ছবির ক্যাপশন:
টাঙ্গাইলের মধুপুরে চাঁদপুর রাবার বাগান এলাকায় শটগান দিয়ে গুলির ভয় দেখিয়ে একটি দরিদ্র গারো পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় রাবার বাগানের আনসার সদস্যদের হাতে এক গারো নারী হেনস্তার শিকার হন বলে জানা গেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আর্থিক ও সরকারি সহায়তা প্রদান করেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ি) আসনের সংসদ সদস্য এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম-এর পরামর্শক্রমে উপজেলা প্রশাসন শিবলী মাংসাং-এর পরিবারকে ১৬টি ঢেউটিন ও ঘর মেরামতের জন্য নগদ অর্থ প্রদান করে।
জানা যায়, গত ৯ মার্চ মধুপুরের চাঁদপুর রাবার বাগানের কালাপাহাড় এলাকায় ভূমিহীন শিবলী মাংসাং-এর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। শিবলী পাঁচ বছর ধরে ১১ সন্তান ও স্বামীসহ সেখানে বসবাস করছেন। ১৩ সদস্যের এই বড় পরিবারের থাকার সুবিধার জন্য তিন দিন আগে একটি ছোট ছাপড়া ঘর নির্মাণ করেন তারা।
অভিযোগ উঠেছে, বন শিল্প উন্নয়ন সংস্থার ফিল্ড অফিসার বিজন কুমার সশস্ত্র আনসারসহ ২০-২৫ জন স্টাফ নিয়ে গত সোমবার বাড়িতে চড়াও হন। তারা নতুন ছাপড়া ঘরটি ভেঙে ফেলেন এবং ফলবান গাছ কেটে ফেলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিবলী মাংসাং বাধা দিতে গেলে আনসার সদস্যরা তার সাথে অশোভন আচরণ করেন। এক আনসার সদস্য তাকে গুলি করার জন্য শটগান তাক করলেও অন্যদের ইঙ্গিতে গুলি থেকে বিরত থাকেন। এ সময় শিবলী ও তার সন্তানদের ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
শিবলীর স্বামী রুমেন খুবি আক্ষেপ করে বলেন, প্রভাবশালীরা রাবার বাগানের জমি দখল করে আনারস ও কলা বাগান করলেও তাদের উচ্ছেদ করা হয় না, অথচ তাদের মতো অসহায় পরিবারকে উচ্ছেদ ও গুলির ভয় দেখানো হচ্ছে। চাঁদপুর রাবার বাগানের আনসার ক্যাম্পের সদস্যরা দাবি করেছেন, উত্তেজনার মুহূর্তে শটগান তাক করা হয়েছিল শুধু ভয় দেখানোর জন্য।
চাঁদপুর রাবার বাগানের ম্যানেজার আমান উল্লাহ আমান জানান, নতুন ঘর তুলতে বাধা দেওয়া হলেও উচ্ছেদের চেষ্টা ছিল না। তবে বনশিল্প উন্নয়ন সংস্থা মধুপুর জোনের মহাব্যবস্থাপক ইসমাইল হোসেন বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, আনসার সদস্যরা বাড়াবাড়ি করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জুবায়ের হোসেন ও মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জাফর ইকবাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে পুনর্বাসন করা হবে এবং বেপরোয়া আচরণের জন্য সংশ্লিষ্ট আনসার টিমকে বদলির সুপারিশ করা হয়েছে।