ঘাটাইলের মাটিতে জন্ম নেওয়া এক সাহসী নারীর নাম আইনিন নাহার নিপা। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন একটি সুন্দর, আধুনিক ও মানবিক ঘাটাইলের যেখানে মানুষ মানুষকে আপন করে নেবে, উন্নয়ন হবে সবার জন্য, রাজনীতি হবে সেবার ভাষা। জীবনের নানা বাঁক পেরিয়ে আজ তিনি দাঁড়িয়ে আছেন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঘাটাইল-৩ আসন থেকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। তার চোখে রাজনীতি মানে ক্ষমতার দম্ভ নয়, বরং দায়িত্ব, জবাবদিহিতা আর সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় অঙ্গীকার।
ঘাটাইলের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন আইননি নাহার নিপা। এই প্রথমবারের মতো ঘাটাইলের ইতিহাসে কোনো নারী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি পদপ্রার্থী হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন সংগ্রহ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে যেখানে রাজনীতি ছিল পুরুষপ্রধান ও দলকেন্দ্রিক, সেখানে আইননি নাহার নিপার এই সাহসী পদক্ষেপ ঘাটাইলবাসীর মাঝে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। তার মনোনয়ন সংগ্রহ শুধু একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, এটি ঘাটাইলের নারীদের আত্মবিশ্বাস, সক্ষমতা ও নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা, সমর্থন ও দোয়া নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নামা আইননি নাহার নিপা প্রমাণ করেছেন—নারীরাও পারে নেতৃত্ব দিতে, পারে পরিবর্তনের দিশা দেখাতে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত ঘাটাইলের রাজনীতিতে নতুন চিন্তা, নতুন সংস্কৃতি ও মানবিক নেতৃত্বের পথ উন্মুক্ত করবে বলে বিশ্বাস করছেন সচেতন মহল।
আইনিন নাহার নিপার জন্ম ১৯৯১ সালের ১ জুলাই টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার কমলাপাড়া গ্রামে। তিনি জন্মেছেন এক সম্ভ্রান্ত ও পরিশ্রমী পরিবারে। তার বাবা আবু বকর সিদ্দিক একজন ব্যবসায়ী এবং মা শাহিনা সিদ্দিক একজন আদর্শ গৃহিণী। তিন বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ছোটবেলা থেকেই পরিবারে দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও মানবিকতার শিক্ষা পেয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন হালিম তালুকদারের সঙ্গে যিনি ঘাটাইল উপজেলার খাগড়াটা গ্রামের সন্তান। দুই সন্তানের জননী আইনিন নাহার নিপা বর্তমানে একজন গৃহিণী হওয়ার পাশাপাশি একজন উদ্যোক্তা হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সংসার সামলানোর পাশাপাশি সমাজ ও মানুষের জন্য কাজ করার মধ্যেই তিনি নিজের স্বার্থকতা খুঁজে পান। তার শিক্ষাজীবনও বেশ সমৃদ্ধ। প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেন কমলাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর ঘাটাইল এস.ই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ঘাটাইল থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি রাজধানী ঢাকায় পাড়ি জমান এবং মহাখালীর তিতুমীর কলেজ থেকে অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে বিবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিবিএ চালু হওয়ার সময় তিনি ছিলেন প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী যা তার শিক্ষাজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। তার পরিবার কখনোই সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল না কিন্তু সমাজ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি রাজনীতিকে বেছে নিয়েছেন। তার রাজনীতি হবে ‘শান্তির, সাম্যের ও সমঝোতার রাজনীতি’ এই নীতিতেই তিনি অবিচল। আইনিন নাহার নিপার ভিশনে ঘাটাইল শুধু একটি উপজেলা নয় এটি একটি পরিবার। তিনি বিশ্বাস করেন আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ঘাটাইলকে একটি সুন্দর, পরিকল্পিত ও মানবিক শহরে রূপান্তর করা সম্ভব। তার লক্ষ্য শিক্ষাব্যবস্থার নবনির্মাণ। তিনি চান ঘাটাইলে মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠুক যেখানে শিক্ষার্থীরা যুগোপযোগী জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারবে। একই সঙ্গে ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে তরুণ ও ছাত্রসমাজকে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তার। শিল্পায়নের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে তিনি তার অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন। কৃষিক্ষেত্র থেকে শুরু করে প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছেন আইনিন নাহার নিপা। তিনি জানেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এখনো অনেক মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বর্ষার দিনে অনেক এলাকায় পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কষ্টকর হয়ে পড়ে। এসব অঞ্চলে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা তার নির্বাচনী ইসতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পাশাপাশি নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। নারীরা যেন ঘরে বসেই আয় করতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সুযোগ তৈরি করার প্রতিশ্রুতি তার।
স্বাস্থ্যখাতেও তার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। ঘাটাইলে সরকারি হাসপাতাল থাকলেও সেখানে এখনো আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি হাসপাতালকে আধুনিক যন্ত্রপাতিতে সমৃদ্ধ করতে চান এবং স্বল্পমূল্যে বা বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা করতে চান। পাশাপাশি নিয়মিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
আইনিন নাহার নিপা স্পষ্টভাবে বলেছেন তার কোনো কাজ কাগজের ফাইলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। তার প্রতিটি উদ্যোগ হবে খোলা মাঠে জনগণের সামনে জবাবদিহিতামূলক। তার অফিসে সরাসরি সাক্ষাৎ ও কথা বলার সুযোগ থাকবে সবার জন্য। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ বক্স থাকবে, যা তিনি নিজেই পর্যবেক্ষণ করবেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তার মতে নেতৃত্ব পাওয়াই বড় কথা নয় বরং সেই নেতৃত্ব দিয়ে কী অর্জন করা গেল সেটাই আসল। সময় এসেছে পরিবর্তনের, সময় এসেছে নতুনত্বকে গ্রহণ করার।
তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, ঘাটাইলের মানুষই তার শক্তি। তিনি ঘাটাইলের সন্তান, আর ঘাটাইলের অভিভাবকরা তাদের সন্তানের পাশে দাঁড়াবেন এই বিশ্বাস নিয়েই তিনি এগিয়ে চলেছেন। তার আহ্বান দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঘাটাইলের উন্নয়নে কাজ করে। তার স্বপ্ন একটাই ঘাটাইলকে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধশালী ও স্বপ্নের শহর হিসেবে দেশের দরবারে তুলে ধরা। আইননি নাহার নিপা সবার কাছে দোয়া চান যেন তিনি জীবনের যে অবস্থাতেই থাকুন না কেন আজীবন ঘাটাইল ও ঘাটাইল পরিবারের মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারেন।