টাঙ্গাইলের মধুপুর গড় এলাকার মাটি ও আবহাওয়া কৃষি ফসল চাষাবাদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। সমতল ভূমির তুলনায় উঁচু হওয়ায় এ অঞ্চলের জমিতে বন্যার পানি ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কম। ফলে সারা বছরই চাষাবাদ করে কৃষকরা ভালো ফলন পাচ্ছেন।
এ এলাকার কৃষকরা নিচু বিল-বাইদের জমিতে ধান, পাট, গমসহ বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি উঁচু জমিতে আনারস, কলা, পেঁপে, আদা, কচু ও হলুদের মতো অর্থকরী ফসল চাষ করে আসছেন। মধুপুর গড়ের প্রধান অর্থকরী ফসল আনারস ও কলা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কৃষকরা ফসলের বৈচিত্র্য আনতে ঝুঁকছেন বিদেশি ফল ড্রাগন চাষে।
বর্তমানে উপজেলার আউশনারা, কুড়াগাছা, অরণখোলা, মহিষমারা, বেরিবাইদ, শোলাকুড়ি ও ফুলবাগ চালা ইউনিয়নের অনেক কৃষক ড্রাগন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। আনারসের পাশাপাশি কফি, কাজুবাদাম, কমলা ও মাল্টার মতো নতুন নতুন ফসলও চাষ শুরু হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে মধুপুরে ২৭৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ হয়েছে। এতে ২৭৫ জন কৃষক যুক্ত রয়েছেন। এ থেকে ১৬৫ থেকে ১৭০ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি টাকা।
মধুপুরে প্রথম ড্রাগন চাষের উদ্যোগ নেন হলুদিয়া গ্রামের মোশারফ নামের এক যুবক। ২০১৪ সালে প্রবাসে থাকা অবস্থায় একটি কৃষি বিষয়ক টেলিভিশন অনুষ্ঠান দেখে তিনি উদ্বুদ্ধ হন। দেশে ফিরে নিজের বাড়ির পাশে পতিত জমিতে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ধনবাড়ি হর্টিকালচার থেকে চারা সংগ্রহ করে ৬০ শতাংশ জমিতে ৭০০টি ড্রাগন গাছ রোপণ করেন। ১৫০টি সিমেন্টের খুঁটিতে গাছগুলো তুলে দেন। ১৪ মাস পর ফল আসতে শুরু করে এবং দুই বছর পর পূর্ণাঙ্গ ফলন পান।
মোশারফ জানান, খরচ বাদ দিয়ে তিনি ভালো লাভ করেছেন। বর্তমানে তার ৯ বিঘা জমিতে ড্রাগনের বাগান রয়েছে। প্রতি কেজি ড্রাগন স্থানীয় বাজার ও ঢাকায় ১৫০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।ইদিলপুর এলাকার গোলাম মোস্তফা, সাধুপাড়া এলাকার আনিছুর রহমান হীরা, মনির হোসেনসহ আরও অনেক কৃষক বড় আকারের ড্রাগন বাগান গড়ে তুলেছেন। এসব বাগানে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এখানকার ড্রাগন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
কাঁকড়া গুনি, থানার বাইদসহ আশপাশের গ্রামগুলো ঘুরে দেখা যায় সারি সারি ড্রাগন বাগান। সবুজে ঘেরা এসব বাগান এলাকাকে দিয়েছে এক অপরূপ দৃশ্য। থানার বাইদ এলাকার কৃষক সুলতান মাহমুদ বড় পরিসরে ড্রাগন চাষ করে ঢাকায় বাজারজাত করছেন।
মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা বলেন, মধুপুরের মাটি কৃষি ফসল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বিদেশি ফল ড্রাগন চাষ দিন দিন বাড়ছে। এখানকার উৎপাদিত ড্রাগন এখন দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।