টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক গৃহবধূকে হত্যাকরে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগতরাতে উপজেলার ধলপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাফর ইকবাল।হতভাগা গৃহবধূর নাম তন্নি আক্তার শান্তা (২৫)। সে জামালপুরের ঘোড়াদাপ ইউনিয়নের জোকা নিশিন্দা পাড়া গ্রামের সবুজ মিয়ার মেয়ে।
নিহত শান্তার নিকাটাত্মীয় মেহেদী হাসান জানান, তন্নি আক্তার শান্তার সাথে মধুপুর উপজেলার ধলপুর গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে আলমগীর হোসেনের সাথে ১২ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আনিকা (৬) ও আয়শা (২) নামের দুইসন্তান রয়েছে। আলমগীর গত ৫মাস আগে দ্বিতীয় বিয়ে করলে তাদের সংসারে অশান্তি নেমেআসে। দ্বিতীয় বিয়ের পর শান্তা বাবার বাড়িতে চলে গিয়েছিল। দুই মাস আগে আলমগীর পুনরায় তার প্রথম স্ত্রী শান্তাকে নিয়ে আসেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাত টার দিকে শান্তা তার বাবাকে ফোন করে বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেন। তখন শান্তার বাবা শুক্রবার সকালে নিয়ে আসার কথা বলেন। কিন্তু রাতেই আবার ফোন আসে শান্তা আত্মহত্যা করেছে। এই খবর পেয়ে তারা মধুপুর আসেন এবং থানায় খবর দেন।
শান্তার বাবা সবুজ মিয়া জানান, আমার মেয়ে আমাকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে ফোন করে নিয়ে যেতে বলে ছিল। সকাল হওয়ার আগেই মা শেষ। খবর শুইনা আইসা দেখি আমার মেয়ের হাতের রগকাটা। তখন আমার সন্দেহ হয়। পরে পুলিশকে খবর দেই।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাফর ইকবাল বলেন, আমরা বৃহস্পতিবার রাতে তন্নি আক্তার শান্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করি। তার হাতের রগ ও গলায় কাটার চিহ্ন পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে শান্তার বাবা সবুজ মিয়া বাদি হয়ে ৬ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন। তাদের মধ্য থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।