ভাবে উদযাপন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে সংস্কৃতির সার্বিক বিকাশে প্রয়োজনীয় করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয় এবং এ বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

ত্রিশাল—এ যেন শুধু একটি ভূখণ্ড নয়, বরং এক চেতনার নাম; নজরুলচেতনার প্রতিচ্ছবি। এখানকার প্রতিটি পথ, প্রতিটি বৃক্ষ, প্রতিটি বাতাসের স্পর্শে মিশে আছে কবির শৈশবের স্মৃতি। এই মাটিতেই প্রথম প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর আত্মিক সংযোগ গড়ে উঠেছিল, এখানেই জেগে উঠেছিল তাঁর অন্তরের বিদ্রোহ, মানবতা আর প্রেমের দীপ্ত শিখা। সেই স্মৃতির অনুরণন আজও ধ্বনিত হয় ত্রিশালের বাতাসে, নদীর স্রোতে, সবুজ প্রকৃতির নিঃশ্বাসে।

দেশ-বিদেশের কবি, সাহিত্যিক, গবেষক ও শিল্পীদের মাঝেও এই উৎসব ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। তারা ছুটে আসতে চান সেই পবিত্র ভূমিতে—যেখানে একদিন উচ্চারিত হয়েছিল বিদ্রোহের বজ্রকণ্ঠ, যেখানে জন্ম নিয়েছিল সাম্য, মানবতা আর ভালোবাসার চিরন্তন বাণী। এই উৎসব তাই কেবল একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; এটি এক আত্মিক পুনর্মিলন—কবির সঙ্গে, তাঁর আদর্শের সঙ্গে, তাঁর অমর সৃষ্টির সঙ্গে।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ১৯৬৫ সালেই ত্রিশালে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপনের সূচনা হয়। সেই ঐতিহ্যের দীর্ঘ বিরতির পর আবার জাতীয় পর্যায়ে এই আয়োজন ফিরে আসায় ময়মনসিংহবাসীর আনন্দ আর বাঁধ মানছে না। তাদের চোখে-মুখে গর্বের দীপ্তি, হৃদয়ে নবজাগরণের স্পন্দন।স্থানীয়দের ভাষায়, “এটি শুধুই একটি অনুষ্ঠান নয়—এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের পুনর্জাগরণ।” এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে ত্রিশাল আবারও উঠে আসবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক মানচিত্রে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

ত্রিশালের প্রকৃতি যেন নিজেই আজ উৎসবের রঙে রাঙা। সবুজ মাঠ, নদীর স্রোত, আলো-বাতাস—সবকিছুতেই লেগেছে এক নবজাগরণের ছোঁয়া। প্রকৃতি যেন নিজেই আহ্বান জানাচ্ছে—এসো, ফিরে এসো সেই স্মৃতিবিজড়িত প্রাঙ্গণে, যেখানে প্রতিটি ধূলিকণায় লুকিয়ে আছে ইতিহাসের স্পন্দন।তিন দিনব্যাপী এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক কর্মী—সবাই অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। বছরের পর বছর ধরে লালিত ভালোবাসা, প্রত্যাশা আর আবেগের সম্মিলিত বহিঃপ্রকাশ ঘটবে এই কয়েকটি দিনে।

শেষ পর্যন্ত, এই নজরুল জয়ন্তী কেবল একটি স্মরণোৎসব নয়—এটি এক জাগরণ, এক পুনরাবিষ্কার। এখানে প্রতিধ্বনিত হবে কাজী নজরুল ইসলাম-এর চিরন্তন আহ্বান—বিদ্রোহের, প্রেমের, সাম্যের—মানবতার অবিনাশী জয়গান।






কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ