টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ইসরাত জাহানের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কাছে ঘুষ দাবি ও মিথ্যা মামলার ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার গোড়াই হাটুভাঙা রোডের মুদি ব্যবসায়ী লাল মিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া ইসমিনের নিকট এ অভিযোগ দিয়েছেন। এদিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক আজিজকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন ইউএনও। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস ও সমাজ সেবা অফিসার মোবারক হোসেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের হারিয়া গ্রামের বাসিন্দা গোড়াই হাটুভাঙা রোডের ব্যবসায়ী মো. লাল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মুদি ব্যবসা করে আসছে। উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ইসরাত জাহান বিভিন্ন সময়ে তিনিসহ রোডের ব্যবসায়ীদেরকে অহেতুক হয়রানি করে আসছেন। সম্প্রতি ইসরাত জাহান তাঁর দোকানে গিয়ে অবিক্রীত ডাল (যা দোকানে এক পাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে) সেই বাতিল মালামাল দোকানে কেন রয়েছে একথা বলে বড় ধরনের মামলা ও জরিমানার ভয় দেখান। পরে মামলার হাত থেকে বাঁচানোর কথা বলে বিশ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ৩ লাখ টাকার মামলার হুমকি এবং অবৈধ মালামাল বিক্রির মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে ফাঁসানোর হুমকি দেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
লাল মিয়া তার অভিযোগে লেখেছেন ইতিপূর্বে এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে একইভাবে ভয় দেখিয়ে বিপুল অংকের টাকা আদায় করেছেন স্যানেটারি ইন্সপেক্টর ইসরাত জাহান। সরকারি কর্মকর্তার এমন দুর্নীতিগ্রস্ত আচরণে তিনিসহ সাধারণ ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তার ভয়ে এখন ব্যবসায়ী লাল মিয়া চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্যানেটারি ইন্সপেক্টর ইসরাত জাহান গত একযুগের বেশি সময় ধরে এ উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা নেয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর ইসরাত জাহানের মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.ফরিদুল ইসলাম স্যানেটারি ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেয়ার কথা শুনেছেন বলে জানিয়েছেন।মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক আজিজ জানান, স্যানেটারি ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা যাচায়ে তাকে প্রধান করে তিনি সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে অভিযোগকারী ও অভিযুক্তকে ডেকে শুনানী করা হবে বলে জানান।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুরাইয়া ইসমিন এসিল্যান্ডেরকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা স্বীকার করেছেন।