ছবির ক্যাপশন:
জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটের প্রভাব পড়েছে টাঙ্গাইলের মোটরসাইকেল বিক্রেতাদের ওপর। বিক্রি কমে যাওয়ায় বিক্রেতারা আকর্ষণীয় অফার ঘোষণা করলেও ক্রেতাদের সাড়া মিলছে না। জানা যায়, পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি মিলছে না। ফলে নতুন মোটরসাইকেল কেনার আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্রেতারা।
মোটরসাইকেল শোরুমগুলোতে আকর্ষণীয় ছাড়, উপহার ও ক্যাশব্যাক অফার দিয়েও বিক্রি বাড়াতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। এতে বিক্রি কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। গত ঈদুল ফিতর এবং আগামী ঈদুল আযহা উপলক্ষে বিভিন্ন কোম্পানি ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক চালু করলেও তেলের সংকটের কারণে সেগুলোতে খুব একটা সাড়া মিলছে না।
টাঙ্গাইল পৌর শহরের হিরোর শোরুমের ম্যানেজার আসাদুল ইসলাম জানান, শোরুমে ক্রেতাশূন্য অবস্থায় অলস সময় পার করছেন তারা। ইয়ামাহা, সুজুকি, টিভিএস ও বাজাজসহ উল্লেখযোগ্য সব ব্র্যান্ডের শোরুমেরই একই অবস্থা। বিক্রেতাদের ভাষ্য, তেলের সংকটের কারণে প্রায় সব ব্র্যান্ডের বিক্রির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
১০ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক অফার থাকলেও বিক্রি বাড়ছে না। টিভিএস শোরুমের ম্যানেজার রাব্বি জানান, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটের কারণে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিসকাউন্ট দিয়েও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা মিলছে না। তিনি মনে করেন, এই সংকট দ্রুত না কাটলে ব্যবসায় বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে।
অপরদিকে, শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের নিরঞ্জন আরিফ মোটরসাইকেল ওয়ার্কশপের মালিক আরিফ বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে বাইকাররা কম বের হচ্ছেন। ফলে সার্ভিস সেন্টারগুলোতে মোটরসাইকেল কম আসায় বিপাকে পড়েছেন টেকনিশিয়ানরা। টেকনিশিয়ান নিরঞ্জনের ভাষ্য, এই সংকট স্থায়ী হলে পেশা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে হবে।
এদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাম্পে তেল নেওয়ার ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হেলমেট বাধ্যতামূলক করার প্রস্তুতি চলছে। এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বিআরটিএ অফিসে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চ মাসে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বিআরটিএ টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক শেখ মাহতাব উদ্দিন জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যেখানে ৩৬৯টি মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন হয়, মার্চ মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬৯টিতে। রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স ছাড়া পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল না দেওয়ায় গত মাসের তুলনায় নিবন্ধনের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।