বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে কান্দিপাড়া বাজারসংলগ্ন প্রস্তাবিত সদর দপ্তরের স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বিভাগীয় কমিশনার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস, গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইউসুফ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমির সালমান রনি এবং প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার প্রস্তাবিত স্থানের ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বাজারকেন্দ্র এবং ভবিষ্যতে প্রশাসনিক কমপ্লেক্স নির্মাণের সম্ভাব্যতা বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও তিনি প্রয়োজনীয় তথ্য নেন।
বিভাগীয় কমিশনারের আগমনকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই নয়াবাড়ি মাঠে জড়ো হন দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের আট ইউনিয়নের হাজার হাজার নারী-পুরুষ। তাঁদের হাতে ছিল বিভিন্ন দাবি-সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন। সবচেয়ে আলোচিত স্লোগান ছিল— “গেজেট হইছে যেইখানে, উপজেলা হবে সেইখানে।” স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, কৃষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সরকারি গেজেট অনুযায়ী নয়াবাড়ি মৌজাতেই উপজেলা সদর স্থাপনের পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন।
স্থানীয়দের দাবি, উস্থি ইউনিয়নের ১৪৩ নম্বর জে এলভুক্ত নয়াবাড়ি মৌজা দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের ভৌগোলিক কেন্দ্রবিন্দু। এখানে উপজেলা সদর প্রতিষ্ঠিত হলে আট ইউনিয়নের তিন লক্ষাধিক মানুষ তুলনামূলক সমান দূরত্বে থেকে সহজে প্রশাসনিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ কমবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ভূমি ও অন্যান্য সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।
পরিদর্শন শেষে বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবির উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের দাবি, সরকারি গেজেট এবং এলাকার বাস্তবতা আমি সরেজমিনে দেখেছি। জনগণের স্বার্থ ও সরকারি বিধি-বিধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”
তাঁর এ বক্তব্যের পর উপস্থিত জনতার মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। হাজারো মানুষ আনন্দ মিছিল বের করে দ্রুত প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরুর দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গফরগাঁও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. ইসহাক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ. কে. এম. আনছারউদ্দিন, গফরগাঁও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিএনপি নেতা আব্দুস ছালাম বেপারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের বিভিন্ন ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ।
দক্ষিণ গফরগাঁওবাসীর প্রত্যাশা, সরকারি গেজেটের আলোকে নয়াবাড়ি মৌজাতেই উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং দীর্ঘদিনের জনদাবির বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের উন্নয়ন ও জনসেবার নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটবে।