জানা যায়, টাঙ্গাইল থেকে ১৯৮৬ সালে যাত্রা শুরু করা এসএসএস প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে ১৯৯০ সালে। সমৃদ্ধি ও মানবিকতা পূর্ণ সমাজ গড়ার জন্য দেশজুড়ে শাখা চালু করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির উন্নয়নে সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলছে সংস্থাটি। বর্তমানে এসএসএস ৭৬৮টি শাখা থেকে ১২ লাখ ১০ হাজার ৯৬৮টি পরিবার সেবা গ্রহণ করছেন। কৃষি, মৎস্য, প্রণিসম্পদ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, হস্তশিল্প, পরিবহন, এসএমই ও সেবা খাতে নতুন দিগন্ত স্পর্শ করতে উদ্যোক্তা গড়ে উঠেছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭২৪জন। এসএসএস থেকে সেবা গ্রহণকারীদের মধ্যে দুই লাখ ৬ হাজার ৭৩১ জন রোগী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন। তিন হাজার ৭০৬ জন শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছেন। চার হাজার ৫শ প্রবীণ নাগরিক পেয়েছেন সার্বিক মানবিক সহায়তা। সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে অনেকেরই অকাল মৃত্যু হয়েছে। যারা মৃত্যু বরণ করেছেন তাদের প্রত্যেকের সমুদয় ঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে এই ঋণ মওকুফের পরিমাণ হলো ২৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এছাড়া সেবাগ্রহীতাদের পরিবারগুলোকে এসএসএস এর পক্ষ থেকে প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে।
এছাড়া অন্তোষ্টিক্রিয়ার জন্য অনুদান দেওয়া হয়েছে ৮২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। অপরদিকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে ১৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।
এ ব্যাপারে এসএসএস এর সিনিয়র পরিচালক সন্তোষ চন্দ্র পাল বলেন, এসএসএস মূলত আর্থিক কর্মসুচির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির উন্নয়ন, ঋণ প্রদান ও সদস্যদের বহুমুখী চাহিদা পূরণের চেষ্টা করে থাকে। সংস্থাটির সদস্যদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সুরক্ষা তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় কল্যাণকর ও সহায়তামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে। কোন সদস্য মারা গেলে দাফন-কাফন বা অন্তোষ্ট্রিক্রিয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়ে থাকে। তাদের গৃহীত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়। কোন সদস্য বা পরিবারের কেউ অসুস্থ্য হলে বা সিজারিয়ান ডেলিভারি, পিত্তথলির পাথর, হিস্টেরেকটমি ও অ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত হলে তাদেরকে প্রাতিষ্ঠানিক বিধি অনুসারে আর্থিক সহযোগতা করা হয়ে থাকে। দুর্ঘটনা কবলিত হলেও এসএসএস তাদের পাশে দাড়িয়ে সহযোগিতার হাত বাড়ায় অর্থনৈতিক চাপ বা ঝুঁকি কমানোর জন্য।