শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন।মাসুদুর রহমান মাসুদ সেনাবাহিনীর সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার ও শেরপুর জেলা জামায়াতের ব্যবসায়িক শাখা ‘ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’ -এর সাংগঠনিক সম্পাদক।
মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় মাসুদুর রহমান মাসুদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাফিজুর রহমান, সাবেক সেক্রেটারি মাওলানা জাকারিয়া মো. আব্দুল বাতেন, কর্মপরিষদ সদস্য ডা. মো. আনোয়ার হোসেইন, জেলা এনসিপির আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়াসহ এগারো দলীয় জোটের নেতা-কর্মী।মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন, এ আসনে আমি আমার ভাইয়ের রেখে যাওয়া ইশতেহার বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে নির্বাচন করছি। দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়ায় আমি দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আশা করছি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং এলাকার আপামর জনগণ বাদল ভাইয়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমাকে ভোট দেবেন।
এদিকে জামায়াতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন শেরপুর-৩ আসনের তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল। নির্বাচন স্থগিত হওয়ার আগেও তিনিই দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ময়মনসিংহ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনির জটিলতা ও ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। পরদিন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান আসনটির নির্বাচন বাতিল করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন।
নির্বাচন কমিশন ২৪ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-৩ আসনে নতুন তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২ মার্চ, আপিল ৬ থেকে ১০ মার্চ, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৪ মার্চ এবং প্রতীক বরাদ্দ ১৫ মার্চ। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯ এপ্রিল।
জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, শেরপুর-৩ আসনে ইতিপূর্বে যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছিল তাদেরটাসহ মোট ৫ জন প্রার্থী হয়েছেন। প্রার্থীতা প্রত্যাহার শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং আবার নতুন করে প্রতীক বরাদ্দ হবে। নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করতে সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং নির্বাচনে অনিয়ম করার চেষ্টা করলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।