বিশেষ প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে খান পরিবার আর সিদ্দিকী পরিবারের দাপট অনেক দিনের। এ দুই পরিবারের একাধিক সদস্য জেলার বিভিন্ন আসনে বহুবার এমপি বা মন্ত্রী হয়েছেন। জেলার রাজনীতি ছাড়াও সফলতার সাথে জাতীয় রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন তারা। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিদ্দিকী পরিবারের সদস্য আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বিন্দ্বিতা করেননি। তবে বড় ভাই আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী টাঙ্গাইল ৪ (কালিহাতী) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করে বিএনপির প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিনের কাছে হেরে গেছেন। অপরদিকে খান পরিবারের সদস্য এবং বিএনপির সাবেক মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে টাঙ্গাইল-৪ (ঘাটাইল) আসনে বিএনপির ওবায়দুল হক নাসিরকে পরাজিত করে এমপি হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে টাঙ্গাইলের ৮টি আসনে বিজয়ী ৭জনই বিএনপির। অপরজন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী। সেই বিজয়ী এমপিই হলেন লুৎফর রহমান খান আজাদ।
৯৬ সালের নির্বাচনে টাঙ্গাইল ৪ আসন থেকে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং টাঙ্গাইল ৮ আসন(বাসাইল-সখিপুর) থেকে অনুজ আব্দুল কাদের সিদ্দিকী নৌকা প্রতীকে এমপি নির্বাচিত হয়ে সারা দেশে সাড়া ফেলেন। এর আগে ভারতে প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে ৯১ সালের নির্বাচনে টাঙ্গাইল- ৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনে নৌকা প্রতীকে পরাজিত হন। ৯৬ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হন। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের সাথে মতবিরোধের কারণে ৯৯ সালে সংসদ থেকে পদত্যাগ করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ গঠন করেন। এ আসনে ৯৯ সালের উপনির্বাচনে হেরে গেলেও ২০০১ সালের নির্বাচনে গামছা প্রতীকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবার হেরে যান। ২০১৮ সালের নির্বাচনে কন্যা ব্যারিষ্টার কুড়ি সিদ্দিকী মহাজোটের প্রার্থী হিসাবে ধানের শীষ নিয়ে হেরে যান। আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ৭৩, ৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৪ সালে বিতর্কিত বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে তিনি মন্ত্রীত্ব এবং দলীয় পদ হারান।
এদিকে লতিফ সিদ্দিকী জেলে থাকাবস্থায় ৮৬ সালের নির্বাচনে এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে স্ত্রীয় লায়লা সিদ্দিকী বিজয়ী হন। অপর দিকে টাঙ্গাইলে আওয়ামী পরিবার হিসাবে খ্যাত ঘাটাইল উপজেলার খান পরিবারের শামসুর রহমান খান শাহজাহান তিনবার, তার ভাই আতাউর রহমান খান একবার এবং ভাতিজা আমানুর রহমান খান রানা তিনবার টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। খান পরিবারের অপর সদস্য লুৎফর রহমান খান আজাদ ৯১ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ৯১, ৯৬ এবং ২০০১ সালে ধানের শীষে বিজয়ী হয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এবারো বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে ধানের শীষকে পরাজিত করেন তিনি। বলা হয়ে থাকে খান পরিবার ৭০ থেকে ২৬ পর্যন্ত পালাক্রমে রাজত্ব করছেন।
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলে আরেকটি নতুন রেকর্ড গড়েছেন পিন্টু পরিবার। কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক উপমন্ত্রী এডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর ভূঞাপুর) আসন থেকে ৯১, ৯৬ এবং ২০০১ সালে বিজয়ী হয়ে উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি টানা ১৬ বছর জেলে থাকার পর জুলাই অভ্যুত্থানের পর কারামুক্ত হন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর- ভূঞাপুর) আসন থেকে ১ লক্ষ ৯৮ হাজার ২১৩ ভোট পেয়ে এমপি হন। তিনি জিয়াউর রহমানের আর্শীবাদে রাজনীতি শুরু করে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পিন্টুর সুলতান সালাউদ্দীন টুকু ছাত্র দলের সভাপতি ছিলেন। পরে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালনের পর বিএনপির প্রচার সম্পাদক হন। এবার টাঙ্গাইল -৫ (টাঙ্গাইল সদর) আসনে ১ লক্ষ ৩১ হাজার ২৭৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। একই সাথে দুই ভাই একই দল থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মী ও ভক্তদের মধ্যে এখন আনন্দের বন্যা বইছে। তাদের নিজ গ্রাম গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের গুলিপেচা গ্রামে মিষ্টি বিতরণ হয়। মসজিদে তাদের দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সিদ্দিকী পরিবারের পর এবার গোপালপুরের পিন্টু পরিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশে নতুন রেকর্ড গড়ায় বুক ফুলিয়ে গর্ব করছেন অনেকেই।