ছবির ক্যাপশন:
টাঙ্গাইলের মধুপুর বনাঞ্চলে বিলুপ্ত প্রায় চাম্বল ফলের দেখা মেলেছে। বনবাসীদের অনেকেই ওই গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করে বিক্রি করে জীবীকা নির্বাহ করে থাকে। মধুপুর বনাঞ্চল ঘুরে এমনই চিত্র পাওয়া গেছে।
মধুপুরের লাল মাটির এই পাহাড়ী জমিতে আনারস, কলা, পেঁপে, আদা, হলুদ, লেবুসহ বিভিন্ন ফল ফসল আবাদ হয়ে থাকে। অর্থকরী ফসলগুলোর ভিড়ে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন ফলের গাছও বিদ্যমান ছিল। কিন্তু লাগামহীন বনবিনাসের ফলে ওই প্রাকৃতিক ফলের গাছগুলো হারিয়ে গেছে। সম্প্রতি মধুপুর বনের রাজাবাড়ী এলাকায় বিলুপ্ত প্রায় চাম্বল গাছের দেখা মেলে। যে গাছে ফল ধরে আছে। পাহাড়ী মানুষের তাকে চাম কাঠাল বলে থাকে।
বনবিভাগ সূত্র জানায়, চাম কাঠাল অনেকটা কাঁঠালের মতোই তবে সাইজে অনেক ছোট। স্বাদও ভিন্ন। তবে সুস্বাদু। আগে অনেক জায়গায় এই ফলের দেখা মিললেও এখন তা বিলুপ্তপ্রায়। তবে গ্রীষ্মকালে মধুপুরে পাহাড়িয়া এলাকায় বিভিন্ন স্থানে অন্যন ফলের সাথে চাম কাঠাল দেখা পাওয়া যায়। এ ফল শুধু মধুপুর বাজারে ও জলছাত্র বাজারে দেখা পাওয়া যায় চাম কাঁঠালের। বাজারে অন্যান্য ফলের সঙ্গে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিলুপ্তপ্রায় এই ফলটি। ফলটি যাদের কাছে পরিচিত তারা আগ্রহ নিয়েই কিনছেন, আবার অনেকে ফলটি কি ফল তা জনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
মধুপুর হাটে বেরিবাইদ গ্রামের রনি মিয়া বলেন চাম কাঁঠাল বিক্রি করতে দেখা যায়। সেখানে অনেকে ভিড় জমিয়েছেন। অনেকে ফলটি সংগ্রহ করছেন। আবার অনেকে ফল সম্পর্কে জানার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এ সময় নরুল ইসলাম বলেন, এসব ফল পাহাড়ি এলাকা থেকে আনা হয়। এখন চাম কাঁঠালের সময়। দাম অন্যান্য ফলের চেয়ে কম। প্রতিটি চামকাঠাল ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জাতীয় উদ্যান সদর বিটের ডেপুটি রেঞ্জার মো: মোশাররফ হোসেন জানান, রাজাবাড়ী বিটে ৩ থেকে চার হাজার চামকাঠাল বা চাম্বল গাছ রয়েছে। প্রায় প্রতিটা গাছের উচ্চতা ১০০/১২০ ফুট লম্বা। আর বেস রয়েছে ৮-১০ফিট পর্যন্ত হয়ে থাকে। চাম্বল গাছে এই ফল ধরে প্রচুর পরিমাণে। এই চাম কাঁঠাল আমাদের দেশের কাঁঠালের মতই। কিন্তুু কিছুটা টক হয়ে থাকে। খেতে অনেক সুস্বাদু।
মধুপুরে এলাকায় আজিজ মিয়া জানান ‘চাম কাঁঠাল অনেক সুস্বাদু। প্রতি বছরই আমি ফলটি কেনার অপেক্ষায় থাকি। আজ ১০টি চাম কাঁঠাল কিনেছি। প্রতিটি চাম কাঁঠাল ২৫ টাকায় কিনেছি।
আকাশী গ্রামের দুলাল মিয়া বলেন চাম কাঁঠালের আকার ছোট গোল হয়ে থাকে। এই কাঁঠালের কোষগুলোও ক্ষুদ্র। কিন্তু খুব সুস্বাদু। টক এবং মিষ্টি স্বাদের হয়ে থাকে ‘চাম কাঁঠাল’। পাহাড়ি এলাকা ছাড়া এই গাছ পাওয়া যার না পাহাড় ছাড়া ফলে সহজে এই গাছের দেখা মেলে না।
কৃষিবিদ খায়রুল ইসলাম জানান, আমাদের মধুপুর উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় এ ফলের দেখা মেলে। বর্তমানে এ ফল বিলুপ্তির পথে। চামকাঁঠাল কাঁঠাল-জাতীয় একটি বন্য প্রজাতির ফল। এতে ভিটামিন এ, সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন এবং প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার রয়েছে। এটি নিয়মিত খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং হজমে সহায়তা হয়।
দোখলা এলাকায় মো: হারুন জানান, চাম কাঠাল গাছ আকারে অনেক বড় হয়। এ গাছ ৬০থেকে ৮০ ফুট লম্বা হয়ে থাকে। এ ফল ধরে পাতার কাছে ফল পাড়তে অনেক কষ্ট হয় সহজে গাছের উঠা যার না দড়ি বা বাশ দিয়ে গাছে উঠে হয়। এ চামকাঠাল গাছ বেশি দেখা মেলে আমাদের মধুপুর উপজেলার জলছাত্র বাজারে , টেলকি, দোখলা, গায়রা, সহ বিভিন্ন পাহাড়ি রাস্তা পাশে দেখা মিলে।
উপজেলা কৃষি অফিসার রকিব আল রানা জানান, অন্যান্য ফলের মত এ ফল তেমন দেখা যায় না। এ ফল পাহাড়ে কিছু কিছু অঞ্চলে দেখা যায়। এ ফল দেখতে অনেকটা কাঁঠালের মত। অনেক সুস্বাদু প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন রয়েছে। চামকাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে। এটি রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি ও ত্বক সুস্থ্য রাখে। এ ফলের ভিতরে বীজ প্রক্রিয়া করে খাওয়া যায়।