ময়মনসিংহের গৌরীপুরের শাহগঞ্জের ফ্রিজ মেকানিক কালাম মৃধাকে হত্যার প্রতিবাদে ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। কালাম মৃধাকে হত্যা ও তার ভাই সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হওয়ায় বিশ^বিদ্যালয়ের সহপাঠীরা ক্যাম্পাসে রোববার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে।
নিহতের ছোট ভাই সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র শফিকুল ইসলাম জানান, তার ভাই কালাম যে জায়গায় আছেন, সেটা তিনি ক্রয় করেছেন। এরপূর্বে এ সম্পত্তি আমার বাবার ছিলো। হাতবদল হয়ে আবারও আমাদের হয়েছে। এ জমি নিয়ে মঞ্জুল বিরোধ করে আসছিলো। এ ঘটনার জেরেই গত বৃহস্পতিবার বাড়িতে এতে হামলা ও লুটপাট চালায়। হামলায় আমার ভাই নিহত হন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আহত কালাম মৃধা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ১৪ নভেম্বর রাত ১০টায় তিনি হাসপাতালে মারা যান। তিনি উপজেলার কিল্লাতাজপুর গ্রামের মৃত ওয়াজিদ মিয়ার পুত্র।
জানা যায়, কালাম মিয়া সহোদর ফুফাতো ভাই হলেন মো. মঞ্জুরুল হক মঞ্জুল (৪২)। তার সাথে জমি সংক্রান্ত ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার ৬ নভেম্বর হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ঘটে। তাদের আঘাতে কালাম গুরুত্বর আহত হন। তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাবাকে বাঁচাতে এসে হামলার শিকার হন তার মেয়ে আখি আক্তার (১৬)। স্বামী আর মেয়েকে রক্ষা করতে এসে হামলার শিকার হন মোছা. আইরিন আক্তার (২৬)। এ ঘটনায় আইরিন বাদী হয়ে কিল্লাতাজপুর গ্রামের হাবিজ উদ্দিনের পুত্র মঞ্জুরুল হক মঞ্জুল (৪৩), আমিনুল ইসলাম (২৮), মনু মিয়ার পুত্র মাসুদ মিয়া (৩২), সহিদ মিয়া (২৯), মামুন মিয়া (২০) ও মনু মিয়া (৬০) কে আসামী করে গৌরীপুর থানার মামলা দায়ের করেন। মামলায় নগদ ৪লক্ষ টাকা, স্বর্ণের জিনিনের মূল্য ১লাখ ৩৭হাজার ৫শ টাকা মাল লুটের অভিযোগ আনা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পাঁচকাহনিয়া, শাহগঞ্জ, কিল্লাতাজপুর, সিংরাউন্দের গ্রামের লোকজন অংশ নেয়। বক্তব্য রাখেন রায়হান উদ্দিন, আবুল বাশার, আব্দুল খালেক, জয়নাল আবেদিন, রেজাউল করিম প্রমুখ।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. দিদারুল ইসলাম জানান, ঘটনার পর তাৎক্ষনিক ৬নভেম্বর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ওইদিনেই গৌরীপুর মামলা হয়েছিলো। আসামীদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। তিনি আরও জানান, ওই মামলাটিই বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি ক্রমে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সংযোজন করা হবে।