ঢাকা | 30 November 2025

"আ.লীগ ছাড়া আমি গামছা নিয়ে নির্বাচন করতে যাবো না" - কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Nov 11, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: বহেড়াতৈল গণ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন কাদের সিদ্দিকী (বীরউত্তম)। ছবির ক্যাপশন: বহেড়াতৈল গণ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন কাদের সিদ্দিকী (বীরউত্তম)।
ad728
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী (বীরউত্তম) বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ, মওলানা ভাসানীর আওয়ামী লীগ, মুক্তিযুদ্ধের আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশের মানুষের আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগের ভোটারেরা যদি ভোট দিতেন না পারে, আমি গামছা (তাঁর দলীয় প্রতীক) নিয়ে নির্বাচন করতে যাবো না। জাতীয় পার্টির লাঙ্গল, তারা যদি ভোট দিতে না পারে আমি নির্বাচনে যাবো না। 
আজ সোমবার বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বহেড়াতৈল গণ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে বহেড়াতৈল ইউনিয়ন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এ জনসভার আয়োজন করে। 

এ সময় মুক্তিযুদ্ধের জীবন্ত কিংবদন্তী কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমরা জনগণের অধিকার চাই। ভোটাধিকার চাই। যখন সবাই পাকিস্তান চেয়েছিল, তখন জামায়াত ব্রিটিশদের গোলামী করেছে। যখন আমরা সবাই বাংলাদেশ স্বাধীন করতে চেয়েছি, তখন এই জামায়াত পাকিস্তানের পক্ষে ছিল, খুন-খারাবি করেছে। সেই জামায়াত, তাকে নিয়ে ইলেকশন করলে আমি ইলেকশন করব? 

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে বীরউত্তম কাদের সিদ্দিকী বলেন, এখনও হিসাব করলে দেখা যায়, ৪৩ পার্সেন্ট ভোট আওয়ামী লীগের আছে। ১৪ পার্সেন্ট জাতীয় পার্টির আছে, আমাদেরও তিন পার্সেন্টের মত ভোট হয়েছে। এখন ইউনূস সরকার যাদেরকে নিয়ে মিটিং করে, সেখানেতো আমাদের ডাকে নাই! আর এখন আমাদের ডাকলেই যাব? আর না। 

প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ইউনূস সাহেব আপনাকে আমি অনেক বড় মানুষ মনে করেছিলাম। শেখ হাসিনা যখন আপনাকে সুদখোর বলতো, আমি আপনার পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। যদি আমি পাশে না দাঁড়াতাম তবে আপনার গ্রামীণ ব্যাংক মাটির সঙ্গে মিশে যেতো। মনে রাখবেন আপনি খোদার ঘর বেঁধে আসেন নাই। আপনার গ্রামীণ ব্যাংক না শুধু, গ্রামীণ নামে যা বানিয়েছেন সব কিছুর বিপদ আছে। আপনার কান্না শেষ হবেনা। আপনি বাংলার মানুষকে চেনেন না। এনজিও চালানো আর দেশ চালানো এক কথা না। সেজন্যে বলছি- এখনো সময় আছে, আপনি যদি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নিরপেক্ষ ও সন্তোষজনক একটা নির্বাচন করতে পারেন, এতো কিছুর পরও আপনার নাম থাকবে, আপনাকে মানুষ সম্মান করবে। আর যদি মীর জাফর হতে চান, ঘসিটি বেগম হতে চান তাহলে যা করছেন তা করেন, বেশিদিন লাগবে না। 

কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ করিনা। আমি বঙ্গবন্ধু করি, আমি মুক্তিযুদ্ধ করি, আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাই। আমি জয় বাংলা করি। সরকার বাহাদুরকে বলে গেলাম, জয় বাংলা বলা যদি অপরাধ হয় তাহলে আমাকে প্রথম গ্রেপ্তার করেন। সেখানেও আমি বলব, আমি জয় বাংলা বলে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, জয় বাংলা বলেই আমার জীবন দিয়ে যেতে চাই। আমার নেতা বঙ্গবন্ধু, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধ আমার ধ্যান, মুক্তিযুদ্ধ আমার চেতনা, বঙ্গবন্ধু আমার চৈতন্য। 

শেখ হাসিনা প্রসঙ্গ এনে তিনি বলেন, কম বিরক্ত হয়ে শেখ হাসিনাকে তাড়ায় নাই। মানুষ একেবারে বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল। শেখ হাসিনাকে তাড়ানোর ক্ষমতা এই আট-দশটা বাচ্চা ছেলের ছিল না। বিএনপি পারে নাই, জামায়াত পারে নাই, কিন্তু শেখ হাসিনার পতন হয়েছিল। আমি বিশ্বাস করি এটা আল্লাহর তরফ থেকে হয়েছে। তিনি যে পরিমাণ অত্যাচার করেছেন, মানুষকে অসম্মান করেছেন, এর জন্য আল্লাহর তরফ থেকে তিনি পরাজিত হয়েছেন। 

তিনি আরও বলেন, গত ১৫-১৬ বছরে শেখ হাসিনা যে অত্যাচার করেছে, ব্যাটারিচালিত গাড়ি স্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে যে পরিমাণ চান্দা উঠিয়েছে, তার ১০ গুণ এই ১২-১৪ মাসে অন্য দলেরা করেছে। শেখ হাসিনার পতনের সময় এক নম্বর দল ছিল ধানের শীষ। এখন তারা কিন্তু পেটের বিষ। এ কারণে আমি আগেও বলেছিলাম, যে কারণে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে শেখ হাসিনাকে সরিয়েছে। ঠিক একই কাজ করলে বিএনপিকেও মানুষের ভুলে যেতে কষ্ট হবে না। 

জনসভায় ইউনিয়ন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান সভাপতিত্ব করেন। এতে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের টাঙ্গাইল জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবু সালেক হিটলু, উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র সানোয়ার হোসেন সজীব, কালিহাতী কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক ইথার সিদ্দিকী, বাসাইলের সাবেক মেয়র রাহাত হাসান টিপু, উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা বিল্লাল হোসেন, আব্দুল্লাহ মিয়া, সহসভাপতি সানোয়ার হোসেন মাস্টার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশিক জাহাঙ্গীর, আলমগীর সিদ্দিকী, আবু জাহিদ রিপন, দেলোয়ার হোসেন মাস্টার, আঁখি আতোয়ার প্রমুখ বক্তব্য দেন। 






কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ