ঢাকা | 17 August 2026

ডিএফও'কে মন্ত্রীর ফোন: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ট্রান্সফার করবেন

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি, .
নিউজ প্রকাশের তারিখ :Aug 17, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: সখীিপুর উপজেলার হলুদিয়া চালা বাজারে গিয়ে রোববার (১৬ আগস্ট) জনসন্মুখে মোবাইল ফোনের লাউড স্পিকারে ডিএফও নাজমুল আলমের সঙ্গে কথা বলছেন মুক্তিযুদ্ব বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। ছবির ক্যাপশন: সখীিপুর উপজেলার হলুদিয়া চালা বাজারে গিয়ে রোববার (১৬ আগস্ট) জনসন্মুখে মোবাইল ফোনের লাউড স্পিকারে ডিএফও নাজমুল আলমের সঙ্গে কথা বলছেন মুক্তিযুদ্ব বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান।
ad728
টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে (ডিএফও) ফোন করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সখীপুর উপজেলার বহেড়াতৈল রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলীকে ট্রান্সফার (অপসারণ) করতে বলেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। আজ রোববার দুপুরে উপজেলার হলুদিয়া চালা বাজারে গিয়ে জনসম্মুখে মোবাইল ফোনের লাউড স্পিকারে তিনি ডিএফও নাজমুল আলমকে এ কথা বলেন। 

এ আগে উপস্থিত জনতাকে মন্ত্রী বলেন, আমি বনবিভাগকে দালালমুক্ত করব। বন বিভাগের যেসব কর্মকর্তারা ঘুষ খাবে এবং ঘুষ না পেলেই মানুষের নামে মামলা করবে তাদেরকে দেখব। ক্ষুব্ধ হয়ে মন্ত্রী বলেন, ওরে (রেঞ্জ কর্মকর্তা) সবার আগে মামলায় ঝুলাবো ঘুষখোর! 

মোবাইল ফোনে টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মদ নাজমুল আলমকে মন্ত্রী বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলের সখীপুরের হলুদিয়া চালায় একটি টিনের দোকান ছিল। এখানে আপনার রেঞ্জার এমরান দালালদের সমন্বয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নিয়ে একটি ঘর দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। হয়তো তাঁরা এখানে আগের চেয়ে একটু বড় করে ঘর দিয়েছিল। সেখানে আপনার রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান টাকা বেশি পায় নাই অথবা নিজের গা বাঁচাতে গরিব মানুষের সেই ঘর ভেঙে দিয়েছে। কাজেই সবার আগে আপনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই এমরানকে এখান থেকে ট্রান্সফার করবেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করবেন এটা আপনার কাছে আমার অনুরোধ রইলো। 
এ সময় তিনি আরও বলেন, আমি যতদিন এমপি আছি, আমার এলাকার মানুষকে আমি হয়রানি করতে দেবনা। আমি এই আটিয়া বন আইনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছি। এলাকার মানুষ আশায় বুক বেঁধে আমাকে ভোট দিয়েছে। অতএব কাউকে আমি হয়রানির শিকার হতে দেবনা। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত এই আইন বিলুপ্ত করতে না পারি, ততোক্ষণ পর্যন্ত তাঁরা পুরোনো ঘর ভেঙ্গে নতুন ঘর দিতে পারবে, বাধা দেওয়া যাবেনা। 

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আরও বলেন, টাকা দিলে ঘর দিতে দেয়, বিল্ডিংও দিতে দেয়। টাকা না দিলে সঙ্গে সঙ্গে মামলা দিয়ে দেয়। আপনি ২৪ ঘন্টার মধ্যে ওই কর্মকর্তাকে এখান থেকে তুলে নেবেন এবং একজন ভালো মানুষকে এখানে দায়িত্ব দেবেন। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা এমরান আলী বলেন, আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করেছি। ওই ঘর ভাঙ্গার অভিযানে টাঙ্গাইলের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব নেতৃত্বে দিয়েছেন। আমরা শুধু সহযোগিতা করেছি। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থ নেই। আমি যেখানেই যাবো বন রক্ষার কাজ করবো। এ ছাড়া আমার বিরুদ্ধে যে ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। 

উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট ভোরে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হলুদিয়া চালা বাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের তৈরি ৬০ হাত দৈর্ঘ্যের একটি টিনের ঘর ভেঙে দেয় বন বিভাগ। স্থানীয়রা দাবি করেন- ঘরের জমি '৬২ সনের আরওআর রেকর্ডভুক্ত এবং রেজিস্ট্রি দলিলমূলে মালিকানা প্রাপ্ত। অন্যদিকে বন বিভাগ দাবি করে- ওই জমি সংরক্ষিত বন বিভাগের। মূলত আটিয়া বন-৮২ অধ্যাদেশের কারণে বিরোধপূর্ণ এসব জমি নিয়ে এমন পাল্টাপাল্টি দাবি দীর্ঘদিনের। 



কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ