শেরপুর সদর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের চার গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা স্থানীয় দশানী নদীর উপর ব্রিজসহ পাকা রাস্তা নির্মাণ এবং বিভিন্ন উন্নয়নের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে।
১৯ এপ্রিল রোববার দুপুরে শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের কামারের চর বাজার হতে ৪ নং চর পর্যন্ত বন্যামুক্ত উঁচু পাকা রাস্তা নির্মাণ, দশআনী নদীর উপর পাকা ব্রিজ নির্মাণ, গোয়ালপাড়া মোড় থেকে ৬ নং চর তিন নদীর মোহনা হয়ে ভাটিপাড়া খেয়াঘাট পর্যন্ত বন্যামুক্ত পাকা রাস্তা নির্মাণ, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণসহ ৬ নং চর, গোয়ালপাড়া ও পয়াস্তিরচরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবীতে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
দশানী নদীর পাড় থেকে কামারেরচর বাজার অভিমুখী সড়কের প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার শিশু ও অশিতিপর বৃদ্ধ এবং চরাঞ্চলের একমাত্র বাহন দুই শতাধিক ঘোড়ার গাড়ি অংশ নেয়। এ সময় তারা পোস্টার, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন, ব্যানারে চরাঞ্চলের বিভিন্ন দুর্ভোগ চিত্র ও উন্নয়ন দাবি তুলে ধরেন এবং ব্রিজ ও রাস্তাঘাটসহ নানা উন্নয়নের দাবিতে স্লোগান দেন।
মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে স্থানীয় নেতৃবৃন্দরা শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমানের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।কামারেরচর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নওয়াব আলীর সভাপতিত্বে দশানি নদীর পাড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রভাষক এ. কে. এম শরীফুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ, জনতা ব্যাংক কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান কামাল, ঢাকা গণপূর্ত প্রকল্প সার্কেল-১ এর এর সহকারী প্রকৌশলী মো. সাফায়েত জামিল, প্রভাষক মো. শাহরিয়ার জামিল, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এর সেকশন অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, প্রভাষক শফিউল আলম, সার্জেন্ট (অব) মো. জহুরুল হক, এএসআই মো. আল আমিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বৃহত্তর চলাঞ্চলের মানুষ অবহেলিত হয়ে আসছে। বর্ষায় প্রায় ছয় মাস এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানির নীচে নিমজ্জিত থাকে। বাকি ৬ মাস ব্রিজ ও পাকা রাস্তা না থাকায় এ অঞ্চলের মানুষের কর্মক্ষেত্র ও স্কুল-কলেজে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পহাতে হয়। সেই সাথে এই অঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য শহরের বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। শুধু তাই নয় পণ্য পরিবহণ ব্যয় অনেকাংশে বেড়ে যায়। ফলে কৃষক তাঁর পণ্যের উৎপাদন খরচ উঠাতে হিমসিম খান।
বক্তারা আরো বলেন, চরাঞ্চলের চার গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষসহ এই সড়কে পার্শ্ববর্তী জামালপুর জেলার ইসলামপুর ও মেলান্দহ উপজেলার আংশিক কয়েকটি গ্রামের আরো প্রায় বিশ হাজার মানুষ এইসব পথে চলাচল করে। ফলে এই সড়ক পাকা করণ এবং ব্রীজ নির্মাণ অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুত এই সড়ক ও ব্রীজ নির্মাণের জোর দাবি জানান। অন্যথায় তারা পরবর্তীতে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দেন।