ঢাকা | 21 August 2026

মাওলানা সাঈদীর মৃত্যু: সেদিন হাসপাতালে যা হয়েছিল

প্রগতির আলো ডেস্ক, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Aug 21, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: মৃত্যুর একদিন আগে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানোর সময় প্রাণবন্ত মাওলানা সাঈদী। ছবির ক্যাপশন: মৃত্যুর একদিন আগে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানোর সময় প্রাণবন্ত মাওলানা সাঈদী।
ad728
আসরের সময় আমার ফোন বেজে উঠল। কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে একজন সালাম দিয়ে বললেন, ‘ভাই! স্যারকে (আল্লামা সাঈদী) একটা অ্যাম্বুলেন্সে করে জরুরিভাবে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’ তার কী হয়েছে, কেন হাসপাতাল নেওয়া হচ্ছে, কখন নিয়ে গেছে—তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানাতে পারলেন না আমাকে। মোবাইল কলদাতা কাশিমপুর কারাগারের একজন রক্ষী।

আব্বাকে ঠিক কোন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তা জানার জন্য আমি এরপর হন্যে হয়ে কারাগারের পরিচিত কর্মকর্তাদের একের পর এক ফোন করতে থাকলাম। কিন্তু কোথাও আব্বাকে আনার খবর পেলাম না। আমি, আমাদের পরিবারের লোকজন এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা মিলে সম্ভাব্য তিনটি হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করতে থাকলাম। এগুলো হলো জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, মিরপুর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ও পিজি হাসপাতাল। কিন্তু কোথাও আব্বাকে নিয়ে আসার খবর পেলাম না। অবশেষে রাত ১০টারও কিছু সময় পর আমরা জানতে পারলাম আব্বাকে শাহবাগের পিজি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ততক্ষণে খবর ছড়িয়ে পড়েছে আল্লামা সাঈদী অসুস্থ এবং তাকে পিজিতে নিয়ে আসা হচ্ছে। আব্বাকে নিয়ে আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষের ভিড় জমতে থাকে হাসপাতালের সামনে। রাত ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সের আওয়াজ ভেসে এলো পিজির মূল গেটের দিক থেকে। সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশাল বহর।

বিজ্ঞাপন
অ্যাম্বুলেন্স সোজা পিজি হাসপাতালের ডি ব্লকের ইমার্জেন্সির সামনে গিয়ে থামল। সবাই দৌড়ে সেখানে হাজির হওয়ার চেষ্টা করলাম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আটকে দিল আমাদের সবাইকে।

গাড়ির দরজা খুলল। দুজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের কাঁধে ভর করে আব্বা নামলেন। মেহেদি মাখানো লাল দাড়িতে আব্বার চেহারাটা খুব মায়াবি লাগছিল। দুজনের কাঁধে ভর করে নেমেই স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে কাউকে আগে সালাম দেওয়ার সুযোগ না দিয়ে তিনি হাত নেড়ে সবার উদ্দেশে বললেন, ‘আসসালামু আলাইকুম।’ মুহূর্তের মধ্যে একটা শোরগোল পড়ে গেল। গভীর রজনীতে হাসপাতাল কাঁপিয়ে জনতা সমস্বরে উত্তর দিল ‘ওয়ালাইকুম আসসালাম’। আব্বার মুখে তখন সেই ভুবনকাড়া হাসি।

১৩ বছর কারাগারে থাকা অবস্থায় বহুবার আব্বাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। কোনোবার এমন হয়নি যে, আব্বাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে অথচ আমি উপস্থিত নেই। আব্বাকে হাসপাতালে আনলে বরাবর আমি যেটা করতাম তা হলোÑআব্বাকে বহনকারী গাড়ি হাসপাতালের গেটে পৌঁছালে আমি গাড়ির দরজার কাছে এগিয়ে যেতাম। আব্বার হাত ধরে তাকে গাড়ি থেকে নামাতাম। এরপর পাশাপাশি হেঁটে আব্বার শারীরিক অবস্থা জানতে জানতে ডাক্তারের চেম্বারের দিকে যেতাম। কিন্তু এই শেষবার ছিল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। আব্বাকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই হাসপাতাল জুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি দেখে আমি ভীষণ অবাক হয়েছিলাম। হাসপাতাল জুড়েই ছিল তাদের সরব উপস্থিতি। আর আব্বার গাড়ি যখন হাসপাতালে এসে পৌঁছাল, তখন পুরো গাড়িটাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘিরে ফেলল। তবু ওই অবস্থার মধ্যেই আমি আব্বার দিকে এগিয়ে গেলাম। আমাকে এক প্রকার ধাক্কা দিয়েই আব্বার কাছ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। ওদের আচরণে আব্বা ভীষণ কষ্ট পেলেন। ধমকের সুরে প্রতিবাদ করলেন। আমাকে কাছে আসতে দিতে বললেন। কিন্তু কোনো কথাই তারা শুনল না। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ভীষণ তাড়াহুড়া লক্ষ করলাম। ওদের রুক্ষ আচরণে আমি হতবাক হলাম। তবু ভাবলাম, যাক! হাসপাতালে যখন আব্বাকে এনেছে, আজকের রাতটা যাক। আগামীকাল ইনশাআল্লাহ আব্বার সঙ্গে দেখা করব, কথা বলব, আর আব্বার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত জেনে নেব।

কিন্তু কে জানত, আব্বার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া বা আব্বার সঙ্গে দেখা করার ‘আগামীকাল’—আমার জীবনে আর কোনো দিনই আসবে না।

অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে হুইলচেয়ারে বসিয়ে দ্রুত আব্বাকে নিয়ে যাওয়া হলো ইমার্জেন্সিতে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু লোক ছাড়া আর কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হলো না। তারা ভেতরে ঢুকেই ডি-ব্লকের মূল গেট বন্ধ করে দিল। আমি পাগলের মতো পেছন পেছন ছুটছিলাম ইমার্জেন্সির দিকে, কিন্তু ঢুকতে পারলাম না। ইমার্জেন্সির চেকআপ প্রক্রিয়ায় সব মিলিয়ে সময় লেগেছে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মতো। এর ফাঁকে আব্বার সঙ্গে কোনো ধরনের আলাপ কিংবা খোঁজখবর নেওয়ার কোনো সুযোগই তারা আমাকে দিল না!

ইমার্জেন্সি রুমে নেওয়ার কিছুক্ষণ পর সেখানে পিজি হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. চৌধুরী মেশকাত আহমেদ এলেন। তার সঙ্গে এলেন পিজি হাসপাতালের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এসএম মোস্তফা জামান। তারা কেউই আমাদের পরিচিত নন। তারা ইমার্জেন্সি রুমের বন্ধ দরজার ভেতরে কী আলোচনা করলেন আর কী সিদ্ধান্ত নিলেন, তা আমি বা আমরা জানতেই পারলাম না। তাদের তো উচিত ছিল এই আলোচনা করার সময় রোগীর সন্তান হিসেবে আমাকে বা আমাদের পরিবারের কাউকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনা করার, আমাদের বিস্তারিত জানিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। কিন্তু তারা তা করেননি। শুধু তাই নয়, আব্বার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আমাদের কোনো কিছু না জানিয়েই ইমার্জেন্সি রুম থেকে তারা বেরিয়ে যান। বাইরে দেশের প্রায় সব ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ার সাংবাদিকরা আব্বার শারীরিক অবস্থা জানার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। তারা রুম থেকে বের হতেই সাংবাদিকরা ওই দুজন চিকিৎসককে ঘিরে ধরলেন। ডা. চৌধুরী মেশকাত আহমেদ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলে চলে গেলেন আর ডা. এসএম মোস্তফা জামান সাংবাদিকদের ব্রিফ করা শুরু করলেন। তখন আমি জানতে পারলাম তারা চিকিৎসক এবং তাদের দুজনকে আব্বার চিকিৎসার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডা. এসএম মোস্তফা জামান সাংবাদিকদের বললেন, “দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আমার অধীনে কার্ডিয়াক ইমার্জেন্সিতে ভর্তি রয়েছেন। কিছুক্ষণ আগে আমি খবর পেয়ে এখানে এসেছি। বর্তমানে তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। প্রাথমিক ইসিজিতে ওনার হার্ট অ্যাটাক পাওয়া গেছে। এর আগেও ওনার হার্টে রিং পরানো হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছিল তার প্রাইমারি পিসিআই লাগবে। অর্থাৎ সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে এনজিওগ্রাম করে রিং বসানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে ‘বুকের ব্যথা কমে যাওয়ায়’ আপাতত পিসিআই লাগবে না বলে মনে হচ্ছে(!)। তবে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে এখনো সুস্পষ্ট মন্তব্য করা যাচ্ছে না। তাকে আমরা কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টে রাখছি।”

সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিং শেষ হলে ডা. এসএম মোস্তফা জামানের সামনে গিয়ে আমি দাঁড়ালাম। তাকে আমি আমার পরিচয় দিলাম। সোজাসাপ্টা জানতে চাইলাম, ‘আপনি বলছেন আমার আব্বার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। যদি তাই হয়, তাহলে আপনারা এখনো তার এনজিওগ্রাম করছেন না কেন? কেন সময় নষ্ট করছেন?’

ডা. এসএম মোস্তফা জামান জবাবে বললেন, ‘ঠিক এই মুহূর্তে আপনার আব্বার বুকে ব্যথা নেই, তাই এনজিওগ্রাম না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।’

তখন না বুঝলেও এখন বেশ বুঝতে পারছি—তাদের রিপোর্ট(!) অনুযায়ী আব্বার হার্ট অ্যাটাক হলেও ডাক্তাররা আব্বার প্রাইমারি পিসিআই (Primary Percutaneous Coronary Intervention)Ñঅর্থাৎ সঙ্গে সঙ্গে এনজিওগ্রাম কেন করল না? কেন তার মতো বিশ্ববিখ্যাত একজন মানুষের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করল না? কেন হাসপাতালে এত কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল? কেন একটিবারের জন্যও আমাকে আব্বার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি? কেন আব্বার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আমাকে একটুও জানতে দেওয়া হয়নি?—তা এখন বেশ বুঝতে পারছি।

পিজির চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাথমিক চেকআপের পর আব্বাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করবেন। আমরা রুমের সামনে অপেক্ষমাণ। হঠাৎ রুমের দরজা খুলে গেল। আব্বা হুইলচেয়ারে ঠিক দরজার দিকে মুখ করেই বসা ছিলেন। সামনেই আমরা কয়েকজন দাঁড়ানো। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে আব্বা আমাকে আর আমার ছোট ভাই নাসীমকে দেখে এক অমায়িক হাসি দিলেন। আমাদের দেখে আব্বা কতটা তৃপ্ত হলেন তা আমি তার মিষ্টি হাসি দেখেই অনুমান করতে পেরেছিলাম। আব্বা ভরসা পেলেন তার সন্তানরা তার কাছেই আছে, তার পাশেই আছে!

সিসিইউ রুমের দরজা মিলিয়ে গেল। আব্বা আমাদের চোখের অন্তরালে চলে গেলেন। আব্বা দুনিয়ার অন্তরালে যাওয়ার আগ মুহূর্তে এভাবেই আমাদের চোখেরও অন্তরালে চলে গেলেন। এই যে যাওয়া এটাই শেষ যাওয়া, এটাই শেষ দেখা। এরপর হাসপাতালের সামনে সিঁড়িতে, ফ্লোরে রাত-দিন এক পায়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমিÑ কখন আব্বাকে একনজর দেখার ডাক পাব। চিকিৎসাধীন বাবাকে মৃত্যুর আগে একটিবারের জন্যও তার সন্তানদের দেখার সুযোগ দেওয়া হয় নাÑপৃথিবীর ইতিহাসে এ রকম দ্বিতীয় কোনো ঘটনা আছে কি না আমার জানা নেই।

১৪ আগস্ট ২০২৩, সোমবার। আগের দিন সারারাত নির্ঘুম কাটানোর পর ভোর হতেই আমি সিসিইউতে আবার ঢোকার চেষ্টা করলাম। দোতলায় সিসিইউর সামনে গিয়ে দেখি পঞ্চাশের অধিক পুলিশ সেখানে অবস্থান নিয়েছে। শুধু তাই নয়, সিসিইউর প্রবেশ মুখে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়েছে। আমি অবাক হয়ে গেলাম! এত কঠিন নিরাপত্তাবেষ্টনী কেন?—এমন আগে তো কখনো হয়নি! এখন কী এমন হলো যে এত কঠোর অবস্থানে পুলিশ!!

আব্বার খোঁজ নেওয়ার বা আব্বার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা বারবার করেও ব্যর্থ হলাম। কী করব? আমার কী করা উচিত?—ঠিক বুঝে উঠতে পারছিলাম না। হঠাৎ মনে পড়ল ডা. চৌধুরী মেশকাত আহমেদের কথা। গত রাতেই শুনেছিলাম তিনি পিজি হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান এবং আব্বা তার অধীনেই ভর্তি আছেন। দৌড়ে গেলাম মেশকাত সাহেবের রুমে। কিন্তু তাকে পেলাম না, তিনি তখনো অফিসে আসেননি। কী আর করা! হাসপাতালের ডি-ব্লকের নিচে একটি সিঁড়ি আছে। আমি সেই সিঁড়িতে গিয়ে বসে পড়লাম, ডা. মেশকাত যখনই রুমে ঢুকবেন আমি যেন তাকে মিস না করি। সম্ভবত বেলা ১১টার দিকে ডা. মেশকাত তার অফিসে এলেন। তিনি অফিসে ঢোকার কিছু পরেই আমি তার রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। সেখানে গিয়ে হতবাক হয়ে গেলাম আমি! তার রুমের সামনেও অনেক পুলিশ। আমি ভেবে পেলাম না এই সাজসাজ রব কীসের জন্য। রুমে ঢুকতে গিয়েই পুলিশি বাধার মুখে পড়লাম। কোথায় যাব, কার কাছে যাব? কেন যাব?— এমন হাজারো প্রশ্ন তাদের! আমি আমার পরিচয় দিলাম, কার কাছে যাব তাও জানালাম। তারা শুনে বলল, অপেক্ষা করুন, সাক্ষাতের অনুমতি আনতে হবেÑএই বলে একজন পুলিশ সদস্য রুমের ভেতরে চলে গেলেন। আমি একা বাইরে দাঁড়িয়ে ভাবছিলামÑএকজন অসুস্থ মানুষের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার জন্য ডাক্তারের অফিসে ঢুকতেও পুলিশের অনুমতি লাগবে? ডা. মেশকাত তো সরকারের মন্ত্রী না, এমপিও না, কোনো সচিব না কিংবা ভিআইপি প্রোটোকল পাওয়ার মতো কোনো ব্যক্তিও না! তাহলে? এই লোককে এত পাহারায় রাখার কারণ কী? কোথায় যেন একটা রহস্য লুকিয়ে আছে। কিন্তু ভেবে পাচ্ছিলাম না রহস্যটা কী! অনেক সময় পর একজন রুম থেকে বেরিয়ে এসে আমাকে ডেকে নিয়ে গেলেন। আমি রুমে ঢুকে দেখি সেখানেও পুলিশে ভরা। ডা. মেশকাতের সঙ্গে দুজন লোককে বসা দেখলাম। আমাকে বসতে বলার পর একজন তার পরিচয় দিলেন যে তিনি পিজি হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রেজাউর রহমান আর অন্যজন গতরাতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করা সেই ডা. এসএম মোস্তফা জামান। আমি আব্বার শারীরিক অবস্থার কথা সরাসরি ডা. মেশকাত আহমেদের কাছে জানতে চাইলাম। তিনি বললেন, স্যার আগের থেকে সুস্থ আছেন। এবার আমি বললাম, ‘আমি আব্বার সঙ্গে দেখা করতে চাই এবং তা এখনই। আমি তার মুখ থেকেই শুনতে চাই তিনি কেমন আছেন এবং কেনই বা তাকে এখানে আনা হয়েছে।’ এ পর্যায়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রেজাউর রহমান বললেন, ‘আমরা আপনাকে দেখা করার ব্যবস্থা করছি। আপনি বাইরে অপেক্ষা করুন।’

সরল বিশ্বাসে আমি বাইরে অপেক্ষা করতে লাগলাম। ঘণ্টা পেরিয়ে গেল কিন্তু না ডা. মেশকাত আহমেদ আমাকে কোনো খবর দিলেন, না ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রেজাউর রহমান আমাকে কোনো খবর দিলেন! আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না এখন আমার কি করণীয়।

এরপর আমি আইনজীবীদের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুটি আবেদন করলাম। প্রথম আবেদনটি হলো— আম্মাসহ আমাদের পরিবারের অন্যসব সদস্যের আব্বার সঙ্গে হাসপাতালে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন। আর দ্বিতীয় আবেদনটি হলোÑবয়স ও অসুস্থতা বিবেচনায় আব্বার সার্বক্ষণিক দেখভাল ও সার্বিক সহযোগিতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আমি অথবা যেকোনো একজন অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে থাকার অনুমতি চেয়ে আবেদন।

বেলা গড়িয়ে ঘড়িতে দুপুর ১টার মতো বাজে। তখনো তাদের দুজনের কেউই আমাকে কোনো মেসেজ না দেওয়ায় আমি আবার ডা. মেশকাত আহমেদের রুমে গেলাম। গিয়ে দেখি তিনি রুমে নেই। অফিস একেবারেই ফাঁকা। সেখান থেকে নেমে আমি সোজা চলে এলাম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রেজাউর রহমানের অফিসে। এখানে এসে রেজাউর রহমানের পাশে বসা দেখলাম ডা. এসএম মোস্তফা জামানকে। এখানে গিয়ে রেজাউর রহমানকে পেলাম ঠিকই কিন্তু তিনি তখন সরকারের বিভিন্ন সংস্থা আর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা নিয়ে ব্যস্ত। আমাকে সময় দেওয়ার মতো সময় তার কোথায়! তবু আল্লাহর সাহায্যে ধৈর্য নিয়ে দাঁতে দাঁত কামড়ে বসে আছি।

আব্বার কোনো খবর জানতে পারছি না, তাকে দেখতে পারছি নাÑএমনিতেই আমার মন খারাপ হয়ে আছে, তার মধ্যে দেখছি পরিচালক সাহেব তার রুমে থাকা লোকজনের সঙ্গে চা-নাশতা আর গল্পে সময় পার করছেন। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছিল আমার।

ভর দুপুরবেলা। বাইরে তখন প্রচণ্ড রোদ। পরিচালকের রুম থেকে বেরিয়ে আমি একা উদ্ভ্রান্তের মতো হাঁটছি। খুব অসহায় মনে হচ্ছিল নিজেকে। আব্বার সব মামলা সব জায়গায় (জজকোর্ট, সিএমএম কোর্ট, ট্রাইব্যুনাল, হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ) আমি একা বছরের পর বছর পরিচালনা করেছি। দৌড়িয়েছি, সিনিয়র-জুনিয়র ল’ইয়ারদের চেম্বারে গিয়েছি, করোনার সময়ও আমি নিয়মিত কাসিমপুর কারাগারে গিয়েছি, অসম্ভব পরিশ্রম করেছি কিন্তু আজকের মতো এতটা অসহায় আর দুর্বল কখনোই মনে হয়নি। অজানা আতঙ্ক পেয়ে বসেছিল আমাকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার পর আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীক ফোন দিলাম। তিনি খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে আমাকে আশ্বস্ত করে বললেন, ‘তুমি কোনো চিন্তা করিও না। তোমার আবেদন এখন আমার হাতে। আমি সব ব্যবস্থা করছি । তার কথায় মনটা একটু হালকা হলো।’

আমি সিসিইউতে ওঠার সিঁড়িতে বসে রইলাম। উপরে ওঠার কোনো সুযোগ নেই, কারণ গোটা সিসিইউর এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একপ্রকার ঘিরে ফেলেছে। বিকাল ৫টার মতো বেজে গেল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমার আবেদন মঞ্জুরের কোনো খবর তখনো এলো না। এদিকে হঠাৎ করেই হাসপাতাল কম্পাউন্ডে প্রশাসনের বেশ কিছু গাড়ি ঢুকতে দেখলাম। অফিশিয়াল ড্রেসের ও সিভিল পোশাকের অনেক নতুন অফিসারকে দেখলাম। পাল্লা দিয়ে বেড়ে যাচ্ছিল ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ার সাংবাদিকের সংখ্যা। সঙ্গে বাড়ছিল আল্লামা সাঈদীকে ভালোবাসার মানুষের সংখ্যাও। ঘড়ির কাঁটা যখন ৬টা ছুঁয়ে ফেলল এবং আব্বার সঙ্গে সাক্ষাতের তখনো কোনো সুযোগ আমরা পরিবারের সদস্যরা পেলাম না—তখন বুঝলাম আমাদের পরিকল্পিতভাবেই আব্বার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমার সঙ্গে শুধু মিষ্টি কথার অভিনয় করেছেন আর আমি তার অভিনয়কে সহমর্মিতা ভেবেছিলাম!

মাগরিবের পরপরই আব্বার দ্বিতীয়বার হার্ট অ্যাটাকের খবর শুনি লোকমুখে। পাগলের মতো ছোটাছুটি করেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো খবর বের করতে পারলাম না। দায়িত্বরত প্রশাসনের লোকজনের কাছে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা জানতে চাইলে তারা জানালেন, তিনি একেবারেই স্বাভাবিক আছেন। তারা দেখে এসেই নাকি আমাকে জানাচ্ছেন। কিন্তু তাদের চোখে চোখ রেখে আমি আশ্বস্ত হতে পারলাম না, তাদের চেহারায় বা অভিব্যক্তিতে তাদের কথার সত্যতা খুঁজে পেলাম না। এরই মধ্যে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হতে শুরু করল। কিছুক্ষণ পরপরই সরকার এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গাড়ি হাসপাতাল চত্বরে আসতে শুরু করল। হাসপাতালের চারদিকে বিপুল পরিমাণে পুলিশ মোতায়েন করা হলো। হাসপাতালের ডাক্তার আর প্রশাসনের লোকদের ছুটোছুটি দেখতে পেলাম।

আব্বাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকে নিয়ে আব্বার দুনিয়ার সফর শেষ করা পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আব্বার চিকিৎসার বিষয়ে আমার বা আমাদের সঙ্গে একটিবারের জন্যও কোনো আলোচনা করেননি, আব্বার পুরোনো রোগ কিংবা চিকিৎসা সম্পর্কেও আমাদের কাছে কিছু জানতে চাননি, তারা আব্বার কী চিকিৎসা করছেন, সে সম্পর্কেও আমাদের পরিষ্কার করে কিছু বলেননি, তারা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আব্বার শারীরিক অবস্থার আপডেটও আমাদের জানাননি। সন্ধ্যার পর থেকে আব্বার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিলÑসেই খবরটিও আমাদের জানাননি। দ্বিতীয়বার আব্বার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছেÑসেটিও তারা অফিশিয়ালি আমাদের কিছু জানাননি। শেষ পর্যন্ত আব্বাকে তারা লাইফ সাপোর্টে নিয়েছেনÑএ বিষয়েও আমাকে/আমাদের অবহিত করেননি। এমনকি লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে কোনো লিখিত বা মৌখিক অনুমতিও নেননি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আব্বার চিকিৎসা প্রক্রিয়াটাই ছিল রহস্যজনক, সন্দেহজনক।

হাজারো ভাবনা, অস্থিরতা আর ছুটোছুটির মধ্যেই এশার আজান হয়ে গেল। সব অস্থিরতা একদিকে রেখে মনের প্রশান্তি আর আব্বার দ্রুত সুস্থতা ও নেক হায়াত কামনায় মালিকের দরবারে সেজদা দেওয়ার জন্য ছোট ভাই নাসীম সাঈদীকে নিয়ে পিজি হাসপাতালের মসজিদের দিকে ছুটলাম। কাকতালীয় কি না জানি না, ইমাম সাহেব শাহাদতের আয়াত ধরলেন। তিনি সুরা আলে ইমরানের ১৬৭ নম্বর আয়াত থেকে তিলাওয়াত শুরু করলেন। যখন তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করছিলেন—যার অর্থ হলো আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছেন, তাদের কখনোই মৃত মনে করো না; বরং তারা জীবিত এবং তাদের রবের কাছ থেকে তারা জীবিকাপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন। মনের অজান্তেই চোখ বেয়ে অনর্গল পানি গড়াতে লাগল নামাজের ভেতরেই। মনে হচ্ছিল ভেতরটা ধুমড়ে-মুচড়ে একাকার হয়ে যাচ্ছে। নামাজের ভেতরেই চিৎকার দিতে ইচ্ছে করছিল। চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারছিলাম না, টপটপ করে দাড়ি ভিজে পাঞ্জাবিতে পড়ছিল। শরীর কেঁপে কেঁপে উঠছিল। অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে চোখের পানিতে নামাজ শেষ করলাম। মোনাজাতরত অবস্থায়ই একজন পুলিশ অফিসার এসে আমাকে সালাম জানালেন। বললেন, রমনা জোনের এডিসি হারুন অর রশীদ ও শাহবাগ থানার ওসি নূর মোহাম্মাদ আমার সঙ্গে কথা বলার জন্য মসজিদের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি কান্নাভেজা চোখ সামলে তাদের কাছে যাওয়ার পর তারা তাদের সঙ্গে আমাকে সিসিইউতে যেতে বললেন। আমি ধরেই নিলাম—স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আব্বার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি বুঝি পাওয়া গেল! দীর্ঘক্ষণের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে আব্বার রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম আমরা। বহুল প্রতীক্ষিত ডাক আমাদের জন্য।

কিন্তু ডেকে নিয়ে তারা যে সংবাদটি জানালেন, সেটি বইবার মতো ক্ষমতা আমাদের ছিল না। পৃথিবী সমান ওজনদার এক ভয়াবহ দুঃসংবাদ তারা দিলেন আমাদের। আমার পরম শ্রদ্ধেয় আব্বার ইন্তেকালের দুঃসংবাদ দিলেন তারা আমাদের। আব্বা এ দুনিয়াতে আর নেই। মাথা ঘুরতে লাগল। চোখ ঝাপসা হয়ে এলো। হাত-পা অকেজো হয়ে যেতে লাগল। এত ওজন, এই দুর্বিষহ সংবাদ বহন করার মতো শক্তি কি আমার আছে! চিৎকার করে বলে উঠলাম, কী বলছেন আপনারা এসব। ‘আব্বা আব্বা’ বলে চিৎকার দিলাম। প্রশাসনিক লোকদের শোরগোলে আমার সেই চিৎকার হারিয়ে গেল।

মুক্ত আব্বাকে দেখার স্বপ্ন আর পূরণ হলো না আমার।

ভারতের পোষ্য দল আওয়ামী লীগ ও তাদের গোলাম শেখ হাসিনা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে কথিত যুদ্ধাপরাধের সাজানো বিচারের নামে বিচারিক হত্যা করতে চেয়েছিল, কিন্তু তা না পেরে চিকিৎসার নামে হত্যার (Medical Killing) পথ বেছে নিয়েছিল।

জালিম শেখ হাসিনা আর তার চিকিৎসক নামের খুনিরা যে একটি মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে আল্লামা সাঈদীকে চিকিৎসার নামে হত্যা করেছে, তা এখন বুঝতে পারি।

আমার দৃষ্টিতে ডা. চৌধুরী মেশকাত আহমেদ, ডা. এসএম মোস্তফা জামান ও মো. রেজাউর রহমান ক্লিনিক্যাল নেগ্লিডজেন্সের (Clinical Negligence) মতো ক্ষমাহীন অপরাধজনিত কারণে আমার বাবা আল্লামা সাঈদীকে হত্যার জন্য দায়ী।

কারো হার্ট অ্যাটাক হলে অ্যাটাকের ১২ ঘণ্টার মধ্যে এনজিওগ্রাম করে হার্টে রিং পরানো (Primary Percutaneous Coronary Intervention-PCI) হয় বা রোগীর বুকে ব্যথা থাকলে বা হার্টের গতি এলোমেলো (Arrhythmia) বা পেশেন্ট শকে গেলে সময়ের দিকে না তাকিয়ে দ্রুত এনজিওগ্রাম করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বুকে ব্যথা না থাকলেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে Early PCI-এর মাধ্যমে রোগীকে স্ট্যাবল করা হয়। কিন্তু আল্লামা সাঈদীর ব্যাপারে এর ব্যতিক্রম হলো কেন?

ডা. এসএম মোস্তফা জামান বলেছেন, তারা প্রথমেই আল্লামা সাঈদীকে PCI (Per Cutaneous Intervention) করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে রোগীর বুকে ব্যথা না থাকার কারণে তারা আর PCI না করে কনজারভেটিভ ট্রিটমেন্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। PCI না করার এটি কোনো কারণ হতে পারে? কার্ডিওলজির আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নীতিমালায় কোথাও লেখা নেই যে, বুকে ব্যথা না থাকলে বা কমে গেলে PCI করার প্রয়োজন নেই। PCI না করার অন্য কারণগুলো আল্লামা সাঈদীর ক্ষেত্রে তো প্রযোজ্য ছিল না। তাহলে আপনারা কেন PCI করলেন না? এটা স্পষ্ট Medical Negligence, যা সুস্পষ্ট অপরাধ।

ডা. এসএম মোস্তফা জামান বলছেন, আল্লামা সাঈদীকে ৭:১০ মিনিটে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার অনুমতি পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া হলো না কেন?

হাসপাতালে সার্বক্ষণিক মিডিয়ায় কথা বলেছেন মেডিকেল টিমের সদস্য ডা. এসএম মোস্তফা জামান। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক কমিটির সদস্য, ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রলীগ নেতা এবং ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে শাহবাগিদের কথিত গণজাগরণ মঞ্চে আল্লামা সাঈদীর ফাঁসির দাবিতে উগ্র স্লোগান দেওয়া ব্যক্তি। তার কাছে কি আল্লামা সাঈদী সুচিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ ছিল? যার ফাঁসির দাবিতে যে রাজপথে গলা ফাটিয়েছে, তিনি কি কখনো সুযোগ পেলে ওই লোকটিকে সুচিকিৎসা দিতে পারেন? তাহলে তাকে কেন আল্লামা সাঈদীর চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো?

এমতাবস্থায় সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, আল্লামা সাঈদীকে হত্যার রহস্য উদঘাটনে অনতিবিলম্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আল্লামা সাঈদীকে হত্যার জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

লেখক : এমপি, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর তৃতীয় সন্তান
সুত্র: আমার দেশ


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ