ঢাকা | 14 March 2026

দেলদুয়ারের তিন গ্রামে বাঁশশিল্পে বিপ্লব ॥ পণ্য যাচ্ছে ১২ দেশে

স্টাফ রিপোর্টার, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Mar 14, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবির ক্যাপশন:
ad728
এক সময় বাঁশ মানেই ছিল কেবল ঘরের বেড়া কিংবা সাধারণ ঝুড়ি-কুলা। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে সেই বাঁশই এখন শৈল্পিক ছোঁয়ায় হয়ে উঠেছে আভিজাত্যের প্রতীক। টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার তিনটি গ্রামের মানুষের হাতের জাদুতে বাঁশ রূপান্তরিত হচ্ছে বহুমুখী ও নান্দনিক সব শৌখিন পণ্যে। পরিবেশবান্ধব এই কুটিরশিল্প এখন শুধু দেশের ড্রয়িং রুমেই সীমাবদ্ধ নেই, সীমানা ছাড়িয়ে পাড়ি জমাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকার বাজারেও
দেলদুয়ারের ডুবাইল ইউনিয়নের বর্ণী, প্রয়াগজানী ও কোপাখী- এই তিনটি গ্রাম যেন এখন একেকটি জীবন্ত কারখানা। গ্রামের মেঠোপথ দিয়ে হাঁটলেই কানে আসে বাঁশ কাটার শব্দ আর চোখে পড়ে কারিগরদের একাগ্রতা। এখানে নারী-পুরুষের ব্যবধান ঘুচেছে; প্রতিটি বাড়িতেই কেউ বাঁশ চিলছেন, কেউ নকশা বুনছেন, আবার কেউ ব্যস্ত ফিনিশিংয়ের কাজে।
এই শিল্প বিপ্লবের নেপথ্যের কারিগর আন্তর্জাতিক কারুশিল্পী নূরুন্নবী। বর্ণী দক্ষিণ পাড়ায় তিনি গড়ে তুলেছেন 'নূরুন্নবী ব্যাম্বো ক্র্যাফট'। তাঁর এই উদ্যোগ কেবল নিজের
ভাগ্য ফেরায়নি, কর্মসংস্থান করেছে প্রায় ৬০-৭০ জন স্থায়ী শ্রমিকের। এ ছাড়াও এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবার বাড়িতে বসে পণ্য তৈরি করে তাঁর কারখানায় সরবরাহ করেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের ঢেউ তুলেছে।
সরেজমিনে কারখানায় গিয়ে দেখা যায় এক অপূর্ব শৈল্পিক আবহ। সেখানে তৈরি হচ্ছে গৃহসজ্জার সামগ্রী (বাহারি টেবিল ল্যাম্প, জানালার পর্দা, ড্রিংকস বোতলের ঝাড়)। নিত্যব্যবহার্য পণ্য (প্লেস ম্যাট, ট্রে, টিস্যু বক্স, ফলের ঝুড়ি ও মোড়া)। শৌখিন পণ্য (গয়নার বাক্স, নান্দনিক বাস্কেট ও ওয়েস্ট পেপার বিন)। এসব পণ্যের বিশেষত্ব হলো এদের স্থায়িত্ব ও পরিবেশবান্ধব গুণ। শৌখিন ব্যবহারকারী আব্দুল্লাহ গফুরের মতে, বিশেষ করে রাতের আলো-আঁধারিতে বাঁশের তৈরি ল্যাম্পশেডগুলো ঘর বা আঙিনায় যে মায়াবী পরিবেশ তৈরি করে, তা আধুনিক প্লাস্টিক বা কাঁচের সামগ্রীতে পাওয়া অসম্ভব।
কারখানার কর্মচারী সিরাজুল ইসলাম জানান, রাজধানী ঢাকার অভিজাত শোরুমগুলোতে তাঁদের পণ্যের নিয়মিত চাহিদা রয়েছে। তবে সবচেয়ে আশার কথা হলো, বিভিন্ন রপ্তানিকারকের মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ১০ থেকে ১২টি দেশে টাঙ্গাইলের এই বাঁশজাত পণ্য সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে। অর্থাৎ, বাংলার গ্রামীণ মেধা এখন বৈশ্বিক বাণিজ্যের অংশ।
উদ্যোক্তা নূরুন্নবী বলেন, আমাদের সব পণ্য শতভাগ পরিবেশবান্ধব। প্লাস্টিকের ভিড়ে আমরা যখন পরিবেশ হারাচ্ছি, তখন এই বাঁশশিল্প হতে পারে তার মোক্ষম বিকল্প। গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রসার এবং কারিগরদের জীবনমান উন্নয়নে সচেতন ক্রেতাদের এই দেশীয় পণ্যের দিকে ফিরে আসা উচিত।”
টাঙ্গাইল জেলা বিসিক কর্মকর্তা শাহনাজ বেগম এই শিল্প নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাঁশ ও বেত শিল্পের প্রসারে আমরা বিসিকের পক্ষ থেকে কারিগরি পরামর্শ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সার্বিক সহযোগিতা দিচ্ছি। মানুষের পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় টাঙ্গাইলের এই শিল্পের সামনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ