সড়ক ও সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার চাঁনপাড় গ্রামের বাসিন্দারা। যাতায়াতের অস্বস্তির কারণে অনীহা দেখা দিয়েছে এলাকায় আত্মীয়তা গড়তে। এমনকি ছেলে-মেয়েদের বিয়ে-শাদীতেও তৈরি হচ্ছে বাধা।
স্থানীয়রা অভিযোগ, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এই গ্রামে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। একটি সেতুর অভাব এবং কাঁচা রাস্তাগুলোর বেহাল অবস্থার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রতিদিন। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদায় ভরে যায় রাস্তা, হয়ে পড়ে চলাচলের অনুপযুক্ত। ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত।
নাগরপুরের বাসিন্দা শেফালী জানাচ্ছিলেন, কেউ অসুস্থ হলে তাকে বাঁশ দিয়ে ‘শাং’ বানিয়ে বহন করতে হয়। বর্তমান সময়ে এমন রাস্তার থাকা কল্পনাও করা যায় না। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তার।
আরেক বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন বলছিলেন, জেলার মধ্যে এমন অবহেলিত গ্রাম আর থাকার কথা নয়। বর্তমান সংসদ সদস্যও এ এলাকার উন্নয়নে কী করবেন তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।
আব্দুল খালকের ভাষ্য, বিয়ে হয়েছে তার দুই মেয়ের। কিন্তু এই রাস্তার বেহাল দশার কারণে সহজে আসতে চান না জামাই ও আত্মীয়রা। ছোট ভাইয়ের মেয়ের বিয়ের কথাবার্তা প্রায় ঠিক। আত্মীয়রা বাড়িতে এসেও রাস্তার দুরবস্থার কারণে পরে গড়িমসি করে সরে যান। সেদিন বৃষ্টি থাকায় পরিস্থিতি ছিল আরও ভয়াবহ।
ফকির মাহমুদের দাবি, একটি সেতু নির্মাণ হলেই সহজ হবে রাস্তার উন্নয়ন। সেতু ও রাস্তার অভাবে ভোগান্তিতে রয়েছেন হাজারো মানুষ।
মিনহাজ উদ্দিনের অভিযোগ, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে থমকে গেছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ সামগ্রিক উন্নয়ন। বর্ষা মৌসুমে রাস্তার মাঝখানের খালে পানি ওঠলে পারাপার হতে হয় নৌকায়। কাঁচা রাস্তা সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় দুর্ভোগে যেন নিত্যসঙ্গী। কষ্ট করে স্কুলে যেতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরাও।
নুসরাত জাহান ভেওয়া উল্লেখ করেছেন, যান্ত্রিক কোনো যানবাহন চলতে পারে না এখানে। তাই চলাচল করতে হয় ঘোড়ার গাড়ি বা পায়ে হেঁটে। এতে দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটছে।
‘যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় এলাকার ছেলে-মেয়েদের ভালো সম্বন্ধ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। যেখানে যোগাযোগ ভালো, সেখানে মানুষের আগ্রহও বেশি থাকে,’—যোগ করেছেন তিনি।
মোকনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম জানাচ্ছিলেন, স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বারবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে নাগরপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী ইফতেখার সারোয়ার ধ্রুবের আশ্বাস, জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুতই নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।