ঢাকা | 30 November 2025

বনের জমি দখলের নয়া কৌশল

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Nov 23, 2025 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবির ক্যাপশন:
ad728

বনের জমিতে ঘর-বাড়ি নিমার্ণ করে দখলে রাখা পদ্ধতিটা বেশ পুরনো। দিন বদলে যাচ্ছে। দিন বদলের এ পালায় বনের জমি দখলের পদ্ধতিও পাল্টে গেছে। অল্পে তুষ্ট নন দখলদাররা। তাই বেশি জমি দখলের নয়া কৌশল এঁটেছেন তারা। সামাজিক বনায়নের জন্য প্রস্তুত করা প্লটে গাছের চারার পরিবর্তে এখন শোভা পাচ্ছে সাড়ি সাড়ি আনারসের চারা। বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা সমকালকে জানান আনারসের চারা লাগানোর অনুমতি তিনিই দিয়েছেন। তবে রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান বনের জমিতে আনারস এবং কলার বাগান করা সম্পূর্ণ নিষেধ। এ চিত্র টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বন বিভাগের। 

সম্প্রতি উপজেলার বন বিভাগের ধলাপাড়া সদর বিট অফিসের আওতায় শালিয়াবহ শোকরকরা এলাকায় গিয়ে দেখা যায় বিশাল এক জায়গায় সাড়ি সাড়ি লাগানো হয়েছে আনারসের চারা। ওই জমির চারপাশেই সামাজিক বনায়নের আকাশমনি গাছের বাগান। কথা হয় স্থানীয় জমির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি বলেন, চার মাস আগে নিলামের মাধ্যমে এই জমির গাছ বিক্রি করে বন বিভাগ। বিক্রির পরপরই গাছের মোথা তুলে হালচাষ করে আনারসের চারা লাগিয়েছের আবু সাঈদ নামে এক লোক। সরকারের কি নিয়ম আমরা তা জানিনা। খোঁজ নিয়ে জানা যায় আনারসের চারা লাগানোর ওই জায়গায় সামাজিক বনায়নের তিনটি প্লট ছিল। প্লটগুলো বরাদ্দ পেয়েছিলেন স্থানীয়  জাহাঙ্গীর আলম, আল মামুন এবং বাছিরন বেগম। আল মামুন থাকেন প্রবাসে। বাড়ি গিয়ে জাহাঙ্গীর আলমকে পাওয়া যায়নি। তবে বাছিরন বেগমের ছেলে নবাব আলী বলেন, শুধু এই প্লটগুলো না প্রায় ৬০-৬৫ টা প্লটের গাছ এ বছর কাটা হয়েছে। এরমধ্যে প্রায় ৩০ টা প্লটেই আনারসের চারা লাগানো হয়েছে। 
অধিকাংশ প্লটেই নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে গাছ বিক্রির পর চলতি বছর আনারসের চাষ করা হয়েছে। কোনো প্লটে আনারসের চারা লাগিয়েছেন সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীরা আবার কোথাও বনের জমি উপকারভোগীরা ইজারা দিয়েছেন। সেই জমি ইজারা নিয়ে অনেকেই বানিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করেছেন। কিন্তু জমিতে এখনো সামাজিক বনায়নের গাছ রোপন করা হয়নি। ঘোড়ারটিকি গ্রামের শাহ্ আলম জানান প্রতিটি প্লট বাৎসরিক ইজারা দেওয়া হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায়। শালিয়াহব বাজারে এ বিষয়ে কথা হলে অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান বিট কর্মকর্তা সরাসরি এ কাজের সঙ্গে জড়িত। লোকজনের কথার সত্যতা মেলে শালিয়াবহ ফরেস্ট ক্যাম্পের কাছে গিয়ে। ক্যাম্প ঘেঁষে সামাজিক বনায়নের প্লটে আনারসের চারা রোপন করেছেন রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন আনারসের বাগান করার বিষয়ে অবগত আছেন বিট কর্মকর্তা। তার নির্দেশেই নাকি আনারসের বাগান করা হয়েছে। লক্ষিন্দর গ্রামের মো.রিয়াজ বলেন, আনারসের চারা যখন বড় হয় এর বেশ কিছুদিন পর সামাজিক বনায়নের গাছের চারা লাগানো হয়। সেই গাছের চারা আর আলো-বাতাসে বেড়ে উঠেনা। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, আনারসের আবাদ দীর্ঘ মেয়াদি করতে কিছুদিন পরপর সামাজিক বনায়নের গাছের মাথা ভেঙে দেওয়া হবে। আর এতে অনেক গাছ  মারা যায়। একটা সময় গাছ থাকেনা বললেই চলে। এভাবেই একটা সময় জমিটা প্রতিষ্ঠিা লাভ করে আনারসের বাগান হিসেবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে যে বন কর্মকর্তা আছেন তারা একটা সময় বদলী হয়ে যাবেন। নতুন যারা আসবেন তারা ভেবে নেন ওই জমিগুলো ব্যক্তি মালিকানাধীন। পাহাড়ী এলাকায় বেেনর যত জমি দখল হয়েছে অনেকটা এই পদ্ধতিতেই হয়েছে বা হচ্ছে। 
 
বন বিভাগের ধলাপাড়া সদর বিট কর্মকর্তা মো.সফেরুজ্জামান বলেন, সামাজিক বনায়নের প্লটে আনারসের চাষ করা যায়। এটা তাদের চুক্তিনামায় আছে। আনারস আবাদ করার ফলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয় বলে জানান এই বিট কর্মকর্তা। 
বন বিভাগের ঘাটাইল ধলাপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা সাব্বির হোসাইন সমকালকে বলেন, বানিজ্যিক এবং ব্যক্তিগতভাবে বনের জমিতে আনারস এবং কলা চাষ সম্পূর্ণ বেআইনী। সামাজিক বনায়নের কোনো প্লটে যদি আনারসের চাষ হয়ে থাকে তবে বিনষ্ট করা হবে। আর এ কাজে যদি বনের কোনো কর্মকর্তা জড়িত থাকে তবে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ