ক্রীড়া প্রতিবেদক॥ ৫ ওভারে বিনা উইকেটে ৩৫! শুরুতে টাঙ্গাইল জেলার ব্যাটিং আশারফুল হয়ে থাকলেও সেটা আর ফুল হয়ে থাকেনি, ফুলে কাঁটাযুক্ত হয়ে ৪৬ রানে প্রথম উইকেটের পতনের পর শক্তিশালী লম্বা ব্যাটিং লাইনআপ মাত্র ৩৬ রানে তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ে দলীয় সংগ্রহ মাত্র ৮২ রান। যা নারায়নগঞ্জ জেলা ক্রিকেট দলের ব্যাটাররা শুরুতে চাপে পড়লেও ২৬.৩ ওভারেই ৪উইকেট জয়লাভ করে জোন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে এগিয়ে গেল।
২৬ ফেব্রুয়ারি(বৃহস্পতিবার)বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আয়োজিত জামালপুর জেলা স্টেডিয়ামে ৪৪তম জাতীয় ক্রিকেটে টায়ার ওয়ানে টাঙ্গাইল জেলাকে ৪ উইকেটে হারিয়ে নারায়নগঞ্জ জেলা ক্রিকেট দল টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জয়লাভ করেছে।
টস জয়ী টাঙ্গাইল জেলা ক্রিকেট দল প্রথমে ব্যাটিং করার সিন্ধান্ত নেয়। শুরুর দিকে টাঙ্গাইল জেলা দলের ব্যাটিং ছিলো দারুন। ৫ ওভারেই বিনা উইকেটে ৩৫ রান। এরপর ৮.৫ ওভারে ৪৬ রানে প্রথম উইকেট পতনের টাঙ্গাইল জেলা দলের লম্বা শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপে ধস লাগলে সেটা ঠিক হয়নি। টাঙ্গাইল জেলার ব্যাটারগন মাঠে গিয়ে রান করতে না পেরে আসা যাওয়ার মিছিল করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ৩৬ রানেই ১০ উইকেটের পতনে ২৩.৫ ওভারে মাত্র ৮২ রান। সর্বোচ্চ লিমন ২২ এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দেবাশীষ সরকার অপরাজিত ১২ রান। বাকী ব্যাটসম্যানদের রান রিফাত বেগ ৯, রুবেল ১, জয়রাজ ৮,ইমতিয়াজ ৩, মেহেদী মারুফ ০, রাকিব ৩,জহিরুল ২রনি ০ ও রাদিল ০ রান। ৪টি লেগ বিফোর, ৪টি কট আউট ও ২টি বোল্ড আউট। শুরুর দিকে ব্যাটসম্যান রিফাত বেগ ও লিমন উইকেট চিনতে পারলেও তাদের আউটের পরে উইকেট হয়ে যায় অচেনা। শত চেষ্টা করেও ব্যাটসম্যান উইকেটে পড়ে থাকতে পারেননি। নারায়নগঞ্জ জেলার রনি ফয়সাল ১২ রানে ৬টি উইকেট দখল করেন।
জবাবে ৮৩ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে নারায়নগঞ্জের ৮ রানে ১ম উইকেটের পতনের পর ১৫ওভার ২ বলে ৪৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে। অভিজ্ঞ তাইবুর রহমান পারভেজ ও সালাউদ্দিন সৌরভ অল্প রানের প্রয়োজনে উইকেটে ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাইবুর পারভেজ অপরাজিত ১৭ ও সৌরভ অপরাজিত ২২ রানে ২৬.৩ বলে ৮৪ রান করে জয়লাভ করে। টাঙ্গাইল জেলার দলের ইমতিয়াজ ও রনি চৌধুরী ২টি করে উইকেট দখল করে। টাঙ্গাইল জেলার পরবর্তী ম্যাচ ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার গোপালগঞ্জ জেলার সাথে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নবনিযুক্ত টাঙ্গাইল জেলার সহকারী কোচ ইসলাম খানের ও ম্যানেজার দেওয়ান সাইফুল ইসলাম লিটনের সাথে কথা বলে জানা যায়। ব্যাটিং ব্যর্থতায় তাদের পরাজয় হয়েছে। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা খুবই বাজে ব্যাটিং করেছে। তবে বোলাররা ভালো বোলিং করলেও সেটা অল্প রানে ম্যাচ জয়লাভ করা সম্ভব না। ১৫০ হলেই ম্যাচ জয় হয়তো সম্ভব ছিলো।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগের তারকা ক্রিকেটার টাঙ্গাইলের হুগড়ার রত্ন মেহেদী মারুফের অধিনায়কত্বে বাকী খেলোয়াড়বৃন্দ হলো জয়রাজ শেখ ইমন, ইমতিয়াজ আহমেদ, প্রিতম চাটার্জি, ফেরদৌস হোসেন লিমন, আলী অমর আবির,রাদিল মাহমুদ, মাহেদী হাসান, রুবেল মিয়া, রাকিবুল হাসান রাকিব, জহিরুল ইসলাম, অনিক হাসান এবং সদ্য শেষ হওয়া অনুর্দ্ধ-১৯ বিশ^কাপের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান রিফাত বেগ এবং দেবাশীষ সরকার দেবা।