টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে মনোনয়ন ঘিরে ১৯ নভেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় মধুপুর পৌরশহরে বিএনপির দুই গ্রুপে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় দুইটি বেসরকারি ক্লিনিক ও বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর হয়। এই ঘটনায় ৮ জন আহত হওয়া খবর পাওয়া গেছে। উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে মধুপুরে ঘন্টাখানেক যান চলাচল ও স্থানীয় দোকানপাট বন্ধ থাকে।
জানা যায়, এ আসনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন দলের প্রাথমিক মনোনয়ন পান। এরপর থেকেই বিএনপির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলীর গ্রুপ মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে কর্মসুচি পালন করে আসছে। ১৯ নভেম্বর বুধবার বিকেলে মোহাম্মদ আলী গ্রুপের পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল। বিকেল সোয়া চারটার দিকে বাসষ্ট্যান্ডে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা শুরু হয়।
এসময় লাইফ কেয়ার হাসপাতাল ও এশিয়া হসপিটাল এবং বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর হয়। শহরের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষের সময় মধুপুর ত্রিমোহনা হয়ে বৃহত্তর ময়মনসিংহে যাতায়াতকারি যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এব্যাপারে মধুপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক (স্বপন ফকির গ্রুপের) নাসির উদ্দিন জানান, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বাসস্ট্যান্ডে আসি। এ সময় ময়মনসিংহ রোডে মোহাম্মদ আলী গ্রুপের লোকজন অবস্থান করছিল। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন সমঝোতার চেষ্টা করে। এ সময় তারা (মোহাম্মদ আলী গ্রুপের লোকজন) সমঝোতার চেষ্টা অবজ্ঞা করে আমাদের নেতা কর্মীদের ধাওয়া করে। এ ঘটনায় মধুপুর পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আরিফ, পারভেজ, সাব্বির নামের তিনজন আহত হয়। এদের মধ্যে পারভেজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি (স্বপন ফকির গ্রুপের) মো. জাকির হোসেন সরকার বলেন, মোহাম্মদ আলীর সমর্থকরা তারেক রহমানকে নিয়ে কটুক্তিমূলক কথাবার্তা বলে। এ সময় স্বপন ফকিরের কর্মী সমর্থকরা প্রতিবাদ জানায়। এক পর্যায়ে মোহাম্মদ আলীর লোকজন হামলা চালায়। এ সময় কয়েকজন কর্মী আহত হয়।
এ ব্যাপারে মধুপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক নেতা মোহাম্মদ আলী গ্রুপের মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশি মোহাম্মদ আলীর মনোনয়নের দাবিতে মধুপুরের আনারস চত্বরে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসুচি ছিল। এদিকে স্বপন ফকেরর লোকজন বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নিলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। তারা আমাদেরকে বাসস্ট্যান্ডে সমাবেশ করতে বারণ করেন। পরবর্তীতে আমাদের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে বাসস্ট্যান্ডের দিকে এলে ককটেল বিস্ফোরণ হয়। এ সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এই ঘটনায় আমাদের ৪/৫জন কর্মী আহত হয়।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে বেসরকারি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র ভাঙচুর করায় বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক ও হসপিটাল ওনার্স এসোসিয়েশন বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিবাদ সভা ও মানবন্ধন কর্মসুচি ঘোষণা করেছে।