টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাত মাসের শিশুপুত্রকে হারিয়ে বুক চাপড়ে কাঁদছিলেন নূরজাহান (২০) নামের এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নারী। তিনি অভিযোগ করেন- শুক্রবার রাত ৮টার দিকে পৌরসভার পাবলিক টয়লেটের সামনে থেকে এক নারী ভিক্ষুক কৌশলে তাঁর ছেলে নূর মোহাম্মদকে নিয়ে পালিয়ে গেছে। ঘটনা শোনার পরপরই সখীপুর থানা-পুলিশ অভিযানে নামে। রাত দুইটার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় স্বপ্না আক্তার (২৫) নামের এক নারীকেও আটক করেছে পুলিশ। স্বপ্না সখীপুর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের কবির হোসেনের স্ত্রী। স্বপ্নার বাবার বাড়ি গাজীপুরে। অন্যদিকে উদ্ধার হওয়া শিশু নূর মোহাম্মদ উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দম্পতি সোহেল-নূরজাহানের ছেলে।
থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নূরজাহান তাঁর শিশুপুত্র নূর মোহাম্মদকে নিয়ে প্রতিদিন পৌর এলাকায় ভিক্ষা করেন। ভিক্ষাবৃত্তির সময় স্বপ্না আক্তার নামের ওই নারী ভিক্ষুক প্রায়ই প্রতিবন্ধী নূরজাহানের সঙ্গে কথা বলতো, সে মাঝেমধ্যে নূরজাহানের ছেলেকে কোলে নিয়ে আদরও করতো। শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকেই স্বপ্না আক্তার প্রতিবন্ধী নূর জাহানের পিছুপিছু ঘুরছিল। রাত ৮টার দিকে নূরজাহান প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ছেলেকে স্বপ্নার কাছে রেখে যান। ফিরে এসে আর স্বপ্নাকে খোঁজে পাওয়া যায়নি। শহরের বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও তাকে না পেয়ে কান্নাকাটি শুরু করেন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নূরজাহান।
সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোশারফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই সখীপুর থানার কয়েকটি দল অভিযানে নামে। ঘটনার প্রায় ৫ ঘণ্টা পর গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকা থেকে অক্ষত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত নারী স্বপ্না আক্তার অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন।