ঢাকা | 11 April 2026

পহেলা বৈশাখকে যাবতীয় অপচয় থেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে: জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ান

প্রগতির আলো ডেস্ক, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Apr 11, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবির ক্যাপশন:
ad728
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক আজ জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে বলেন, তেল সঙ্কটের সুযোগে কিছু লোক অতিরিক্ত মুনাফার লোভে তেল মজুদ করছে। এ ধরণের সঙ্কটে সবর ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে। জুলুম ও গুনার জন্য সঙ্কট তৈরি হয়। অন্যকে প্রাধান্য দিতে হবে। অপচয় এবং অপব্যয় থেকে বেঁচে থাকতে হবে। যে অপচয় করে সে শয়তানের ভাই। শরীয়তের শিক্ষা যেকোনো সম্পদের অপচয় থেকে বেঁচে থাকতে হবে। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। রাসূল (সা.) সংযমী হতে বলেছেন। অযুর পানি ব্যবহারেও সংযমী হতে হবে। 

খতিব বলেন, পহেলা বৈশাখ নিয়ে অনেক অপচয় হয়। পহেলা বৈশাখকে যাবতীয় অপচয় অপব্যয় থেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।খতিব বলেন, ইসলাম সুস্থ সংস্কৃতি উপহার দিয়েছে। মুসলিম উম্মতের আনন্দ হচ্ছে বছরের দুই ঈদ। জালিমের শিরক বিদআত থেকে দূরে থাকতে হবে। তথ্য সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিজাতীয় সংস্কৃতিকে লালন করা যাবে না। 

মীরপুরের ঐতিহ্যবাহী বাইতুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী আজ জুমার খুৎবা পূর্ব বয়ানে বলেন, পহেলা বৈশাখে আনন্দ উৎসব, মঙ্গল শোভাযাত্রা বা বৈশাখী আনন্দ শোভাযাত্রা সবই শরীয়ত বহির্ভূত গুনাহের কাজ। স্পষ্ট শিরক। এর থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব। কারণ বৈশাখী আনন্দোৎসব বা শোভাযাত্রায় যে সব আচার-অনুষ্ঠান প্রচলিত আছে তা সবই ইসলাম বিবর্জিত, শরীয়তের খেলাফ কর্মকাণ্ড।

প্রকৃতপক্ষে পহেলা বৈশাখের মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় ৩১ চৈত্র। চৈত্র সংক্রান্তির মধ্য দিয়ে। এটা হিন্দু ধর্মের একটি ধর্মীয় কাজ।আর এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চৈত্রকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ছায়ানটের শিল্পিরা রবি ঠাকুরের বৈশাখী গান ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো .., গেয়ে সূর্যবরণ ও ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবরে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালানোর মাধ্যমে নববর্ষের সূচনা করে। নববর্ষের সূর্যোদয়ের সময়টিকে কল্যাণের জননী হিসাবে বেছে নিয়ে সূর্যকে আহ্বান করা হয়। যা মাজুস বা সূর্য পুজার শামিল। 

এরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ থেকে বৈশাখের প্রধান আকর্ষণ হাতি, ঘোরা, ময়ূর, পেঁচা, ইঁদুর, হাঁস ইত্যাদি জীবজন্তু রাক্কস-খোক্কসের মূর্তি, মুখোশ ও প্রতিকৃতি নিয়ে নববর্ষের শুভ কামনায় বের করা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। যা অতিত পূর্বে এক সময়ে বৈশাখী আনন্দ শোভাযাত্রা নামে বের হত। এতে অতীত বছরের ব্যর্থতার গ্লানী মুছে নতুন বছর বয়ে আনবে মঙ্গল ও সমৃদ্ধি। এই বিশ্বাসেরই প্রতিফলন ‘মঙ্গলশোভাযাত্রা’ বা বৈশাখী শোভাযাত্রা। 

মূর্তি-মুখোশ মিছিলে ঢাক-ঢোল, কাঁসা-তবলার তালে তালে চলতে থাকে সঙ্গীত-নৃত্য, উল্লস-উম্মাদনা। নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, নারীদেহের সৌন্দর্য প্রদর্শনী, সহপাঠী সহপাঠিনীদের একে অপরের দেহে চিত্র, আলপনা ও উল্কি অংকন, রমনার বটমূলে পান্তা-ইলিশের ভোজ ইত্যাদি। 

এ সবই ইসলাম বিবর্জিত শরীয়ত গর্হিত গুনাহের কাজ। হিন্দুয়ানী কালচার। এতে পহেলা বৈশাখ হাতি, ময়ূর, পেঁচা, হনুমান, পাতিহাঁস, সিংহ ইত্যাদি বাহনে দেবতা মঙ্গল নিয়ে আসে বলে বিশ্বাস করা হয়। ইসলাম ধর্মে এগুলো সম্পূর্ণ শিরক হিসাবে বিবেচিত। ঈমান ধ্বংসের কারণ। এক আল্লাহ তথা একত্ববাদে বিশ্বাসী কোন মুসলমান এমন বিশ্বাস করেনা ও এসব কাজে অংশ গ্রহণ করতে পারেনা। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেন,আর তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, কে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছে? তারা অবশ্যই বলবে ‘আল্লাহ’। বল, ‘তোমরা কি ভেবে দেখেছ আল্লাহ আমার কোন ক্ষতি চাইলে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাক তারা কি সেই ক্ষতি দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমাকে রহমত করতে চাইলে তারা সেই রহমত প্রতিরোধ করতে পারবে’? বল, ‘আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট । 

তাওয়াক্কুলকারীগণ তাঁর উপরই তাওয়াক্কুল করে।(সূরা যুমার ৩৮ ও ৩৯ নং আয়াত)। তিনি আরো ইরশাদ করেন, তোমরা আমার কাছে প্রার্থনা করো আমি তোমাদের প্রার্থনা কবুল করব। (সূরা মুমিন, আয়াত নং ৬০)। আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে ইরশাদ করেন, আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কিছু অন্বেষণ করে তা কিছুতে গ্রহণযোগ্য হবে না। (আল কোরআন)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: প্রত্যেক জাতির জন্য উৎসব আছে, আর ইহা (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা) আমাদের উৎসব। (সহিহ বুখারী, সহিহ মুসলিম)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, যে ব্যক্তি কোন জাতির অনুকরণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। (আবু দাউদ)। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে ইসলামের সঠিক জ্ঞান দান করেন এবং সর্বপ্রকার গুনাহের কাছ থেকে বিরত থাকার তৌফিক নসিব করেন। আমিন। 

ঢাকা দক্ষিণ মুগদা ব্যাংক কলোনি রসুলবাগ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি রাহমাতুল্লাহ তাক্বী বিন আব্দুল গনী আজ জুমার পূর্ব খুৎবায় বলেন, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মানবজাতির পথপ্রদর্শক হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর উপর। 

মুসলমান হিসেবে আমাদের জীবনের মূল লক্ষ্য হলো আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করা। আর এই সন্তুষ্টি অর্জনের প্রধান মাধ্যম হলো নেক আমল। আমরা নামাজ, রোজা, দান-সদকা, হজসহ বিভিন্ন ইবাদত করি এই আশায় যে, আল্লাহ তাআলা আমাদের আমলগুলো কবুল করবেন এবং আখিরাতে এর উত্তম প্রতিদান দান করবেন।
কিন্ত অত্যন্ত দুঃখজনক বাস্তবতা হলো আমরা অনেক সময় আমল করি, অথচ সেই আমল সংরক্ষণ করার ব্যাপারে উদাসীন থাকি। অথচ কুরআন ও হাদীসে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, কিছু গুনাহ ও ভ্রান্ত আকীদা এমন আছে, যা মানুষের সমস্ত আমলকে নষ্ট করে দেয়। তাই আমল করার পাশাপাশি সেই আমলকে বিনষ্টকারী বিষয়গুলো থেকেও আমাদের সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। আল্লাহ তাআলা বলেন, যে ব্যক্তি ঈমানের পর কুফরী করে, তার সমস্ত আমল নিষ্ফল হয়ে যায় এবং সে আখিরাতে গ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করে, অন্যায়ভাবে নবীদের হত্যা করে এবং মানুষের মধ্যে যারা ন্যায়বিচারের নির্দেশ দেয় তাদেরকেও হত্যা করে তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন। এরা সেইসব লোক, যাদের সকল আমল দুনিয়া ও আখিরাতে সম্পূর্ণরুপে নষ্ট হয়ে গেছে; এবং তাদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই। সূরা আলে ইমরান: ২১-২২ আল্লাহ তায়ালা বলেন- আপনি বলুন: আমি কি তোমাদেরকে সেইসব লোকদের সম্পর্কে জানাব, যারা আমলের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত? তারা এমন লোক, যাদের দুনিয়ার জীবনের সমস্ত চেষ্টা-প্রচেষ্টা পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে, অথচ তারা মনে করে যে তারা খুব ভালো কাজ করছে। তারা সেইসব লোক, যারা তাদের প্রতিপালকের আয়াতসমূহ এবং তাঁর সাক্ষাৎ (আখিরাত) অস্বীকার করেছে। ফলে তাদের সমস্ত আমল বিনষ্ট হয়ে গেছে। সুতরাং কিয়ামতের দিন আমি তাদের জন্য কোনো ওজন স্থাপন করব না। সূরা কাহফ: ১০৩-১০৫

আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা আমার আয়াতসমূহ ও আখিরাতের সাক্ষাৎকে মিথ্যা বলে, তাদের আমল নষ্ট হয়ে যায়।সূরা আল-আ‘রাফ: ১৪৭ আল্লাহ তাআলা বলেন, যে ব্যক্তি দুনিয়ার জীবন ও তার সৌন্দর্য কামনা করে, আমি তাদেরকে তাদের আমলের প্রতিফল দুনিয়াতেই পূর্ণরুপে দিয়ে দিই এবং এতে তাদের কোনো কমতি করা হয় না। এরা সেইসব লোক, যাদের জন্য আখিরাতে আগুন ছাড়া কিছুই নেই। তারা সেখানে যা কিছু করেছে, তা সবই বিনষ্ট হয়ে যাবে এবং তারা যা আমল করত, সবই সম্পূর্ণরুপে ব্যর্থ হয়ে যাবে। সূরা হূদ: ১৫-১৬ । আল্লাহ তাআলা বলেন,আর অবশ্যই আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি ওহী করা হয়েছে যদি আপনি শিরক করেন, তবে অবশ্যই আপনার সমস্ত আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে এবং আপনি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন। সূরা যুমার:৬৫ 

রাসূলুল্লাহ (সা.)বলেন, আমার কাছে জিবরীল (আঃ) এসে বললেন, ‘আপনি আপনার উম্মতকে সুসংবাদ দিন যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সহীহ বুখারী: ৬৪৪৩। আল্লাহ আমাদের ঈমানের উপর স্থির রেখে উত্তম পরিণতি দান করেন। আমীন। ঢাকার মুগদা-উত্তর মান্ডা বাইতুন নূর জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি ফয়জুল্লা জীবনপুরী খুৎবার পূর্ব বয়ানে বলেন। নবীজি (সা.) র আদর্শে রয়েছে মুসলিম উম্মাহ এর সফলতা। মযেমন আল্লাহ তা’আলা সূরা নিসা ৮০ নম্বর আয়াতে বলেন, যে রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই আল্লাহরই আনুগত্য করলো। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে মহান সফলতা লাভ করেছে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান এবং সকল মানুষের চেয়েও বেশি প্রিয় হই। যে আমার সুন্নতকে ভালোবাসে, সে আমাকে ভালোবাসে; আর যে আমাকে ভালোবাসে, সে জান্নাতে আমার সাথেই থাকবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে রাসূলের আদর্শে আদর্শবান হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমিন


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ