ঢাকা | 04 March 2026

ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী খাল খনন প্রকল্পের পরিদর্শন

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Mar 4, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ক্যাপশন: ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী খাল খননের  প্রাথমিক পরিদর্শন। ছবির ক্যাপশন: ক্যাপশন: ভূঞাপুরের গোবিন্দাসী খাল খননের প্রাথমিক পরিদর্শন।
ad728
  টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে কালের বিবর্তনে গোবিন্দাসী  খাল যেন ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে যাওয়া উপক্রম । দখল আর দূষণের চাপে প্রাণহীন হয়ে পড়েছিলো খালটি, হারিয়ে যাচ্ছিলো তার স্বাভাবিক রূপ,প্রবাহ ও যৌবন। শত বছরেরও পুরানো এই খালটি  উপজেলার যমুনা নদী থেকে শুরু হয়ে গোবিন্দাসী বাজার হয়ে অলোয়া ইউনিয়নের আমুলা গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। খালটির প্রস্থ ছিল ৫০ মিটার, যেখানে পালতোলা নৌকা থেকে শুরু করে ছোট ট্রলারও চলাচল করতো অনায়াসে, ছিল প্রচন্ড শ্রোত। কিন্তু এখন, স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে গড়ে তুলছে দোকান পাট, গুদাম ঘর আর বশতবাড়ী। ফলে খালটি এখন সঙ্কুচিত হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০ মিটারে। বর্তমানে গোবিন্দাসী খালটি যেন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নোংরা পানি, দুর্গন্ধ আর পঁচা আবর্জনায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে আশ পাশের মানুষের। বর্ষার সময় সামান্য বৃষ্টি হলেই দেশ খ্যাত গোবিন্দাসী বাজার ও আশ পাশের এলাকায় দেখা দেয় তীব্র জলাবদ্ধতা। এতে প্রভাব পড়ছে কৃষি-জমিতেও, নষ্ট হচ্ছে ফসল, বাধা গ্রস্ত হচ্ছে সেচ ব্যবস্থা। খাল খনন করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবী স্থানীয়দের। স্থানীয় ৮০ বছরের এক বৃদ্ধ জামাল হোসেন জানান, ১৯৬৫ সালে এই খাল দিয়ে শত শত নৌকা চলাচল করতো।এই জনদূর্ভোগের সংবাদ প্রতিদিনের সংবাদে প্রকাশিত হলে ভূঞাপুর উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে ভূঞাপুরে ৬ টি খাল খননের নামে  প্রাথমিকভাবে  গোবিন্দসী খালটির নাম প্রথমে দেওয়া হয়।আজ মঙ্গলবার(০৩ মার্চ)দুপুরে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সাথে নিয়ে খালটি পরিদর্শন করেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুর  রফিক জানান, ঐতিহ্যবাহী এই গোবিন্দাসী বাজারে সামান্য বৃষ্টি হলেই স্কুল ও দোকান গুলোতে দুর্গন্ধ যুক্ত পানি উঠে যায়। ফলে কোমল মতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত চরম ভাবে বিঘ্ন  ঘটে তাই খালটি খননের খুবই প্রয়োজন । ঔষধ ব্যবসায়ী আল মামুন বলেন,সামান্য বৃষ্টি হলে দোকান পাটে পানি উঠে হাজার হাজার টাকার মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। আমরা খাল খননের জন্য প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।ভূঞাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মো:সাব্বির রহমান  খাল খনন প্রকল্পের  কাজের পরিদর্শন কালে জানান,প্রকল্পের কাজে আমরা সকল প্রকার সহযোগীতা দেব। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসান খাল খনন প্রকল্পের  কাজের পরিদর্শন কালে  এই প্রতিবেদকে জানান,বর্তমান প্রধান মন্ত্রীর খাল খনন প্রকল্পে কাজ প্রাথমিকভাবে শুরু হচ্ছে। তারই ধারাবাহিতায় আমরা ভূঞাপুরে ৬ টি খাল খননের নাম দিয়েছিলাম প্রথমে গোবিন্দসী খালের কাজ হবে। খাল মুক্ত ও পুনরুদ্ধারে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে গোবিন্দসী খালটি পরিদর্শন করা হচ্ছে পর্যায়ক্রমে বাকি গুলোর কাজ করা হবে। পুনরুদ্ধারে প্রথমে নোটিস করা হবে, দ্রুতই দখল মুক্ত করে স্বাভাবিক প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। 



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ