টাঙ্গাইল মধুপুরে রাসায়নিক নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য মধুপুরে “পিজি-ট্রাইকোডার্মা” নামক নবউদ্ভাবিত জৈববালাই নাশক বিষয়ক কৃষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৮মে) মধুপুরের মহিষমারা কলেজে দিনব্যাপি এ কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার (বাউরিক)।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় চীপ কো-অর্ডিনেটর প্রফেসার ড. মো: আব্দুল আওয়াল।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যান্ট প্যাথলজি বিভাগের প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল। যিনি ২২ বছর গবেষণা করে প্রথমবারের মতো পরিবেশবান্ধব জৈববালাইনাশক উদ্ভাবন করেছেন।
মোহাম্মদ শাহজাহান মঞ্জিল বলেন, ‘ট্রাইকোডার্মা এসপেলোম সমৃদ্ধ অণুজীব হলো ‘প্ল্যান্ট গার্ডার ট্রাইকোডার্মা’। এটি শতভাগ নিরাপদ পরিবেশবান্ধব জৈব ছত্রাকনাশক ও বায়ো-ফার্টিলাইজার। এর কোন প্রকার নেতিবাচক প্রভাব নেই। এটি গাছের ঢলে পড়া, শিকড় পঁচা, গোড়া পঁচা, কান্ড পঁচা, পাতা ঝলসানো ও পাতার দাগ রোগ প্রতিরোধ ও দমন করে ফলন বাড়াতে কার্যকরি ভূমিকা রাখে। এটি মানবদেহেরও কোন ক্ষতি করেনা। মূলত ক্ষতিকর ছত্রাক ও নেমাটেড (কৃমি) ধ্বংসকারি এই অণুজীব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে ক্ষতিকর অণুজীবগুলো তাড়িয়ে দেয় বা ধ্বংস করে। পিজি-ট্রাইকোডার্মা মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়ন, রোগ দমন এবং ফলন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ব্যবহার বাড়লে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। মাটির উর্বরতা বাড়ায় ফলন ৩০ ভাগের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-প্রধান গবেষক ও অধ্যাপক প্রফেসর ড. কে. এম. মহিউদ্দিন, মহিষমারা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও এআইপি পদকপ্রাপ্ত কৃষক মো: ছানোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রফেসর ড. মো. আলী আশরাফ, কৃষিবিদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মহিষমারা কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রাজ্জাক প্রমূখ।
কর্মশালায় স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থী ও কৃষি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।