সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের ভালোবাসার জবাব দিতে মাঠ পর্যায়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। নির্বাচিত হওয়ার পরদিন থেকেই তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জুমআর নামাজ শেষে তিনি টাঙ্গাইল বড় মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। এসময় তিনি সবার কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন। এরপর তিনি শহরের বড় কালীবাড়ি মন্দিরে গিয়ে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের এমপি হয়েই জনতার সাথে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে টাঙ্গাইলের উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
'এমপি নয়, আমি আপনাদের সেবক হতে এসেছি' -এই বার্তাকে সামনে রেখে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এখন ঘুরে বেড়াচ্ছেন গ্রামে গ্রামে। নির্বাচনী প্রচারণার ক্লান্তি ভুলে তিনি ভোটারদের ধন্যবাদ জানাতে ইউনিয়নের অলিতে-গলিতে যাচ্ছেন।
এদিন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের যোগনী বাজারে পথসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। সভায় টুকু বলেন, 'আপনারা আমাকে যে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন, তার ঋণ আমি কাজের মাধ্যমে শোধ করতে চাই। টাঙ্গাইল সদরের প্রতিটি গ্রামকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন জনপদে রূপান্তর করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।' সাধারণ ভোটাররা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিকে এত দ্রুত কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। বাঘিল ইউনিয়নের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, 'ভোটের পর অনেক নেতাকে খুঁজে পাওয়া যায় না, কিন্তু টুকু ভাই পরদিনই আমাদের বাজারে এসে আমাদের সাথে কথা বলেছেন, এটা আমাদের জন্য বড় পাওয়া।' দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জানান দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলোতে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় উন্নয়নের এক নতুন জোয়ার আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে বিপুল ভোটে বিজয়ের পর তাৎক্ষণিক নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, আমার প্রত্যেকটি নেতাকর্মীর অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে আমরা বিজয় অর্জন করতে পেরেছি। এই বিজয় টাঙ্গাইল সদরের আপামর জনগণের বিজয়। আপনাদের শ্রমের মূল্য হয়তো দিতে পারব না, তবে আগামী দিনে ইনশাল্লাহ যেকোনো প্রয়োজনে আমাকে পাশে পাবেন।
উল্লেখ্য, এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছাত্রদল ও যুবদলের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায?িত্ব পালন করছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে প্রায় ৩৫০টি মামলার মুখোমুখি হতে হয় এবং ১২ দফা কারাভোগ করেন। এ সময় তিনি মোট প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে ছিলেন এবং টানা ৪৬ দিন রিমান্ডেও থাকতে হয়েছে তাকে।