কথায় আছে, ‘নীল রঙটা নাকি কষ্টের রঙ!’ আর এই প্রবাদটিই যেন সত্য প্রমাণিত হলো টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে। তুলনামূলক ভালো দল হওয়া সত্ত্বেও নীল দলকে ১-২ ব্যবধানে হারিয়ে জয় তুলে নিয়েছে লাল দল।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে মাওলানা ভাসানীর স্মৃতিবিজড়িত সন্তোষের রথখোলা মাঠে ‘ফোরটি আপ ব্রাদার্স ফুটবল’-এর আয়োজনে এই প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় সৌখিন ফুটবলার হিসেবে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, সাংবাদিক, সাবেক ফুটবলার, ব্যবসায়ী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
খেলায় দেখা যায়, তুলনামূলক শক্তিশালী দল হওয়া সত্ত্বেও নীল দল অপেক্ষাকৃত দুর্বল লাল দলের সুসংহত ডিফেন্স ভেদ করতে হিমশিম খায়। লাল দল ‘ম্যান টু মার্ক’ পদ্ধতিতে খেলে চমৎকার কাউন্টার অ্যাটাক বা পাল্টা আক্রমণ চালায়। পুরো খেলায় বল পজিশনে নীল দলের ফুটবলাররা এগিয়ে থাকলেও, লাল দল মাত্র ৪টি পাল্টা আক্রমণে দুটি গোল আদায় করে নেয়। অন্যদিকে, ম্যাচের শুরুতে নীল দলের স্ট্রাইকার মজিবুর ফাঁকা গোলপোস্টে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন। এছাড়া নীল দলের আক্রমণ লাল দলের বিশ্বজিৎ, ছানোয়ার, ইমরান, রাতুল, হাজী সোহেল ও টিপুকে নিয়ে গঠিত ৬ সদস্যের দুর্ভেদ্য ডিফেন্স ভেদ করতে পারেনি। লাল দলের খেলোয়াড়রা নীল দলের গেমমেকার শিমুল খান, নিলয়, অনুপম ও ডা. হায়দারকে ম্যান টু মার্ক করে আটকে রাখায় তারা স্বাভাবিক খেলা খেলতে ব্যর্থ হন। যদিও ম্যাচের শেষ দিকে অনেক চেষ্টার পর একটি গোল শোধ করতে সক্ষম হয় নীল দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই নীল দলের একচেটিয়া আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে লাল দলের ডিফেন্স। খেলার ২২ মিনিটের মাথায় পাল্টা আক্রমণে নীল দলের অরক্ষিত ডিফেন্সের সুযোগ নিয়ে বল প্লেয়ার ডা. আব্দুল্লাহ গোলরক্ষক সুব্রত ধরকে পরাস্ত করে (১-০) লাল দলকে এগিয়ে নেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই নীল দল গোছানো আক্রমণ শুরু করলেও লাল দলের ডিফেন্স এবং গোলরক্ষক পরিচয়ের অসাধারণ নৈপুণ্যের কারণে গোল পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। এরপর খেলার ৪৭ মিনিটের মাথায় আবারও পাল্টা আক্রমণ থেকে লাল দলের আরিফ গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন (২-০)। ম্যাচের শেষ দিকে নীল দলের শিমুল খানের শট গোলরক্ষক পরিচয় প্রথম দফায় প্রতিহত করলেও, ফাঁকায় দাঁড়ানো হাবিব টোকা দিয়ে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান কমান (২-১)। এরপর নীল দল সমতায় ফেরার লক্ষ্যে গতি বাড়ালেও স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতার কারণে আর ম্যাচে ফেরা হয়নি। উল্টো ম্যাচের শেষ দিকে লাল দলের দুলাল একা আক্রমণে সফল না হয়ে পাশে ফাঁকায় দাঁড়ানো আরিফকে পাস দিলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
লাল দল: পরিচয়, বিশ্বজিৎ (অধিনায়ক), অধ্যাপক ছানোয়ার, সুজিত, হাজী সোহেল, ইমরান, রফিক, রাতুল, উজ্জ্বল, সৈয়দ বেল্লাল, ড. পিনাকী দে, ব্যাংকার উজ্জ্বল, টিপু, আরিফ, ডা. আব্দুল্লাহ, দুলাল ও আয়নাল।
নীল দল: সুব্রত ধর, বিজয় (অধিনায়ক), ডা. শরিফুল, মিশু, সুজায়েত, গৌড় সুন্দর, লিটন, সোহেল শান্তি, মোমিন ভূঁইয়া, অনুপম, শামীম, হাবিব, হাসান, নিলয়, শিমুল খান ও ডা. নজরুল।
ম্যাচটিতে রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রবীন খান এবং তাকে সহায়তা করেন সহকারী রেফারি তকদির হোসেন ও জাহিদ হাসান।