ঢাকা | 17 August 2026

চার বছরও হয়নি সংযোগ সড়ক ।। চরম দুর্ভোগে সখীপুরের হাজারো মানুষ

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Aug 17, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া গ্রামে ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির নেই সংযোগ সড়ক। ছবির ক্যাপশন: টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া গ্রামে ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটির নেই সংযোগ সড়ক।
ad728
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া গ্রামে ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু চার বছর ধরে পড়ে আছে সংযোগ সড়কের অভাবে। সেতুর দুই পাশের রাস্তা কাঁচা ও নিচু হওয়ায় বর্ষার পানিতে তা ডুবে যায়। ফলে কোটি টাকার এই অবকাঠামো নির্মাণের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে। যোগাযোগের এ বেহাল দশায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন গজারিয়া ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ রোগীরা।

জানা গেছে, গ্রামীণ রাস্তার ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। গজারিয়া ইউনিয়নের গজারিয়া থেকে মুচারিয়া পাথার যাওয়ার সড়কে গনি মাস্টারের বাড়ির পশ্চিম পাশে গুহালিয়া খালের ওপর এই ১৫ মিটারের সেতুটি তৈরিতে মোট ব্যয় হয় ৬৭ লাখ ৬৫ হাজার ৪২৩ টাকা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করে টাঙ্গাইলের মধুপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'মেসার্স এম কে ট্রেডার্স'।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মিত সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কটি এখনো কাঁচা ও বেশ নিচু। সামান্য বর্ষা বা ভারী বৃষ্টিতেই পথটি তলিয়ে যায় এবং খানাখন্দে পরিণত হয়। ফলে সেতুটি দাঁড়িয়ে থাকলেও তার ওপর দিয়ে কোনো ভারী যানবাহন তো দূরের কথা, স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলাচল করাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। কৃষিপ্রধান এই এলাকার অধিকাংশ মানুষ কলা, লেবু ও ধানসহ নানা ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদন করে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় এসব পণ্য পরিবহনে তাদের অতিরিক্ত পরিশ্রম ও অর্থ গুনতে হচ্ছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কলার কাঁদি ঠেলাগাড়িতে তুলে মাইলের পর মাইল হেঁটে পাশের বাটাজোড় হাটে নিয়ে যাচ্ছেন। কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ার জন্য গজারিয়া চৌরাস্তা বা বাঘবেড় হয়ে অন্তত চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার পথ অতিরিক্ত ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

দুর্ভোগের কথা জানাতে গিয়ে স্থানীয় স্কুলশিক্ষক কামরুল হাসান বলেন, 'এই রাস্তা দিয়ে জরুরি কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া যায় না। পরিস্থিতি এমন যে স্বাভাবিক সময়েও হেঁটে সেতুতে ওঠা বেশ কষ্টকর।'
শামীম আল মামুন নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, 'গজারিয়া ইউনিয়নের ৩, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের একমাত্র স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পাথারপুর গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিক। কিন্তু সংযোগ সড়ক ভালো না থাকায় চার-পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে সেখানে যেতে হচ্ছে। অবিলম্বে সংযোগ সড়কে মাটি ভরাট করা হলে এই এলাকার মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হতো।'

নিজের কষ্টের কথা জানিয়ে স্থানীয় কলা বিক্রেতা চান মাহমুদ বলেন, 'বিভিন্ন বাড়ি থেইকা কলা আর কলাপাতা কিনা ঠেলাগাড়ি ও সাইকেলে কইরা বাটাজোড় হাটে লইয়া যাই। এই কলা বেচেই সংসার চলে। রাস্তার অভাবে খুব কষ্ট হয়। ব্রিজের দুই পাশে মাটি ভরাট কইরা রাস্তাটা ঠিক কইরা দিলে আমাগো হাটে যাইতে খুব সুবিধা হইবো, সময়ও কম লাগবো।'

এ বিষয়ে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'সেতুর দুই পাশের রাস্তা তুলনামূলক নিচু হওয়ার কারণেই আপাতত সেতুটি পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে মাটি ভরাট করে রাস্তাটি উঁচু ও যাতায়াতের উপযোগী করার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।'
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিশ্রুতি নয়-দ্রুত যেন সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে তাঁদের চার বছরের দীর্ঘ দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হয়।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ