টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর ভূঞাপুর) আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আব্দুস সালাম পিন্টু। তিনি গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার ১৩৮টি কেন্দ্রেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছেন।
ওই দুই উপজেলায় আব্দুস সালাম পিন্টু পেয়েছেন ১ লাখ ৯৫ হাজার ৫৯০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর মাওলানা হুমায়ুন কবির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৯ হাজার ৮৭৩ ভোট।
এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মনোয়ার হোসেন সাগর পেয়েছেন ৪ হাজার ৭০৫ ভোট ও জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের হুমায়ুন তালুকদার পেয়েছেন ১ হাজার ৭৬৮ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭১৭ ভোট পেয়েছেন আব্দুস সালাম পিন্টু। বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে এ ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও রির্টানিং অফিসার শরীফা হক।
ফলাফলে দেখা গেছে, গোপালপুর উপজেলার ৭৭ টি ও ভূঞাপুর উপজেলার ৬১ টি কেন্দ্রের মধ্যে সবকটিতেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির আব্দুস সালাম পিন্টু। গোপালপুরের ৭৭ টি কেন্দ্রে আব্দুস সালাম পিন্টু ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৪১১ টি। আর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা হুমায়ুন কবির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ২৯ হাজার ১৭৯ টি।
এদিকে ভূঞাপুরের ৬১ টি কেন্দ্রে আব্দুস সালাম পিন্টু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ১৭৯ ভোট। আর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা হুমায়ুন কবির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৩০ হাজার ৬৯৪ ভোট।
আব্দুস সালাম পিন্টু টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসন থেকে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের এমপি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে তিনি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর থেকে ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত তিনি কারাভোগ করেন।
জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১শে অগাস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার ঘটনায় ঢাকার একটি বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। তাদের মধ্যে আব্দুস সালাম পিন্টুও ছিলেন।
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ওই মামলার আসামীরা আপিল করেন। ২১ নভেম্বর এ মামলায় খালাস চেয়ে করা আসামির আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষ হয়। ২ ডিসেম্বর আপিলের রায় দেন হাইকোর্ট। এই রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, আব্দুস সালাম পিন্টুসহ সব আসামি খালাস পান।
বিজয়ের পর নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে আব্দুস সালাম পিন্টু বলেন, আপনারা কোনো উশৃংখলা করবেন না। বিজয় মিছিল করবেন না। আমরা সবাই সবার সাথে মিলেমিশে থাকবো। কেউ কোন অন্যায়, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির সাথে জড়িত হবেন না। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা জানিয়ে সবসময় গোপালপুর-ভূঞাপুরের সাধারণ মানুষের পাশে থাকার কথা জানান তিনি।
উল্লেখ্য টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে আব্দুস সালাম পিন্টুর ছোট ভাই সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।