টাঙ্গাইলের সখীপুরে নাতির হাতে বেদেনা সুন্দরী (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা নারী খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে ওই বৃদ্ধার মেয়ের ঘরের নাতি নয়ন চন্দ্রকে (১৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নয়ন তাঁর নানীকে ধারালো দা ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাতের কথা অকপটে স্বীকারও করেছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার কালিদাস পানাউল্লাহ পাড়াস্থ মান্দাইপাড়া এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত বেদেনা ওই এলাকার পরেশ চন্দ্র কোচের স্ত্রী। গ্রেপ্তার নয়ন চন্দ্র একই এলাকার কল্পনা কোচ ও শ্যামল চন্দ্র কোচের ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার নয়ন চন্দ্রের বাবা-মা ঢাকায় থাকেন। নয়ন সখীপুরে কাঠমিস্ত্রীর কাজ করেন। মাঝেমধ্যেই তিনি কালিদাস গ্রামে গিয়ে নানীর সঙ্গে থাকতেন। গত মঙ্গলবার রাতে সে নানীর কাছে কিছু টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় ধারালো দা ও হাতুড়ি দিয়ে নানীকে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যান। রাতেই পরিবারের লোকজন বেদেনাকে বিছানায় রক্তাক্ত ও মৃত অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দেয়।
ঘটনা জানার পর সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন চৌধুরী, এসআই সুমন ও লিবাস চক্রবর্তী অভিযান নামেন। পরে বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পূর্ব সীমান্ত ইছাদীঘি ছোটপাথার এলাকা থেকে নয়ন চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন তাঁর নানীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। নয়নের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নানী অন্যান্য নাতি-নাতনির চেয়ে তাঁকে কম আদর করতেন। ঘটনার রাতেও চাহিদা মত টাকা দিতে পারেননি এ কারণে নানীকে ধারালো দা ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে নয়নের দাবি।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ঘটনার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই অভিযুক্ত নয়নকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী পরেশ চন্দ্র কোচ বাদী হয়ে নাতি নয়নের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।