সততা ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামক চিকিৎসা সেবাকেন্দ্রের মালিকের অসততার কারণে অংশীদার ও পাওনাদাররা ভোগান্তিতে পড়েছেন। ইতোমধ্যেই অংশীদার পাওনাদার ও ঝাড়ুদারের টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন পাওনাদাররা। এই ঘটনাকে ঘিরে একাধিক শালিশী বৈঠক, সাধারণ ডায়েরি ও মামলা দায়েরের ঘটনাও ঘটেছে। এতসব কিছু ঘটেছে টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌরশহরের জামালপুর রোডের সততা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘিরে।
অংশীদার, ক্লিনিক মালিক সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ছনখোলা গ্রামের আফাজ উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান মধুপুর পৌরশহরের জামালপুর রোডে বিগত তিন বছর আগে সততা ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন করেন। পরবর্তীতে সেবা বৃদ্ধি করতে গিয়ে অর্থ সংকটে পড়ে মিজানুর রহমান কয়েকজন অংশীদার যুক্ত করেন। তাদের মধ্যে বিভেদ দেখা দেওয়ায় কয়েকজন অংশীদার তাদের অংশ প্রত্যাহার করে নেন। পরবর্তীতে মিজানুর রহমানের নিকট থেকে রঞ্জু খান, একরামুল হোসেন অনিক, আব্দুল্লাহ ও ফারজানা এই চারজন সততা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সমহারে অংশ বুঝে নিয়ে সমঝোতার ভিত্তিতে ব্যবসা চালাতে থাকেন। সাম্প্রতিক সময়ে মিজানুর রহমান ব্যবসার কথা বলে অংশীদারদের না জানিয়ে মো. রফিকুল ইসলামের নিকট থেকে এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকা, খবিরনের নিকট থেকে ৬০ হাজার টাকা ব্যাবসার লভ্যাংশ দেওয়ার শর্তে টাকা ধার নেন। কয়েক মাস লভ্যাংশ দেওয়ার পর থেকেই মিজানুর রহমান টাকা দিতে গড়িমসি শুরু করেন।
এদিকে সততা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অপর দুই অংশীদার মো: আব্দুল্লাহ ও ফারজানা মিমি রিপার অংশ ১৪ লাখ টাকার বিনিময়ে ক্রয় করেন একরামুল হোসেন অনিক। এরপর অনিকের নিকট মিজানুর রহমান ও তার আরেক অংশীদার রঞ্জু তাদের অংশও অনিকের নিকট বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। এ সময় মিজানুর রহমান একরামুল হোসেন অনিকের নিকট থেকে দুই লাখ টাকা বুঝে নিয়ে একটি বায়না দলিল করে দেয়। ওই সময় তারা এই সিদ্ধান্তে উপনিত হন যে, অদ্য থেকে একরামুল হক অনিক সততা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকানার তিন ভাগ অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হবেন। পরবর্তীতে ২৬ এপ্রিল সততা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অংশীদার মিজানুর রহমান তার অংশ দলিল করে দেওয়ার দিনক্ষণ নির্ধারণ করেন। দলিল লেখা হয়। দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর হঠাৎ করেই মিজানুর রহমান আত্মগোপনে চলে যান।
অনিক জানান, মিজানুর রহমানকে খোঁজাখুজি করে না পেয়ে মধুপুরের ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হয়। গত ৭ জুন তারিখে মধুপুর ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি খুররম খান ইউসুফজী প্রিন্স এর নেতৃত্বে শালিসী বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে জানা যায়, গোপনে মিজনুর রহমানের সাথে আতাত করে ঘর মালিক সোহরাব হোসেন তুলা মিয়া ওই ক্লিনিক কিনে নেওয়ার কথা বলে মিজানুর রহমানকে পালাতে সহায়তা করেছে এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তালা লাগিয়ে দখলে নিয়েছে। এদিকে অংশীদার রঞ্জু মিয়ার সাথে সোহরাব হোসেন তুলা মিয়া যোগাযোগ করে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ক্যাশে রক্ষিত টাকা, ব্যাংকের চেক, বায়নাপত্র দলিল সরিয়ে ফেলেছে। ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি খুররম খান ইউসুফজী প্রিন্স সহ নেতৃবৃন্দ অবহিত রয়েছেন। এই ব্যাপারে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মধুপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। এরই মধ্যে টাকা আত্মসাতের মানসিকতায় মিজানুর রহমান আদালতে মামলা করেছেন। ওই মামলা তদন্তাধিন রয়েছে।
এই ব্যাপারে সততা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ঘরমালিক সোহরাব হোসেন তুলা মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি দোকান ঘরের ভাড়া দিয়েছি। এছাড়া মিজানুর রহমানের নিকট থেকে আমি সততা ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিনে নিয়েছি। তাই আমি দোকান ঘর মিজানের কাছ থেকে বুঝে নিয়ে তালা দিয়েছি।
এ ব্যাপারে রফিকুল ইসলাম বলেন, সততা ডায়গনস্টিক সেন্টারের একাধিক অংশীদার রয়েছে। তাদের পাওনা বুঝিয়ে না দিয়ে টাকা আত্মসাতের ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে মিজানুর রহমান। আর তাকে সহযোগিতা করছেন ঘরমালিক সোহরাব হোসেন তুলা মিয়া ও অংশীদার রঞ্জু খান। এই ষড়যন্ত্র থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য এবং টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছি। প্রশাসন সহযোগিতা করলে আমাদের টাকা উদ্ধার করা সহজতর হবে। এজন্য ইউএনও মধুপুর এবং ওসি মধুপুরের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। এ ব্যাপারে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এ ব্যাপারে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম ফজলুল হক বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।