২৫ই মার্চ কালো রাত্রিতে আনন্দ মেলার নামে অশ্লীল নৃত্য ও জুয়া খেলা চলায় মহান স্বাধীনতা দিবসে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সংর্ধ্বনা ও আলোচনাসভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুক্তিযোদ্ধারা। এঘটনায় দ্রæত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তাদের।
আনন্দ মেলার নামে ধনবাড়ী উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের পঞ্চাশী (বটতলা) বাজারের দক্ষিণ পাশে হারুন বিশ্বাসের বাড়ীর নির্জন ভিটায় স্থানীয় বানিয়োজান ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান স্বপন, আব্দুর রহিম মেম্বার, বিএনপি নেতা সোহেল রানা, মঞ্জু সিদ্দিকী, দুলাল মেম্বার, হুদল প্রমানিক ও টাকুরিয়ার বিএনপি নেতা মুকুল হোসেন এরা অদৃশ্য প্রভাব খাঁটিয়ে দশ দিন ব্যাপী আনন্দ মেলা চালাচ্ছেন। মেলায় সন্ধ্যার পর থেকেই প্রকাশ্য ৪ থেকে ৫ টি স্থানে বসে জুয়া খেলার আসর। তবে, ধনবাড়ী থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের বিনা অনুমতিবিহীন মেলার নামে অশালীন কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে তারা। প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে চলছে বলেও অভিযোগ করেন ওই এলাকার রফিক, হায়দার আলী, মমিনুল ইসলাম, ময়নাল হোসেন, কানিজ ফাতেমা, লাবণ্য ও রুবেল আহম্মেদসহ স্থানীয় এলাকাবাসী।
ধনবাড়ী উপজেলা বীরমুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধ শাজাহান আলী, হযরত আলীসহ আরোও অনেক বীরমুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসনের সংর্ধ্বনা অনুষ্ঠানে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তব্যে বলেন, তিশ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা মুক্তিযোদ্ধারা নিজের জীবন বাজি রেখে এই বাংলাদেশ কে স্বাধীন করেছি। তবে, ২৫ মার্চের রাত একটি অবীস্মরনীয় এবং জাতির জন্য একটি কালো অধ্যায়। সেখানে ২৫ মার্চ সারা রাতভর পঞ্চাশী এলাকায় পুতুল নাচের নামে মেয়ে দিয়ে অর্ধনগ্ন হয়ে খারাপ অঙ্গভঙ্গিতে অশ্লীল এই নৃত্য পরিচালনা করে জুয়ার আসর চালিয়েছে স্থানীয় সেই আনন্দ মেলার আয়োজকরা। শুধু এতেই শেষ নয় মেলায় উঠতি বয়সী কিশোর, যুবক সহ নানা বয়সী মাদক সেবীরা মদক গ্রহণ করে। ফলে পঞ্চাশী এলাকায় রাতের আধাঁরে সবাই যখন মেলা ও নিন্দ্রায় যাওয়ার পরই চুরি হয়ে যাচ্ছে টিওবয়েলসহ নানা জিনিসপত্র। তবে, এমন মেলার নামে রাতভর অশালীন নৃত্য, জুয়া, মাদক সহ মাইকের শব্দ দূষণে বৃদ্ধ,শিশু সহ নানা বয়সী মানুষের ঘুম, নামাযসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ পঞ্চাশীসহ আশপাশ এলাকাবাসীর। এমন ঘটনা পুরো বাঙ্গালি জাতির জন্য খুবই লজ্জার ও হতাশার! এই স্বাধীন দেশে কী আইন বলতে কিছু নেই বলে বিষ্ময় প্রকাশ করে।
ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি অধ্যক্ষ এম আজিজুর রহমান তিনি তার বক্তব্যে বলেন, উক্ত ঘটনা কোন ভাবেই কাম্য নয়। যারা ধরণের কর্মকান্ডের সাথে জড়িত তাদের কে ১ ঘন্টার মধ্যে আইনের আওতায় আনাসহ মেলা বন্ধের আহবান জানান প্রশাসনকে।৩১ মার্চ পর্যন্ত অনুমতি থানার ওসি দিছে বলে মেলার আয়োজক কমিটির সদস্য বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান স্বপন ও মঞ্জু সিদ্দিকী জানান।
এবিষয়ে ধনবাড়ী থানার ওসি নুরুস সালাম সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানান, আমাদের কাছে কেউ লিখিত ভাবে মেলার অনুমতি চাইনি। মেলার কোন অনুমতি নেই। উক্ত বিষয়ে দ্রæত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা হচ্ছে।উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূরজাহান আক্তার সাথীর কাছে মেলার অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেলার অনুমতি উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসন দেওয়ার ইখতিয়ার নেই। তবে ধনবাড়ী উপজেলায় কোন ধরণের কোন মেলার অনুমতি নেই। এসকল মেলা বন্ধে দ্রæত পক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।