জামালপুরের বকশিগঞ্জে ভারতীয় সীমান্তবর্তী প্রকৃতির অপরূপ নয়নাভিরাম দৃশ্যে শোভিত লাওচাপড়াকে আন্তর্জাতিকমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। একই সঙ্গে জেলার অন্যান্য পর্যটন স্পটকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন ও দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে সংবর্ধনা দিয়েছে জামালপুর সমিতি, ঢাকা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জামালপুরের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জামালপুর সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, “শুধু দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ নয়, গোটা জামালপুর আমার। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সংগ্রাম ও পথচলায় আমি জামালপুরবাসীকে পাশে পেয়েছি। এজন্য আমি আজীবন আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
তিনি বলেন, জামালপুরবাসীর দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন ছাড়া তাঁর বর্তমান অবস্থানে আসা সম্ভব হতো না। জনগণের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ২০০১ সালে জামালপুরবাসী তাঁকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ আসন থেকে আবারও নির্বাচিত হয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। সরকারি ও সংসদীয় তথ্য অনুযায়ী, এটি তাঁর দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন।
সততা ও ন্যায়নীতির গুরুত্ব তুলে ধরে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “যদি সৎ পথে চলা যায়, সত্য কথা বলা যায়, তবে সর্বশক্তিমান আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়। এর প্রমাণ আমি নিজেই। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি আজ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী।”
বক্তব্যে তিনি জামালপুরের প্রয়াত রাজনীতিক ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁর রাজনৈতিক নেতৃত্ব জামালপুরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
জামালপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জেলার পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে লাওচাপড়াকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঝিনাইগাতীতে পর্যটন হোটেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, পর্যটন স্পটগুলোকে পরিকল্পিতভাবে সাজানো, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে জামালপুরকে দেশের পর্যটন মানচিত্রে আরও দৃশ্যমান করা হবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ জামালপুর ভ্রমণে আগ্রহী হবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বিমান ও পর্যটন খাতে গতি আনা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের কথা জানিয়েছেন।
জামালপুরের অন্যতম প্রধান সমস্যা যমুনা নদীর ভাঙন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নদীভাঙন রোধে একটি প্রকল্প বর্তমানে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) রয়েছে। প্রকল্পটি শিগগির অনুমোদিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যমুনার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং নদীভাঙন থেকে বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, “আসুন, আমরা সবাই মিলে এই দেশটাকে ভালোবেসে দেশের জন্য যার যার অবস্থান থেকে কাজ করি।”
অনুষ্ঠানে জামালপুরের নির্বাচিত সংসদ সদস্যবৃন্দ, জামালপুর সমিতি, ঢাকার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং জামালপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন