বাংলাদেশ রেলওয়ে ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে রেলের সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ময়মনসিংহ রেল স্টেশনে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গণশুনানিতে যাত্রীরা অভিযোগ করে কর্তৃপক্ষকে জানান, দেশের সবচেয়ে অবহেলিত ময়মনসিংহ অঞ্চলের রেলপথ। ময়মনসিংহ নগরীতে ২২টি রেলক্রসিং এ প্রায় সারাক্ষণ যানজট লেগেই থাকে, তাই রেললাইন শহর থেকে সরিয়ে বাইরে স্থানান্তর করা এখন সময়ের উপযুক্ত দাবি, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে অনতিবিলম্বে পদক্ষেপ নিবেন বলে ময়মনসিংহ বাসীর প্রত্যাশা।
এতে প্রধান অতিথি হিসাবে রেল যাত্রীদের নানা সমস্যার কথা শুনে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ রূপম আনোয়ার বলেন সরকারের রেলের উন্নয়নে সদিচ্ছা থাকলেও তা দ্রুত কিছু করা যাচ্ছে না। ত্রিশটি ইলেক্ট্রো মেকানিক ইঞ্জিন আগামী ছয় মাসের মধ্যে চালু হতে পারে, তখন ইঞ্জিন সংকট কিছুটা কমবে। তিনি আরো বলেন আমরা রেলের নানা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রস্তাবনা তৈরি করে তা আগামী সরকারের জন্য রেখে যাচ্ছি।
জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিংহ- জামালপুর রেললাইন অত্যন্ত খারাপ স্বীকার করে ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান বলেছেন দুর্বল লাইনের জন্য ট্রেনগুলো গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় বেশি লাগছে। লাইনগুলো মেরামত করলে দ্রুত সময়ে ট্রেন পৌঁছাতে পারবে। তিনি বলেন
ইঞ্জিন ও বগি সংকটের কারণে দুই- আড়াই বছরের মধ্যে নতুন কোনো ট্রেন দিতে পারবো না।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন সুপার মোঃ আব্দুল্লাহ আল হারুন সহ রেলের ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন গণশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন।
গনশুনানিতে ভুক্তভোগী রেল যাত্রীরা রেলের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন, তা হলো- রেলের জনবল ও ইঞ্জিন বৃদ্ধি করা। বন্ধ রেল স্টেশন ও ট্রেন চালু করা। নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা, কর্মচারীদের বাসাবাড়ি ভাড়া দেয়া হচ্ছে, ওই বাসাগুলোতে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করা হয় তা বন্ধ করা। কেওয়াটখালী লোকোশেডে হাইড্রোলিক ক্রেন সংযোজন ও লোকবল বৃদ্ধি। মানসম্পন্ন কাজ করা। জয়দেবপুর থেকে জামালপুর হয়ে যমুনা রেলসেতু ভুয়াপুর পর্যন্ত ডুয়েল গেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ। ঢাকায় সকাল ৯টায় পৌঁছানোর মত ময়মনসিংহ থেকে একটি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা যা সকাল যাবে এবং অফিস শেষে বিকেলে কমলাপুর থেকে ময়মনসিংহে পৌঁছাবে। বিজয় আন্তঃনগর ট্রেনের দুটি রেক দিয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত যাত্রা সম্প্রসারণ করা। ময়মনসিংহ অঞ্চলে বন্ধ রেল স্টেশনগুলো পূনরায় চালু করা। জয়দেবপুর থেকে জামালপুর পর্যন্ত রেললাইন মজবুত ও শক্তিশালী রুপে স্থাপন এবং দ্রুত সময়ে ট্রেন পৌঁছানো নিশ্চিত করা। ময়মনসিংহ থেকে সিলেট পর্যন্ত আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা।
জামালপুর তারাকান্দি ও দেওয়ানগঞ্জ রেলপথে বিনা টিকেটের যাত্রী চলাচল বন্ধ করা। ময়মনসিংহে রেলওয়ে হাসপাতাল চালু করা ইত্যাদি।