ঢাকা | 26 August 2026

হাদিসের আলোকে সার মজুতকারীকে ক্ষমা করলেন কৃষি অফিসার!

স্টাফ রিপোর্টার, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Aug 26, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: ছবির ক্যাপশন:
ad728
চলতি মাসের মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের বারিন্দা বাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে সার মজুতের সংবাদ পেয়েও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর গোডাউনে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কারণে তা জব্দ না করেই কর্মকর্তারা ফিরে আসেন।

পরবর্তীতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক আজিজ নিয়মিত মামলা করার নির্দেশনা দিয়ে থাকলেও তাঁকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্যে ঘটনাটিতে নতুন মোড় ও নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের বারিন্দা বাজারের অসাধু ব্যবসায়ী কোহিনূর মিয়া নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি ও কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে তাঁর গোডাউনে বিপুল পরিমাণ সার অবৈধভাবে মজুত করেন এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তারেক আজিজ। অভিযানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তবে অভিযানের বিষয়টি আগেই টের পেয়ে কোহিনূর মিয়া গোডাউনে তালা ঝুলিয়ে সটকে পড়েন। অথচ ভ্রাম্যমাণ আদালত পৌঁছানোর কিছুক্ষণ আগেই উপজেলা কৃষি অফিসের দুই কৃষি কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা ওই গোডাউনে শতাধিক বস্তা সার মজুত দেখতে পেয়েছিলেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালাবদ্ধ গোডাউন দেখে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা না করেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

হাতেনাতে প্রমাণের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সার জব্দ না করে কর্মকর্তাদের ফিরে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকেরা।

সার মজুতকারী কোহিনূর মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়ে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

অভিযান শেষ না করে ফিরে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক তারেক আজিজ বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

লাইসেন্সধারী ডিলার না হওয়া সত্ত্বেও উক্ত ব্যবসায়ীকে কীভাবে ছাড় দেওয়া হলো এমন প্রশ্নের জবাবে কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন জানান, তাৎক্ষণিকভাবে তালা না ভেঙে ফিরে আসা হলেও পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থার কথা ভাবা হয়েছিল। তবে "হাদিসের আলোকে ক্ষমা মহৎ গুণ" এই বিবেচনায় অভিযুক্তকে প্রথমবারের মতো ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা জানেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথে কথা বলেই তাকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জহিরুল আলম বলেন, এ উপজেলাতে নতুন যোগদান করেছি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ