আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে জাকের পার্টির মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী মোঃ আব্দুল আজিজ খান অটল আজ ঘাটাইলের রাজনীতি ও সমাজসেবার অঙ্গনে এক অনন্য ও উজ্জ্বল নাম। নতুন প্রজন্মের রাজনীতিতে যখন হতাশা অবিশ্বাস আর ফাঁকা প্রতিশ্রুতি মানুষের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে, ঠিক সেই সময় ঘাটাইলবাসীর জন্য আশার আলো হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন এই তরুণ, শিক্ষিত, ধার্মিক ও মানবিক নেতা। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হতেই হাট-বাজার, গ্রাম-মহল্লা, চা-চৌকি ও সাধারণ মানুষের আড্ডায় তাঁর নাম উচ্চারিত হচ্ছে আস্থা ও ভালোবাসার সঙ্গে। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সমর্থনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে তার জনপ্রিয়তা আজ সবার ঊর্ধ্বে। তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক প্রার্থী নন তিনি একজন সমাজসেবক, যিনি দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের দুঃখ-কষ্টের সাথী হয়ে আছেন। মোঃ আব্দুল আজিজ খান অটলের স্বপ্ন একটাই ঘাটাইলবাসীর সার্বিক অভাবনীয় পরিস্থিতিকে সত্য, সাহস ও মানবিকতা দিয়ে মোকাবেলা করা যেন পিছিয়ে পড়া মানুষগুলো, নিচে থাকা খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষগুলো, যারা শরীরের ঘাম ঝরিয়ে সংসার চালায় তারা একজন প্রকৃত রক্ষা কবচ পায়। ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত মানুষের জীবনে যেন একটু স্বস্তি ও বিশ্রামের সুযোগ তৈরি হয় এই অঙ্গীকার তিনি শুধু কথায় নয় কাজে-কর্মেই প্রমাণ করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন সাধারণ মানুষ একজন নেতার কাছে বেশি কিছু প্রত্যাশা করে না, তারা চায় একজন সহজ-সরল আস্থাশীল, উদার ও মানবিক মানুষ, যার কাছে নির্ভয়ে যাওয়া যায় এবং যে মন দিয়ে মানুষের কথা শোনে। এই প্রত্যাশার জায়গায় তিনি আজ ঘাটাইলবাসীর কাছে এক দৃঢ় আস্থার নাম।
১৯৯১ সালের ৩ নভেম্বর ঘাটাইল উপজেলার পাড়াকুশারিয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ধর্মপরায়ণ খান পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতা মোঃ আলমাছ খান ও মাতা মোছাঃ আমেনা খানমের আদর্শিক শিক্ষায় বেড়ে ওঠা এই মানুষটি দাদা হাজী মোঃ আব্দুল বাকি খান সাহেবের নৈতিকতা ও মানবিকতার উত্তরাধিকার বহন করছেন। শৈশবেই এলাকার মক্তব থেকে পবিত্র কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করে তাঁর জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তি গড়ে ওঠে। শিক্ষাজীবনে তিনি ২০০৬ সালে মানিকপুর সংগ্রামপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল, ২০০৮ সালে পোড়াবাড়ি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে আলিম পাস করেন এবং পরবর্তীতে ফাজিল ও কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিকতায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, উত্তরা থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে তিনি ডবল এমএ ডিগ্রিধারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত ছিলেন এবং আদর্শকেন্দ্রিক রাজনীতির পথে এগিয়ে যান। ২০০৩ সালে সন্ধানপুর ইউনিয়ন জাকের পার্টি ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। সততা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তিনি উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রতিটি স্তরেই সংগঠনকে শক্তিশালী ও গতিশীল রূপ দেন। বর্তমানে তিনি জাকের পার্টি ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং ২০২১ সাল থেকে টাঙ্গাইল জেলা পূর্ব জাকের পার্টির সভাপতি হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। যে সংগঠনের দায়িত্বই তিনি পেয়েছেন তাঁর হাতের ছোঁয়ায় সেখানেই শৃঙ্খলা, শক্তি ও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। রাজনীতির পাশাপাশি মানবসেবাই তাঁর জীবনের মূল দর্শন। নিজ গ্রাম পাড়াকুশারিয়াতে দরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ থেকে শুরু করে দেশের উত্তরবঙ্গের শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন, সাগরদিঘী গালর্স স্কুলে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, কৃষকের গবাদিপশুর রোগে ফ্রি চিকিৎসা, হতদরিদ্র কৃষকের জন্য বিনামূল্যে ধানের বীজ রোপণ ও ধান কেটে ঘরে পৌঁছে দেওয়া এসব কাজ তিনি করেছেন নীরবে, প্রচারের আলো ছাড়াই। করোনা মহামারির ভয়াবহ সময়েও তিনি ঘরে বসে থাকেননি, মাস্ক পরে স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়ে অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে খাবার ও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্গত মানুষের জন্য নিরাপদ পানি, ওষুধ ও খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ছুটে গেছেন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়। এসব বাস্তব কাজই আজ তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ বলছে, তিনি কথা দিয়ে নয়, কাজ দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করেছেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁর রাজনীতি স্পষ্টভাবে মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ। তিনি হাট-বাজারে, মাঠে-ময়দানে, সাধারণ মানুষের ঘরে বসে তাদের কথা শুনছেন এবং সমাধানের কথা বলছেন বাস্তবতার আলোকে। কোনো জাঁকজমক বা ক্ষমতার দম্ভ নয়, বরং বিনয়ী আচরণ ও সহজ ভাষাই তাঁকে আলাদা করে তুলেছে। তরুণ সমাজ তাঁর প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট, কারণ তিনি খেলাধুলার মাধ্যমে নেশামুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করছেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ দিচ্ছেন এবং যুবকদের সামাজিক কাজে যুক্ত করছেন। তিনি নিজেও একজন ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ হওয়ায় তরুণদের স্বপ্ন ও সমস্যার কথা গভীরভাবে বোঝেন। একই সঙ্গে বয়োজ্যেষ্ঠ, আলেম সমাজ ও খেটে খাওয়া মানুষও তাঁকে আপন করে নিয়েছেন তাঁর ধার্মিকতা, সততা ও মানবিকতার জন্য। তিনি বিশ্বাস করেন, ধর্ম ও কর্ম ভালো হলে একজন মানুষ সৎ ও আদর্শবান হয় এবং মানবসেবাই পরম ধর্ম। এই বিশ্বাস থেকেই তাঁর রাজনীতি বিভাজনের নয়, ঐক্যের; হানাহানির নয়, সহমর্মিতার; ক্ষমতার নয়, সেবার।
ঘাটাইলের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিয়ে তাঁর সুস্পষ্ট ভাবনা ও পরিকল্পনা মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। অবহেলিত গ্রাম, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় পিছিয়ে থাকা এলাকা, কৃষি ও কর্মসংস্থানের সংকট সবকিছুর সমাধানে তিনি বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলছেন। তাঁর অতীত কাজের ধারাবাহিকতাই মানুষকে বিশ্বাস করাচ্ছে তিনি যা বলেন, তা বাস্তবায়নের সদিচ্ছা ও সক্ষমতা তাঁর আছে। আজ ঘাটাইলবাসীর মুখে মুখে একটাই কথা মোঃ আব্দুল আজিজ খান অটল একজন তরুণ, জনপ্রিয়, পরীক্ষিত ও বিশ্বাসযোগ্য সমাজসেবক, যিনি রাজনীতিকে ক্ষমতার সিঁড়ি নয়, মানুষের সেবার মাধ্যম হিসেবে দেখেন। তাঁর জনপ্রিয়তা কেবল নির্বাচনী মাঠেই নয়, মানুষের হৃদয়েও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত। এই ভালোবাসা ও আস্থাই প্রমাণ করে, তিনি কেবল একজন প্রার্থী নন বরং ঘাটাইলের মানুষের আশা-ভরসার প্রতীক, যার নেতৃত্বে ঘাটাইল একটি মানবিক, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত জনপদে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে তিনি সর্বস্তরের জনগনের কাছে দোয়াপ্রার্থী।