ঢাকা | 21 October 2026

কাঁচা সড়কের কাদা-জলে গ্রামবাসীর দুর্ভোগ

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Aug 27, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবির ক্যাপশন:
ad728
মস্ত বড় অজগরের মত সড়কটি একেবেঁকে চলে গেছে বিস্তীর্ণ ধান ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে। প্রত্যন্ত গ্রামের ভিতর চলে যাওয়া এই রাস্তাটি দেখলে মনে পড়বে প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক জহির রায়হানের 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের সেই প্রথম লাইনটির কথা। কিন্তু মুহূর্তেই ভেঙে যাবে সেই রঙিন সাহিত্য কথা। কারণ এটি রাস্তা নয় ঠিক যেনো একটি মরণ ফাঁদ। বলছিলাম টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের ঘোড়াদহ খালপাড় পাকা সড়ক থেকে শরাতৈল প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কের কথা। সড়কটি দূর থেকে দেখলে স্বপ্নের মতো মনে হলেও বছরের পর বছর ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাঁচা সড়কটি কাদায় একাকার হয়ে যায়। বর্ষা মৌসুমে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ পথচারীসহ কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। লাল মাটির এই কাঁচা রাস্তাটি বেহাল থাকায় থমকে যায় এখানকার গ্রামীণ অর্থনীতি। বিশেষ করে, হুমকির মুখে পড়ছে কোমলমতি শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষাকালে সড়কটি এলাকাবাসীর জন্য চরম অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। ভোগান্তিতে পড়তে হয় কয়েক গ্রামের মানুষদের। সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী থাকায় সরাশাক, মুসুল্লিপাড়া ও কামারপাড়াসহ কয়েক গ্রামের কৃষকদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে সরবরাহ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ অঞ্চলের কৃষকরা। 

এলাকাবাসী জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সড়কটির একই চিত্র দেখা গেলেও স্থায়ীভাবে পাকাকরণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে দাবি জানিয়ে আসলেও এখনো মেলেনি স্থায়ী সমাধান। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন স্কুলে কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষকরা চলাচল করে। কিন্তু রাস্তায় কাদা জমে থাকার কারনে হাঁটাচলা করা যায় না, কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। 

স্থানীয় কৃষক রমেশ চন্দ্র বলেন, বর্ষাকালে মাঠ থেকে বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হয়। কাদায় গাড়ি চলাচল করে না অনেক সময় যানবাহন সড়কে আটকে যায়, এমনকি উল্টেও পড়ে। এতে কৃষকদের পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো.আনিসুর রহমান বলেন, সড়কটি শুধু একটি গ্রামের যোগাযোগের মাধ্যম নয়; আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বছরের পর বছর পাকা না হওয়ায় জনদুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।

সরাতৈল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৃদুল চন্দ্র ঘোষ বলেন, “আমার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী আছে। বর্ষা শুরু হলেই কোমলমতি শিশুদের বিদ্যালয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী কাদা মাড়িয়ে আসতে না পেরে অনুপস্থিত থাকে। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তাদের লেখাপড়ায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।”

 এক কিলোমিটার এই কাঁচা সড়কটি পাকাকরণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ দূর করতে এবং ঝিমিয়ে পড়া শিক্ষা ব্যবস্থাকে গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ