টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ইসরাত জাহান কর্তৃক নিরীহ ব্যবসায়ীদের মিথ্য মামলা দিয়ে হয়রানি ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন লাল মিয়া নামে এক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী। সোমবার সকাল এগারোটার দিকে মির্জাপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তিনি এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, লাল মিয়ার স্ত্রী মরিয়ম বেগম, মামলার স্বাক্ষী আলহাজ উদ্দিন, সবজি ব্যবসায়ী শামছুল হোসেন ও গোলাম মোস্তফা।সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের হাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা লাল মিয়া জানান, তিনি গোড়াই কাঁচাবাজারে মুদি দোকান করেন। স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ইসরাত জাহান প্রায়ই কাঁচা বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের লাইসেন্সসহ বিভিন্ন কাগজপত্র দেখার অজুহাতে তিনিসহ ব্যবসায়ীদের কাছে টাকা দাবি করেন। চাহিদামত টাকা দিতে না পারলে মামলার ভয়ভীতি দেখান। গত কয়েক মাস পূর্বে লাল মিয়ার দোকানে গিয়ে তিনি লাইসেন্স দেখতে চান। এসময় তিনি তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তার দোকান থেকে অবিক্রিত ডাল সংগ্রহ করে নিয়ে যান এবং তিন লাখ টাকার মামলা করার ভয়ভীতি দেখান। কিছুদিন পরে লাল মিয়া জানতে পারেন তার বিরুদ্ধে ইসরাত জাহান খাদ্য নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন। মামলায় বাজারের ব্যবসায়ী আলহাজ উদ্দিনকে স্বাক্ষী হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
মামলার স্বাক্ষী আলহাজ উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে বলেন, লাল মিয়া কখনো ডাল বিক্রি করেন না। তার দোকানে পিয়াজ আদা রসুনসহ মুনহারি মাল বিক্রি করে থাকেন। বাড়ির গরুর জন্য দোকানে রাখা ডাল ইসরাত জাহান নিয়ে যান। পরে জানতে পারি লাল মিয়ার নামে মামলা করে আমাকে স্বাক্ষী করা হয়েছে। স্বাক্ষী হিসেবে তিনি কোন জায়গায় স্বাক্ষর করেননি বলে জানান। তিনি তাকে মিথ্যা মামলায় স্বাক্ষী করার প্রতিবাদ জানিয়ে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার শাস্তি এবং হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জানান।
স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ইসরাত জাহান বলেন, তার দায়িত্ব দোকান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো। ল্যাবের রিপোর্টের উপরে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অভিযুক্ত হওয়া দুঃখজনক। ব্যবসায়ী লাল মিয়ার সাথে আমার কোন পূর্ব শত্রুতা নেই। আমি আইনি পদক্ষেপ দিয়েছি। ব্যবসায়ীদের নিকট টাকা দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগ থেকে বাঁচতে তারা এসব কথা বলছে।