ঢাকা | 18 February 2026

রমজানের আগেই চড়া টাঙ্গাইলের লেবুর বাজার

স্টাফ রিপোর্টার, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Feb 18, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবির ক্যাপশন:
ad728
সোহেল রানা
পঞ্জিকার পাতায় ফাল্গুন চললেও প্রকৃতির তপ্ত রোদ জানান দিচ্ছে গ্রীষ্মের আগমনী বার্তা। আর এই গরমের সাথে যোগ হয়েছে আসন্ন পবিত্র রমজান। ইফতারে এক গ্লাস ঠান্ডা লেবুর শরবত প্রশান্তি দিলেও, সেই প্রশান্তির দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। লেবুর উৎপাদন কম আর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে লেবুর দাম।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার, সখিপুর, মির্জাপুর, ঘাটাইল ও মধুপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে লেবুর চাষ হয়। এখানকার লেবু গুণে ও মানে অনন্য হওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশেই এর ব্যাপক চাহিদা। তবে এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। কৃষকদের দাবি, অনুকূল আবহাওয়ার অভাবে এবার গাছে লেবুর ফলন আশানুরূপ হয়নি।

বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি মণ লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকায়। অথচ খুচরা বাজারে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সেই দাম ঠেকছে কেজিপ্রতি ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়।
লেবু বাগান মালিক কাজী আব্দুল মানিক বলেন, "বাজারে এখন লেবুর প্রচুর চাহিদা, কিন্তু সেই তুলনায় গাছে ফলন নেই। চাহিদার চাপে আমরা সরবরাহ দিতে হিমশিম খাচ্ছি। ফলন ভালো হলে এবার কয়েকগুণ বেশি লাভ করা যেত।"

লেবু চাষি  মোজ্জাফর হোসেন বলেন, সবাই বলছে আমরা বেশি লাভ করছি, কিন্তু আসলে গাছের গোড়ায় সেচ দেওয়া আর পরিচর্যা খরচ এবার অনেক বেশি পড়ে গেছে। যদি আমাদের এলাকায় বড় কোনো কোল্ড স্টোরেজ বা সরকারি সংরক্ষণাগার থাকতো, তবে আগে উৎপাদিত লেবু আমরা জমিয়ে রাখতে পারতাম। তাতে এই রমজানে সাধারণ মানুষও কম দামে লেবু পেত, আমরাও লোকসান কাটাতাম। এখন বাজার চড়া ঠিকই, কিন্তু আমাদের কাছে তো পর্যাপ্ত পণ্যই নেই।"

ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম ও রতন মিয়া বলেন, "আমরা বাগান থেকে সরাসরি লেবু কিনি। এবার ফলন কম হওয়ায় বাগান মালিকরাই দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। তার ওপর পরিবহন খরচ ও লেবার খরচ যোগ করলে আমাদের খুব সামান্যই লাভ থাকে। ঢাকার আড়তদাররা প্রতি মুহূর্তেই লেবুর জন্য ফোন দিচ্ছেন, কিন্তু আমরা পর্যাপ্ত লেবু পাঠাতে পারছি না।"

স্থানীয় ক্রেতা আনিসুর রহমান বলেন, "রমজানের এখনো কয়েকদিন বাকি, তার আগেই লেবুর এই দাম দেখে অবাক হচ্ছি। এক হালি লেবু কিনতে গেলেই এখন হাত পুড়ে যাচ্ছে। বাজার মনিটরিং না করলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে।"

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আশেক পারভেজ জানান, লেবু চাষিদের উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগ আধুনিক প্রশিক্ষণ, বিনামূল্যে চারা ও সার বিতরণ অব্যাহত রেখেছে।
তবে চাষিরা মনে করেন, সারা বছর এই ফলন ধরে রাখতে এবং সঠিক দাম পেতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে আধুনিক বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরকারি সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা জরুরি। যদি যথাযথ সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকতো, তবে ভরা মৌসুমে লেবু মজুদ করে বর্তমানের মতো সংকটকালীন সময়ে দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ