সাইফুল ইসলাম সানি
্ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের সংকট হতে পারে —এমন শঙ্কায় টাঙ্গাইলের সখীপুরে পাম্পগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। শুক্রবার সকাল থেকেই এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে জ্বালানি তেল পাম্পের পরিচালকেরা বলছেন, গত দুই-তিন ধরেই ক্রেতাদের উপস্থিতি দুই থেকে তিনগুণ বেড়েছে। আগে যে পরিমাণ তেল তিন-চার দিনে বিক্রি হতো, এখন একদিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি তেলের সংকট বা দাম বাড়তে পারে— এমন আশঙ্কা থেকে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানান তাঁরা।
সখীপুর ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত তেলের দাম বাড়ানো বা সরবরাহ কমার বিষয়ে কোনও নির্দেশনা নেই। গুজব বা দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল নিচ্ছেন। ফলে পাম্পগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে চাপ বেড়েছে। ইতোমধ্যে গ্রামীণ বাজারগুলো থেকে জ্বালানি তেল উধাও হয়ে গেছে। কেউ কেউ ডিজেলের জন্যে বড় ড্রাম নিয়ে পাম্পে ভিড় করছেন। তবে আমরা ড্রামে করে তেল দেওয়া বন্ধ রেখেছি। সময় যতো যাচ্ছে অযথা এই বাড়তি চাপ সামলানো ততোই কঠিন হচ্ছে। অন্যদিকে টাঙ্গাইল জেলা শহরের জ্বালানি তেলের পাম্পগুলোতেও গতরাত থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
মেসার্স সখীপুর ফিলিং স্টেশনের বিক্রয়কর্মী ফরহাদ হোসেন বলেন, সব সময় মানুষ গাড়িতে যতটুকু তেল প্রয়োজন ততটুকুই নেয়। কিন্তু গত দুইদিন ধরে অনেকেই গাড়ির ট্যাংকি পূর্ণ করে তেল নিচ্ছেন। এতে আগের তুলনায় দ্রুত পাম্পের তেলের মজুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে।
পেট্রোল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক মোরশেদ খান বলেন, শুনেছি ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে হুট করে সংকট শুরু হতে পারে, দামও বেড়ে যেতে পারে এমন শঙ্কার কথা চিন্তা করেই ট্যাংকি পূর্ণ করে তেল নিয়ে রাখলাম। আপাতত এক সপ্তাহ চিন্তামুক্ত থাকা যাবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টাঙ্গাইল ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, আমাদের জানামতে দেশে এখনও তেলের কোনো সংকট তৈরি হয়নি। তবে ব্যক্তিগতভাবে অবৈধ মজুদের উদ্দেশ্যে হুজুগে কেউ কেউ পাম্পে ভিড় করছেন। এভাবে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি করে তেল কিনে নিয়ে গেলে অযথা সংকট তৈরি হবে। এ বিষয়ে ক্রেতাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকেই সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।