ঢাকা | 26 July 2026

সৃজনশীলতার বাতিঘর: শিক্ষকতা থেকে সাহিত্যে নাজমুল হাসান অরণ্যের অনন্য যাত্রা

স্টাফ রিপোর্টার, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Jul 26, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবির ক্যাপশন:
ad728
বাংলায় একটি প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে— ‘যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে’। বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে এই প্রবাদটিকে নিজের জীবনে শতভাগ সত্য প্রমাণ করেছেন নাটোরের সাহিত্য ও শিক্ষাঙ্গনের পরিচিত মুখ নাজমুল হাসান অরণ্য। যিনি তাঁর ভক্ত ও অনুরাগীদের কাছে ‘প্রথাশ্রয়’ নামেও পরিচিত। একাধারে কবি, লেখক, শিক্ষক, গীতিকার, শিল্পী, সংগঠক ও আইনজীবী—সব মিলিয়ে গুণগ্রাহীরা তাঁকে ভালোবেসে ডাকেন ‘সপ্তকলা’।

তবে বহুমাত্রিক পরিচিতি সত্ত্বেও তাঁর প্রধান পরিচয়—তিনি একজন মানুষ গড়ার কারিগর। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমী শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘অ্যাম্বিশন মডেল স্কুল’। বর্তমানে তিনি এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।


১৯৮৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার সোনাআটা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নাজমুল হাসান অরণ্য। পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান অরণ্য শৈশব থেকেই ছিলেন স্বাধীনচেতা ও মুক্তমনা। শিক্ষাজীবনে হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর তিনি আইন পেশার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেখানে কেবল জীবিকা থাকলেও ছিল না আত্মার প্রশান্তি।

সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সমাজকে আলোকিত করার তাড়না থেকে পরবর্তীতে তিনি বেছে নেন শিক্ষকতার মতো মহান পেশা। তাঁর উদ্ভাবনী পাঠদান পদ্ধতি ও ব্যক্তিত্বের আকর্ষণে শিক্ষার্থীরা তাঁকে যেমন সমীহ করে, তেমনই ভালোবাসে।উত্তর টাঙ্গাইলের বৈরী পরিবেশ ও নানাবিধ প্রতিকূলতার মাঝেও যে ক’জন তরুণ সাহিত্যিক নিরবচ্ছিন্নভাবে সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন, অরণ্য তাঁদের অন্যতম। পেশায় শিক্ষক হলেও নেশায় তিনি একজন প্রথাবিরোধী সাহিত্যিক।

২০১৪ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সুরালী’। এরপর পাঠকপ্রিয়তা পায় তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ—‘শৃঙ্খলহীন’, ‘ছয় পয়সার ভালোবাসা’ ও ‘উইপোকা হুঁশিয়ার’। কবিতার পাশাপাশি কথাসাহিত্যেও তাঁর সমান বিচরণ। ২০১৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘রূপালী চাঁদ’। এছাড়া ‘শোষিত জল’, ‘পোড়ামাটির মূর্তি’ ও ‘বিষন্ন আকাশ’ উপন্যাসগুলো সুধীমহলে দারুণ প্রশংসিত হয়েছে।

খুব শীঘ্রই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে নাজমুল হাসান অরণ্যের বহুল আলোচিত নতুন উপন্যাস ‘মিছিলেও প্রেম হোক’। সাহিত্যবোদ্ধা ও পাঠকদের ধারণা, আগের বইগুলোর মতো এই উপন্যাসটিও পাঠকদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে।

নাজমুল হাসান অরণ্যের এই বহুমুখী প্রতিভা ও পথচলা সম্পর্কে প্রখ্যাত অভিনেতা ও পরিচালক শাহীন নজরু‌ল বলেন,তাঁর সৃজনশীলতা ও সমাজ গঠনের এই নিরন্তর প্রয়াস সত্যিই প্রশংসনীয়। অরণ্যের আগামী দিনগুলোর জন্য রইল নিরন্তর শুভকামনা।"

শিক্ষার আলো ছড়ানো আর সাহিত্যের ক্যানভাসে স্বপ্নের রঙ আঁকা—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে নাজমুল হাসান অরণ্য হয়ে উঠেছেন এক অনন্য প্রেরণার নাম।



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ