বিশেষ প্রতিবেদক
২০০১ থেকে ২০২৬ দীর্ঘ ২৫ বছরে কখনও নিজ দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর কারণে, কখনও প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের প্রভাবে নির্বাচনে হেরে গেছেন। আবার দল মনোনয়ন দেয়নি। কিন্তু হাল ছাড়েননি ফকির মাহবুব আনাম (স্বপন)। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। আর প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই স্থান পেলেন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির মন্ত্রীসভায়।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, ফকির মাহবুব আনামকে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তি এবং নিজ দলের বিরোধী পক্ষের বৈরী আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু তিনি দমে যান নি। তিনি মধুপুরে এসেছিলেন মানুষের মন জয় করার জন্য। এবার কাঙ্খিত জয় তিনি পেয়েছেন।
স্থানীয় সুত্র জানায়, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার সন্তান ফকির মাহবুব আনাম। তার চাচা আফাজ উদ্দিন ফকির টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। আরেক চাচা প্রখ্যাত গীতিকার লোকমান হোসেন ফকির। ফকির মাহবুব আনাম তার নিজ এলাকার টাঙ্গাইল-২ আসন থেকেই নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তিতে দলীয় নেতাদের পরামর্শে তিনি পাশ^বর্তী আসন টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) চলে যান। ২০০০ সালের দিকে মধুপুরে বাড়ি তৈরি করেন। মধুপুর ও ধনবাড়ীতে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। কিন্তু স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ তার এই আসাকে ভালো ভাবে নেননি। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফকির মাহবুব আনাম বিএনপির মনোনয়ন পান। কিন্তু বিদ্রোহী প্রার্থী হন স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল গফুর (মন্টু)। দলীয় ভোট ভাগ হওয়ায় পরাজিত হন তিনি। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন পান। কিন্তু বিজয়ী হতে পারেন নি। ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি বয়কট করে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ফকির মাহবুব আনাম দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হন। তারপরও তিনি দলে ছিলেন সক্রিয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন পান। কিন্তু দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলী বিদ্রোহী প্রার্থী হন। দলের আরেক বহিষ্কৃত নেতা অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল আসাদুল ইসলামও প্রার্থী হন। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ আলী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ফকির মাহবুব ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল্লাহেল কাফি পেয়েছেন ৯৪ হাজার ৪৬২ ভোট। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে ৪৫ বছর পর আসনটি উদ্ধার করে বিএনপি।
মধুপুরের ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীর সংগঠন জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জন জেত্রা বলেন, ফকির মাহবুব আনাম আদিবাসী বান্ধব একজন নেতা। তিনি গত ২৫ বছর ধরে মধুপুরে কাজ করছেন। আদিবাসীদের সকল কর্মকাণ্ডে তিনি সাথে থাকেন। এজন্য ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীর মানুষ দলমত নির্বিশেষে তাকে ভোট দিয়েছেন।
মধুপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি রতন হায়দার বলেন, অনেক প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে ফকির মাহবুব আনাম মধুপুরে রাজনীতি করেছেন। তিনি মধুপুরের মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়ায় তিনি এলাকার উন্নয়নে অনেক ভূমিকা রাখতে পারবেন।