ঢাকা | 14 April 2026

কৃষক কার্ড বিতরণে সৃষ্টি হচ্ছে ইতিহাস ॥ কৃষক পাচ্ছে পরিচয়

স্টাফ রিপোর্টার, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Apr 14, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবির ক্যাপশন:
ad728
আজ ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। এই দিনে নির্বাচনী ইসতেহারের অংশ হিসেবে কৃষকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে কৃষক কার্ড। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকদের হাতে এই কার্ড তুলে দেবেন।

টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর কৃষক সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন এবং শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে কৃষি মেলার উদ্বোধন করবেন তারেক রহমান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তিনটি ওয়ার্ডের মোট এক হাজার ৪৫৩ জন ‘কৃষক কার্ড’ পাচ্ছেন। এরমধ্যে একশ’ জন কৃষক প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশস্থলে উপস্থিত থাকবেন। আর ১৫ জন কৃষকের হাতে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড তুলে দিবেন।

কৃষক কার্ড পাওয়ার তালিকাভুক্ত কৃষক শাহনুর আলম। তার বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের সুরুজ পূর্বপাড়া গ্রামে। তিনি বলেন, আমরা কৃষক অবহেলিত একটি শ্রেণি। আমরা দেশের খাদ্যের যোগান দেই হাড়ভাঙ্গা খাটুনি দিয়ে। কিন্তু আমরা মর্যাদা পাইনা। এবার কৃষক কার্ড পাওয়ার মধ্য দিয়ে আমরা সম্মানিত হচ্ছে। রাষ্ট্রিয়াভাবে আমাদের পরিচয় পত্র প্রদান করছে। শুধু তাই নয় এই কার্ডের মাধ্যমে সরকারি ভাতা প্রাপ্তি থেকে শুরু করে নানা ধরণের প্রণোদনা ও ঋণ সুবিধা পাওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করা হবে। এই কার্ড পেয়ে আমি সত্যিই গর্বিত। শাহনুর আলমের মতো জুলেখা আক্তার, আবু কায়সারসহ অন্যান্য কৃষকরা আনন্দিত গর্বিত।সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য টাঙ্গাইলে দুটি হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়েছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, কৃষি মেলা প্রাঙ্গণ এবং মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার এলাকাকে নতুন রূপে সাজানো হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নামক বাসযোগে সড়ক পথে টাঙ্গাইলে আসার
সম্ভাবনা বেশি।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে সমাবেশস্থল পরিদর্শন ও কাজের অগ্রগতি দেখতে যান কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

পরিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য দেশ ও দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তার চিন্তা প্রসূত কৃষক কার্ড প্রণয়ন ও বিতরণ করতে যাচ্ছেন। উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃষক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। 

মৎস্য ও প্রানীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আগামীকালের কর্মসূচিকে ঘিরে টাঙ্গাইলের জনগণ অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এই জেলাতেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন, যা একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানী কৃষকদের দাবি আদায়ের জন্য জমিদার প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড উদ্বোধন হওয়া গর্বের বিষয়।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে উচ্ছ্বসিত জেলার সর্বস্তরের মানুষ। টাঙ্গাইলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি- পরিত্যক্ত এয়ারপোর্টটি পুনরায় চালু করা এবং যমুনা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ। কৃষক সমাবেশে প্রিয় নেতার মুখ থেকে এসব জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আশাব্যঞ্জক ঘোষণার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন জেলাবাসী। 

জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ জানান, টাঙ্গাইলকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ, শহরের পরিত্যাক্ত এয়ারপোর্ট চালু, যমুনা নদীতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ, ভাসানী হল পুনঃনির্মাণ, সরকারি সা’দত কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিসহ প্রধানমন্ত্রীর কাছে নানা দাবি জানানো হবে।

এদিকে, নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দিচ্ছে না প্রশাসন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় চার স্তরের নিñিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে শহরজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় কাজ করছে। সব মিলিয়ে নববর্ষের প্রথম প্রভাতে প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে এখন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে টাঙ্গাইল।




কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ