ঢাকা | 15 January 2026

দলবদলের হ্যাট্রিকের পর বিএনপির প্রচারাভিযানে সাবেক মেয়র সানোয়ার

স্টাফ রিপোর্টার, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Jan 7, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবির ক্যাপশন:
ad728
রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করে ২০২৩ সালেই হ্যাট্রিক করেছেন টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীব। ছাত্রলীগ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও বিএনপি ঘুরে ২০২৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তিনি পুনরায় বঙ্গবীরের দলে যোগ দিয়েছিলেন। বর্তমানেও তিনি উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু গত সোমবার বিকেলে তিনি হঠাৎ কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতালীগ থেকে পুনরায় অব্যাহতি চেয়েছেন। অব্যাহতিপত্রে তিনি পারিবারিক ও শারীরিক সমস্যাকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন। তবে এর আগে রোববার রাত থেকেই সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীবকে টাঙ্গাইল-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের পক্ষে ভোট চাইতে দেখা গেছে।
সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী সূত্রে জানা গেছে, সানোয়ার হোসেন সজীব ১৯৯২-৯৩ সালের দিকে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত হন। এ সময় তিনি বিভিন্ন সময় হামলা মামলার শিকার হয়ে জেল খেটেছেন। একসময় তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ছিলেন। পরে ১৯৯৯ সালে কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ গঠন করার সময় সানোয়ার হোসেন সজীবও সঙ্গে ছিলেন। ওই সময় তাঁকে টাঙ্গাইল জেলা কমিটির যুব বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ২০০২ সালে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের হয়ে সখীপুর পৌরসভার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। 
পরে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বঙ্গবীরের সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য হয়। ২০১৫ সালের শুরুর দিকে পৌর নির্বাচনে দলীয় সমর্থন পেতে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। কিন্তু নির্বাচনে বিএনপি তাঁকে সমর্থন না দেওয়ায় দলটির নেতাকর্মীদের প্রতি তিনি ক্ষিপ্ত হন। পরে ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি থেকেও তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। 
এদিকে ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে জানানো হয়- সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা সানোয়ার পুনরায় কৃষক শ্রমিক জনতালীগে যোগ দিচ্ছেন। 
ওই পত্রে সানোয়ারকে বিএনপি নেতা বলায় উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা সখীপুর প্রেসক্লাবে এসে প্রতিবাদও জানিয়েছিলেন। উপজেলা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি শাজাহান সাজু প্রেসক্লাবে গিয়ে দাবি করেছিলেন- সানোয়ারকে বহু আগেই বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সানোয়ার বিএনপি নেতা নন; তিনি কৃষক শ্রমিক জনতালীগে ছিলেন, তিনি পুনরায় সেখানেই ফিরে যাচ্ছেন। তাঁকে বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে দলটি ক্রেডিট নিতে চাচ্ছে। 
এ সময় সানোয়ার হোসেন সজীব সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমার রাজনীতি শুরু হয়েছিল বঙ্গবীরের মাধ্যমেই। মাঝখানে কিছুদিন তাঁর সঙ্গে সামান্য দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল। পুনরায় তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে ভালো লাগছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপিতে যোগ দেওয়া আমার ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।
এবার নিজ দল থেকে অব্যাহতির বিষয়ে সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সানোয়ার হোসেন সজীব এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছি। তবে কোথাও যোগদানের কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। আপাতত রাজনীতির বাইরে আছি। তবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে গিয়ে, যেহেতু আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার (কাদের সিদ্দিকীর) দল করতাম, ওইদিকে বিএনপিও একজন বীরউত্তমের (জিয়াউর রহমান) দল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি। সেজন্য বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে আমার জায়গা থেকে যতটুকু পারি সমর্থন থাকবে। 



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ