ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বুধবার (৬ মে/২৬) বিকেলে ভারী বর্ষণে আবারও বেড়েছে কৃষকের দুর্ভোগ। রামগোপালপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর, নওয়াগাঁও, পৌর শহরের সতিষা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পানির নিচে আধাপাকা ধানে পচন ধরেছে। পাকাধান কেটেও বিপাকে কৃষক। এসব ধানে চারা গজিয়ে নষ্ট হচ্ছে। এছাড়াও উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের কেইলা বিলে পানি সরছে না। ফলে হাজারো কৃষকের ধান পচে নষ্ট হচ্ছে। ডৌহাখলা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা রতন চন্দ্র সরকার জানান, অধিকাংশ খাল ভরাট হয়ে যাওয়া ও অপরিকল্পিত পুকুর খননের কারণে সব বিলে পানি আটকে আছে। পানি নিষ্কাষণের খালভার্ট ও ব্রিজও ভরাট হয়ে গেছে। ভাংনামারী ইউনিয়নের নাপ্তেরআলগীর কৃষক মজিবুর রহমান জানান, ব্রহ্মপুত্র এখন শুকনা। পায়ে হেঁটে যাওয়া যায়। ব্রহ্মপুত্র নদের সাথে সংযোগ খালগুলো ভরাট হওয়ায় অধিকাংশ ফসল নষ্ট হচ্ছে। উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের পাগলা বিলে কৃষকের ধান পানির নিচে পচে যাচ্ছে। কৃষক আব্দুল গনি, মজিবুর রহমান, সুমন মিয়া জানান, তাদের জমির উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সোনালী ধান এখন পানির নিচে দুলছে।
এদিকে বুধবার উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফার ইয়াসমিন জলি যুগান্তরকে জানান, ঝড়ো আবহাওয়া ও অতিবৃষ্টি ৫হাজার ১শ কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এরমধ্যে বোরো আক্রান্ত ফসলি জমি ৫৫০ হেক্টর, সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হয়ে গেছে ১৮০ হেক্টরের, আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ বোরো ধান ৩৭০ হেক্টর। এতে ৩হাজার ৮৫০জন কৃষকের ৬ কোটি ৪১লাখ ৬৫হাজার টাকার ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়াও ৫০ হেক্টর জমির শাকসবজি অতিবৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৩০ হেক্টর জমির শাকসবিজ পুরোপুরিভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ২০ হেক্টর জমির ফসল। এতে ১হাজার ২৫০জন কৃষাণ-কৃষাণীর ১ কোটি ৬১ লাখ ৫০হাজার টাকার মৌসুমী শাকসবজি বিনষ্ট হয়েছে। এ উপজেলায় ধান নষ্ট হয়ে গেছে ১হাজার ৩০৯ মেট্টিক টন ও শাকসবজি ৬৪৬ মেট্টিকটন।###
মো. রইছ উদ্দিন