সাইফুল ইসলাম সানি, সখীপুর (টাঙ্গাইল)
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর বেহালদশা। জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ সেবা। কয়েকটি ভবনের অবস্থা একেবারেই নড়বড়ে বলে ঘর ভাড়া করে অগত্যা অব্যাহত রাখা হয়েছে প্রান্তিক পর্যায়ের সেবাটি। উপজেলার অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিকে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। তবে রয়েছে তীব্র ওষুধ সংকট। দীর্ঘদিন ধরে এসব ক্লিনিকে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ না থাকায় সেবা নিতে আসা রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ব্যাহত হচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা। কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) ও সেবা গ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সরেজমিন ঘুরে ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৩৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ২৪টির ভবন ঝুঁকিপূর্ণ, এরমধ্যে ১০টির অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ক্লিনিকগুলো হলো- বিসিবাইদ কমিউনিটি ক্লিনিক, কালিদাস কমিউনিটি ক্লিনিক, লাঙ্গুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিক, কচুয়া কমিউনিটি ক্লিনিক, বড়বাইদ পাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক, কীর্তনখোলা কমিউনিটি ক্লিনিক, ঘেচুয়া কমিউনিটি ক্লিনিক, মোচারিয়া পাথার কমিউনিটি ক্লিনিক, কৈয়ামধু কমিউনিটি ক্লিনিক এবং গোহাইলবাড়ি কমিউনিটি ক্লিনিক। লাঙ্গুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিক, বিসিবাইদ কমিউনিটি ক্লিনিক এবং বড়বাইদপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে বিকল্প ঘর ভাড়া নিয়ে। ক্লিনিক ভবনগুলোর কোনোটির দেয়ালে ফাটল, কোনোটির ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে আবার কোনোটির ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে স্বাস্থ্য সেবা। যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এসব ক্লিনিকে শিশু, গর্ভবতী মা ও সাধারণ রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া মাসে একদিন ইপিআই ও টিটি টিকা দেওয়ার কার্যক্রমও চালানো হয় এসব ক্লিনিকে।
কালিদাস কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার নির্মল চন্দ্র প্রগতির আলোকে জানান, প্রতিদিন অর্ধ শতাধিক রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে কমিউনিটি ক্লিনিকে আসত। কিন্তু বর্তমানে ওষুধ না থাকায় তাঁদের ফিরে যেতে হচ্ছে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ না থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে হচ্ছে।
ওই কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন পুষ্পরাণী (৪৫) ও কিরণমালা (৪০) নামের দুই নারী। তাঁরা বলেন, হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ আসেনা। তবুও মাঝেমধ্যে আইসা দেইখা যাই। আমরা গরিব মানুষ, ওষুধ কিনমু কেমনে? ট্যাহা তো নাই!
উপজেলা হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, চাহিদা অনুযায়ী ওষুধের সরবরাহ না থাকা এবং ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমরা ঠিকমতো সেবা দিতে পারছিনা। অতি দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো পুনঃনির্মাণের দাবী জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, সারা দেশেই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওষুধ সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি কিছু দিনের মধ্যেই ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তিনি যোগ করেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পুনঃনির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।