টাঙ্গাইলের সখীপুরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি (অব্যহতিপ্রাপ্ত) শাহজাহান সাজু ও সাধারণ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসেদ মাস্টারসহ ছয় নেতা একযোগে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগ পত্রে তাঁরা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। আওয়ামী দোসরদের দলীয় কার্যক্রমে সামনের সারিতে এনে পুনর্বাসনের প্রতিবাদ করায় নেতাদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ ও ও সাংগঠনিক আচরণের অভিযোগও আনা হয়েছে আযম খানের বিরুদ্ধে।
পদত্যাগ করা অন্য নেতারা হলেন- উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান, গজারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ, বহুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ ও উপজেলা বিএনপির সদস্য আশরাফুল ইসলাম বাদল।
মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচ নেতার পদত্যাগপত্র ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে রাতেই ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। আজ বেলা দুইটার দিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) শাহজাহান সাজু একই অভিযোগ এনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ একটি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর অনিবার্য কারণ দেখিয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাজাহান সাজুকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয় টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি। এরপর থেকেই পদত্যাগকারী নেতারা শাহজাহান সাজুকে স্বপদে পুনর্বহাল করার দাবি করে আসছিলেন। তাঁকে পুনর্বহাল না করার কারণেই তাদের এমন সিদ্ধান্ত বলে বিএনপির একটি পক্ষ দাবি করেছেন। এ ছাড়া দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের একযোগে পদত্যাগ বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খানকে বেকায়দায় ফেলতে পারে বলে দাবি করেন বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী।
পদত্যাগকারী উপজেলা বিএনপির সভাপতি (অব্যাহতি প্রাপ্ত) শাজাহান সাজু বলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খানের আওয়ামী পুনর্বাসন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে অশালীন ভাষায় কথা বলার প্রতিবাদ স্বরূপ আমি দলীয় সর্বপ্রকার পদ-পদবী থেকে পদত্যাগ করেছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শিকদার মুহাম্মদ ছবুর রেজা বলেন, ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি নজরে এসেছে। তবে পত্রগুলো অফিসিয়ালি এখনও আমাদের কাছে পৌঁছেনি। এ বিষয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।